ফেলে দেয়া কলার খোসায় বাজিমাত

ফেলে দেয়া কলার খোসায় বাজিমাত

লাইফস্টাইল ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৭ ১৩ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:২৮ ১৩ জানুয়ারি ২০২১

কলার খোসা

কলার খোসা

কলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কমবেশি সবারই জানা আছে। উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম বিদ্যমান থাকায় দেশিয় আর সস্তা এই ফলটি পুষ্টিকর খাবার। কলার পটাশিয়াম এমনকি কিডনি ভালো রাখে। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে। মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতির সঙ্গে ত্বকও ভালো রাখে। 

তবে কলার খোসারও কিছু গুণের অভাব নেই। খাওয়ার পাশাপাশি ব্যবহার করা যায় নানা ভাবে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এর জুড়ি মেলা ভার। কলার খোসাকে আপনি নানা কাজে ব্যবহার করতে পারেন। চলুন এর অজানা কিছু ব্যবহার সম্পর্কে-

রুপার গয়না চকচকে করতে 
অনেকদিন ধরে রুপার গয়না বা বাসনপত্র পরে থাকলে বা ফেলে রাখতে রাখতে কালো হয়ে যায়। ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ফেলে। তখন আর সেই জিনিসটা পরতে ভালো লাগে না। তবে রুপার জিনিসকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে কলার খোসা। কলার খোসার একটা পেস্ট বানান। তারপর আধা কাপ পানিতে মিশিয়ে পেস্টটা পাতলা করে নিন। কয়েক মিনিট এই পেস্টটা দিয়ে রুপার গয়না ভালো করে ঘষলেই চকচকে হয়ে যায়!

গার্ডেনিং 
খুব ভালো সার হিসেবে কাজ করে কলার খোসা। কলার খোসা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। সেগুলো মাটির নিচে পুঁতে দিন। খোসা থেকে মিথেন গ্যাস তৈরি হয়, যা গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। গাছের আশপাশে কলার খোসা লাগিয়ে রাখুন। খোসা থেকে মাটি তৈরি হবে, যে মাটিতে থাকবে পরিপোষক পদার্থ। কলার খোসা সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখুন। প্রতিদিন গাছে পানি দেয়ার সময় সাধারণ পানির সঙ্গে কলার খোসা ভেজানো পানিও দিন। এছাড়াও গাছের পাতায় পোকা দূর করতে সহায়তা করে কলার খোসা। 

জুতা পালিশ করতে 
জুতা পালিশ করতেও দারুণ কাজে আসে কলার খোসা। এক টুকরো কলার খোসা নিয়ে চামড়ার জুতার ওপর ভালো করে ঘষুন। দেখবেন চামড়ার যেকোনো জিনিস জেল্লা দিচ্ছে।

ছারপোকা দূর করে
অনেক বাড়িতেই ছারপোকার উপদ্রব থাকে। একটা ঢাকনাযুক্ত প্লাস্টিকের বাকেট নিন। কলার খোসার মধ্যে কয়েকটা ছিদ্র করে দিন। তারপর রেখে দিন বাকেটের মধ্যে। খোসার মিষ্টি গন্ধে ছারপোকা আসবে। ছারপোকার কামড়ে ফুলে যায়, র‌্যাশ বের হয় স্কিনে। কলার খোসা নিয়ে যেখানে ছারপোকা কামড়েছে, সেই জায়গায় ঘষুন। এতে চুলকানি বন্ধ হবে। 

ফার্স্ট এইড 
কলার খোসায় থাকে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। যা যেকোনও র‌্যাশ, মাইগ্রেনের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। একটা কলার খোসা এক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিন। তারপর বের করে কপাল এবং ঘাড়ে রাখুন। যতক্ষণ না ঠাণ্ডা ভাব যাচ্ছে রেখে দিন। 

মাংস নরম করে 
কলার খোসা চিকেন রোস্ট বানানোর সময় এক টুকরো পাকা কলার খোসা দিয়ে দিন। আধা ঘণ্টা ম্যারিনেট করে রাখতে হবে। দেখবেন মাংস দারুণ নরম হয়ে গিয়েছে। 

কলার খোসার আচার খেতে পারেন 
কলার খোসা সিদ্ধ করে নিন। ১০ মিনিটের মতো সিদ্ধ করে জুসারে দিন। কলার খোসার জুস বানিয়ে খেলে দারুণ উপকার হবে। এর সঙ্গে স্ট্রবেরি বা কলাও মেশাতে পারেন। কলার খোসায় থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। চায়ে কলার খোসা দিয়ে ফুটিয়ে নিতে পারেন। কলার খোসার দারুণ চাটনি হয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/কেএসকে