অরিত্রীর আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা: দুই শিক্ষিকার সাক্ষ্যগ্রহণ 

অরিত্রীর আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা: দুই শিক্ষিকার সাক্ষ্যগ্রহণ 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩৮ ১৭ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৮:৪২ ১৭ জানুয়ারি ২০২২

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় দুই শিক্ষিকার সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন।

দুই সাক্ষী হলেন- প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষিকা লুৎফুর নাহার করিম ও শিক্ষিকা আফসানা আমাতু রাব্বি।

সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সাবিনা আক্তার দিবা বিষয়টি জানিয়েছেন।

এদিন আসামি জামিনে থাকা দুই আসামি আদালতে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতিতে দুই শিক্ষিকার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এরপর আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৩০ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। 

এ মামলার আসামি হলেন- ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখা প্রধান জিনাত আক্তার। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় তার বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে মামলা করেন। এরপর ২০১৯ সালের ২০ মার্চ এ দুই শিক্ষককে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার। 

আসামিদের নির্দয় ব্যবহার ও অশিক্ষকসুলভ আচরণে অরিত্রী অধিকারী আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শ্রেণিশিক্ষিক হাসনা হেনাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। ২০১৯ সালের ১০ জুলাই এ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর এ মামলার বাদী ও অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহন শুরু হয়। এরপরে চলতি বছরের ২৩ আগস্ট অরিত্রী মা বিউটি অধিকারী আদালতে সাক্ষ্য দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর পরীক্ষা চলাকালে অরিত্রীর কাছে মোবাইল ফোন পান শিক্ষক। মোবাইল ফোনে নকল করেছে- এমন অভিযোগে অরিত্রীর মা-বাবাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়।

দিলীপ অধিকারী তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গেলে ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের অপমান করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে তিনিও একই রকম আচরণ করেন। এ সময় অরিত্রী দ্রুত অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে শান্তিনগরে বাসায় গিয়ে তিনি দেখেন, অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ