মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সাকিবসহ কারাগারে ৫ 

৯০ ভরি সোনা ছিনতাইয়ের অভিযোগ 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সাকিবসহ কারাগারে ৫ 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫০ ২৩ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:৫২ ২৩ জানুয়ারি ২০২১

সাকিব হোসেন ও তার ব্যবহৃত গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

সাকিব হোসেন ও তার ব্যবহৃত গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে এক ব্যবসায়ীর ৯০ ভরি সোনা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক এস এম সাকিব হোসেনসহ পাঁচজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাসের আদালত কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- সিপাহি আমিনুল, এমদাদুল, আলমগীর ও সোর্স হারুন। 

এর আগে রিমান্ড শেষে পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক রুবেল মল্লিক  মামলার অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

অন্যদিকে আসামি সাকিবের পক্ষে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামি সাকিবসহ পাঁচ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

এদিকে গত ২০ জানুয়ারি আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় কোতোয়ালি থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি এমদাদুল ও আলমগীরকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অপর আসামি ইব্রাহিম শিকদার স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় রেকর্ড করার আবেদন করে করেন। এরপর আদালত আসামি ইব্রাহিমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

অন্যদিকে দুই আসামি এমদাদুল ও আলমগীরের পক্ষে তাদের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে একই মামলায় গত ১৯ জানুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক এসএম সাকিব হোসেন, সোর্স হারুন ও সিপাহি আমিনুলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তার আগে গত ১৮ জানুয়ারি জীপন পাল ও রতন কুমার দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।

এদিকে ৯০ ভরি সোনা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে গত ১২ জানুয়ারি পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার লেনের এক সোনা ব্যবসায়ী কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েক ব্যক্তি বাদীকে তুলে নিয়ে ৯০ ভরি সোনা লুট করে নিয়ে যায়। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়।

এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ প্রথমে ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির দুই কর্মচারীকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সাকিব হোসেনের নাম জানালে সিপাহী আমিনুল ও সোর্স হারুনসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

এ মামলায় গ্রেফতার আটজনের মধ্যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর পাঁচ আসামি বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে রয়েছে।  

জানা গেছে, সহকারী পরিচালক সাকিব হোসেন মুন্সীগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর