২ হাজার কোটি টাকা পাচার: বরকত-রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট 

২ হাজার কোটি টাকা পাচার: বরকত-রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০৪ ৩ মার্চ ২০২১   আপডেট: ২৩:১১ ৩ মার্চ ২০২১

সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেল

সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেল

দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুরের আলোচিত সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছেন পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস আদালতে এ অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। 

গত বছরের ২৬ জুন অবৈধ উপায়ে দুই হাজার কোটি টাকা আয় ও পাচারের অভিযোগে বরকত ও তার ভাই রুবেলকে প্রধান আসামি করে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলাটি দায়ের করে সিআইডি। ২০১২ সালের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন সংশোধনী–২০১৫–এর ৪ (২) ধারায় এ মামলা করা হয়। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন সাজ্জাদ ও ইমতিয়াজ। এছাড়া মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ করেছেন তারা। এসি, নন-এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার, পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন। টাকার উল্লেখযোগ্য অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন তারা। প্রথম জীবনে এই দুই ভাই রাজবাড়ী রাস্তার মোড়ে এক বিএনপি নেতার ফাইফরমাশ খাটতেন। তখন তাদের সম্পদ বলতে তেমন কিছুই ছিল না।

এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ১৮ জুন তিনি (এস এম মিরাজ) এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়ে তদন্ত শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই দুই ভাই অন্তত দুই হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন করেছেন। 

গত বছরের ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। সুবল সাহার বাড়ি শহরের গোয়ালচামট মহল্লার মোল্লা বাড়ি সড়কে। এ ঘটনায় গত বছরের ১৮ মে সুবল সাহা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন।

গত বছরের ৭ জুন রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলার মামলার আসামি হিসেবে শহরের বদরপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ সাজ্জাদ হোসেন, তার ভাই ইমতিয়াজ হাসানসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে।

এরপর এ অর্থ পাচারের মামলায় আদালতের মাধ্যমে রুবেল ও বরকতকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। ওই সময় এর সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম প্রকাশ করেন তারা। রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তি ও তথ্যানুযায়ী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে এ মামলায় শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী ও জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বরকত ও তার ভাই রুবেলের ৪৮৭ টি তফসিলে পাঁচ হাজার ৭০৬ বিঘা সম্পত্তি জব্দের আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে ১৮৮ ব্যাংক হিসাবের পৌনে ১০ কোটি টাকা এবং বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারসহ ৫৫ টি গাড়ি জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়।

গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় বরকত ও তার ভাই রুবেলসহ পাঁচজনের ৮৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়া অন্য তিনজন হলেন- বরকতের স্ত্রী আফরোজ আক্তার পারভীন, রুবেলের স্ত্রী সোহেলী ইমরোজ পুনম ও আব্দুস সাদেক মুকুল।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ/এমআর