এক ইঁদুর বাঁচিয়েছিল হাজারো মানুষের প্রাণ, ৮ বছর বয়সে তারই মৃত্যু

এক ইঁদুর বাঁচিয়েছিল হাজারো মানুষের প্রাণ, ৮ বছর বয়সে তারই মৃত্যু

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:২৭ ১৩ জানুয়ারি ২০২২  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একটি টেনিস কোর্টের সমান এলাকায় স্থলমাইন শনাক্ত করতে যেখানে মানুষের চার ঘণ্টার মতো সময় লাগে; সেখানে ‘মাগাওয়া’-র লাগতো মাত্র ২০ মিনিট! হাজারো মানুষের প্রাণ বাঁচানো এই ল্যান্ডমাইন-খোঁজা ইঁদুর পৃথিবীকে বিদায় জানালো।

দাতব্য প্রতিষ্ঠান অ্যাপোপো ইঁদুরটির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটিতে বলেছে, ৮ বছর বয়সি মাগওয়া আর নেই। সপ্তাহের শুরুর দিনগুলোতে তার স্বাস্থ্য ভালো ছিল। অধিকাংশ দিনই সে স্বভাবগত ভঙ্গিতে খেলেছে। কিন্তু সপ্তাহের শেষ দিকে খাবারে অনিহাসহ সে ঝিমাতে থাকে।  

কম্বোডিয়ার এই সাহসী ইঁদুরটি গন্ধ শুঁকে অনেক বোমা ও ল্যান্ডমাইন শনাক্ত করে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছিল। বেলজিয়ামের সংস্থা অ্যাপোপো দ্বারা প্রশিক্ষিত মাগাওয়া তার পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে অনেক দুঃসাহসিক কাজও সম্পন্ন করেছে। মাগাওয়াকে তার সাহসিকতার জন্য স্বর্ণপদকও দেওয়া হয়েছিল।

অ্যাপোপো জানিয়েছে যে, এই দৈত্যাকার আফ্রিকান ইঁদুরটি গত সপ্তাহে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। সে পুরোপুরি ভালোই ছিল, কিন্তু খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়েছিল। আমরা মাগাওয়া রূপে একজন সাহসী সহচরকে হারিয়েছে, যে মানুষের জীবন বাঁচাতে তার পুরো জীবন উৎসর্গ করেছিল।

মাগওয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা তানজানিয়ায়। ওজন ছিল ১ দশমিক ২ কিলোগ্রাম, লম্বা ৭০ সেন্টিমিটার। এই প্রজাতির ইঁদুর অন্যদের চেয়ে তুলনামূলক বড় হলেও মাগওয়া ছিল ছোট ও হালকা–পাতলা গড়নের।

কাজে ব্যস্ত ‘মাগাওয়া’। ছবি: সংগৃহীত

গত বছরের জুন মাস নাগাদ নিজের কর্ম জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করে এই “হিরো র‍্যাট”। তার প্রশিক্ষক ম্যালেন তখন জানিয়েছিলেন, ‘বহুদিন ধরে এই কাজ করে আসছে মাগাওয়া। এখন তার বয়স হয়েছে। যার ফলে তাকে সসম্মানে অবসরে পাঠানো দরকার। তিনি আরো জানিয়েছিলেন, “মাগাওয়া যে কাজ করেছে তা আর কারোর পক্ষে করা সম্ভব ছিল না। আমি গর্বিত ওর সঙ্গে কাজ করতে পারার জন্য।”

গত ৭৭ বছর ধরে এই বিশেষ প্রজাতির আফ্রিকান ইঁদুরগুলোকে ল্যান্ডমাইন উদ্ধারের ট্রেনিং দিয়ে আসছে বেলজিয়ান সংস্থা চ্যারিটি অ্যাপোপো। আর এরজন্য তাকে স্বর্ণপদক দিয়ে সম্মানও জানানো হয়। মাগাওয়াই প্রথম ইঁদুর যাকে এই কাজের জন্য স্বর্ণ পদকে ভূষিত করা হয়েছিল।

এই ধরনের ইঁদুরকে একটি বিশেষ কেমিক্যাল কম্পাউন্ড খুঁজে বের করার ট্রেনিং দেওয়া হয়। যার ফলে তারা অন্যান্য ধাতব জঞ্জাল থেকে ল্যান্ড মাইনকে আলাদাভাবে খুঁজে বের করতে পারে। একটি টেনিস খেলার মাঠকে পরীক্ষা করতে এই ইঁদুরটির সময় লাগে মাত্র ২০ মিনিট।

কম্বোডিয়ায় ৬০ লাখের বেশি স্থলমাইন রয়েছে। স্থলমাইন অপসারণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা হালো ট্রাস্টের তথ্যমতে, ১৯৭৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়ে দেশটিতে ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সত্তরের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত চলা দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় এসব মাইন পুঁতে রাখা হয়।

মাগাওয়ার মতোই আরো অনেক ইঁদুরকে এই মুহূর্তে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে অ্যাপোপো। যাতে আগামী দিনে, ল্যান্ড-মাইনের সমস্যা থেকে কম্বোডিয়াকে মুক্তি দেওয়া যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে