পল্লবীতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা: তাহের দুইদিনের রিমান্ডে

পল্লবীতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা: তাহের দুইদিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫৯ ১ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৫:৪০ ২ অক্টোবর ২০২১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে সন্তানের সামনে কুপিয়ে সাহিনউদ্দিনকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার আসামি মোহাম্মদ তাহেরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. সেলিম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন আসামি মোহাম্মদ তাহেরকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার হোসেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড় এলাকা থেকে তাহেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ১৬ মে সাহিন উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের পর ওই রাতেই নিহতের মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে পল্লবী থানায় সাবেক এমপি আউয়ালসহ ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলাটি ডিবি পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল। অন্য আসামিরা হলেন- ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সুমন, মো. আবু তাহের, মুরাদ, মানিক, মনির, শফিক, টিটু, কামরুল, কিবরিয়া, দিপু, আবদুর রাজ্জাক, মরন আলী, লিটন, আবুল, বাইট্যা বাবু, বড় শফিক, কালু ওরফে কালা বাবু, নাটা সুমন ও ইয়াবা বাবু। আসামিরা সবাই পল্লবী থানা এলাকার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ১৪ জন গ্রেফতার ও ছয় জন পলাতক আছেন।

আসামিদের মধ্যে মো. রকি তালুকদার, মুরাদ নুর, মোহাম্মদ হাসানের, সুমন বেপারি, শরীফ ও ইকবাল আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার এজাহারে আকলিমা বেগম বলেন, গত ১৬ মে বিকেল ৪টিকে সুমন ও টিটু নামের দুই যুবক সাহিনুদ্দিনকে জমির বিরোধ মেটানো হবে জানিয়ে ফোন করে ডেকে নেন। সাহিন উদ্দিন মোটরসাইকেলে পল্লবীর ডি-ব্লকের ৩১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাসার সামনে গেলে সুমন ও টিটুসহ ১৪-১৫ জন মিলে তাকে টেনেহিঁচড়ে ওই বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে যায়। এ সময় সাহিন উদ্দিনের ছয় বছরের ছেলে মাশরাফি গেটের বাইরে ছিল। গ্যারেজে ঢুকিয়ে তাকে সন্ত্রাসীরা চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এরপর তাঁকে ওই গ্যারেজ থেকে বের করে ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে আবার কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের মায়ের অভিযোগ, পল্লবীর সেকশন-১২ বুড়িরটেকের আলীনগর আবাসিক এলাকার হ্যাভেলি প্রপার্টিজ ডেভেলপার লিমিটেডের এমডি এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এম এ আউয়ালের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাড়া করা স্থানীয় সন্ত্রাসীরা সাহিনুদ্দিনকে হত্যা করেছে। আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি জবরদখলে বাধা দেওয়ায় তাকে খুন করা হয়েছে। নিহত সাহিন উদ্দিনের বাসা পল্লবীর ডি-ব্লকে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মে বন্দুকযুদ্ধে এ মামলার আসামি মনির নিহত হয়েছে। আড়াইটার দিকে পল্লবীর সাগুফতা হাউজিং এলাকায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি টিমের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়। এর আগে, গত ২০ মে দিবাগত রাতে পল্লবীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় একই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মানিক র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ