সবচেয়ে বেশি চাকরির সুযোগ কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের

সবচেয়ে বেশি চাকরির সুযোগ কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৫ ১১ অক্টোবর ২০২১   আপডেট: ১৫:৫৬ ১১ অক্টোবর ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পশুর ডাক্তার বা পশু চিকিৎসক। এ জন্য আপনাকে ভর্তি হতে হবে ভেটেরিনারি অনুষদে। এছাড়াও সুযোগ আছে সেমি-ডাক্তার হওয়ার। এ জন্য আপনাকে বেছে নিতে হবে অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি (পশুপালন)। 

এই অনুষদে প্রাণিসম্পদের বৈজ্ঞানিক লালনপালন, প্রজনন, পুষ্টি, প্রক্রিয়াজাতকরণসহ প্রাণিসম্পদের উৎপাদনভিত্তিক বিষয়ে পড়ানো হয়। ভেটেরিনারি পাস করে বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে যোগ দিতে পারেন। একই পরীক্ষায় পশুপালন অনুষদের গ্র্যাজুয়েটদের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, পশু উৎপাদন কর্মকর্তা কিংবা পোল্ট্রি উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে চাকরির সুযোগ আছে। 

এ ছাড়া হতে পারেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। সুযোগ রয়েছে বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় জ্যু অফিসার হিসেবে চাকরি করার। সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটা, সাভারের বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় গো প্রজনন কেন্দ্র ও দুগ্ধখামার, কক্সবাজারের হরিণ প্রজনন কেন্দ্র, সিলেটে ছাগল প্রজনন কেন্দ্র, বাগেরহাটে মহিষ প্রজনন কেন্দ্র, কুমির প্রজনন কেন্দ্র ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে ভেটেরিনারি ও পশুপালন গ্র্যাজুয়েটরা চাকরি করছেন। 

পাশাপাশি এ বিষয় দুটিতে বেসরকারি পর্যায়ে রয়েছে বিশাল চাকরির বাজার। চাকরি করতে পারেন বেসরকারি বিভিন্ন দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামার, বহুমুখী ফার্ম, ব্র্যাক, সিপি বাংলাদেশ, নারিশ, প্যারাগন, কাজী ফার্মসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। সুযোগ আছে দেশি-বিদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানিসহ দেশি-বিদেশি এনজিও ও সংস্থায়। 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব এগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বা কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অধীনে তিনটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি দেয়া হয়। এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বায়ো ইনফরমেটিক্স। এর মধ্যে বায়ো ইনফরমেটিক্স বিভাগ সম্পূর্ণ নতুন। যারা আগামীতে ভর্তি হবে তারা এই ডিগ্রি পাবে।

অধ্যাপক ড. চয়ন কুমার সাহা বলেন, কৃষি প্রকৌশলের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য রয়েছে চাকরির ক্ষেত্রে অবারিত সুযোগ। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখানকার গ্র্যাজুয়েটরা সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন রিসার্চ ইন্সটিটিউডের ফার্ম মেশিনারি, ফুড প্রসেসিং ডিভিশনে এগ্রি-ইঞ্জিনিয়ার, ফুড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছে। পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টর রয়েছে অবারিত সুযোগ। যেমন- এসিআই মটরস, মেটাল এগ্রো লিমিটেড, অটো ক্রপ কেয়ার ইত্যাদি।

তিনি আরো বলেন, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে পড়াশোনা শেষ করে বিভিন্ন ফুড ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি করেছে অনেকে। এগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গ্র্যাজুয়েটরা ফুড মিলগুলোতেও চাকরি করতে পারে। বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আওতায় কৃষি প্রকৌশলীদের জন্য পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এখানে ২১৪ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে, পিএসসিতে অনুমোদনের অপেক্ষা। পাবলিক সার্ভিস কমিশন এই সেক্টরে নিয়োগ দেবে। কৃষি প্রকৌশলিদের আরেকটি বড় সেক্টর হচ্ছে বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (বিএডিসি)। এছাড়াও বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস ডেভেলপমেন্ট (বিএমডি) এজেন্সি, রোরাল ডেভেলপমেন্ট একাডেমি, পল্লী বিদ্যুৎ। তবে সবচেয়ে বড় সেক্টর হলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অধীনে কৃষি প্রকৌশলীরা বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম