যে কমেডি পছন্দ করে না তার কাছে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ভাঁড়ামো: অমি

যে কমেডি পছন্দ করে না তার কাছে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ভাঁড়ামো: অমি

ইসমাইল উদ্দীন সাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০৪ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৬:২০ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কাজল আরেফিন অমি

কাজল আরেফিন অমি

কাজল আরেফিন অমি। বাংলা নাটকের তরুণ নির্মাতাদের মধ্যে অন্যতম। খুব অল্প সময়ের মাঝেই তার অনন্য কাজ দিয়ে হয়েছেন আলোচিত এবং প্রশংসিত। তার নির্মিত এক্স বয়ফ্রেন্ড, এক্স গার্লফ্রেন্ড, ব্যাচেলর পয়েন্টসহ অসংখ্য নাটক সাড়া জাগিয়েছে দর্শকদের মাঝে। 

কাজল আরেফিন অমি নির্মিত সিরিয়াল ব্যাচেলর পয়েন্ট যখন এক পর্যায়ে টিভি চ্যানেল কতৃপক্ষ বন্ধ করে দেয় তখন দর্শক তা মানতে পারেনি। হুমায়ুন আহমেদ এর বাকের ভাইয়ের পর আবার বাংলাদেশের সাধারণ দর্শকেরা রাস্তায় নামে অমির ব্যাচেলর পয়েন্ট আবার শুরু করার জন্য। দর্শকেরা নিজ উদ্যোগে মানববন্ধন করে ব্যাচেলর পয়েন্টের জন্য। দর্শকদের অভূতপূর্ব সাড়া ব্যাচেলর পয়েন্ট নতুন করে শুরু করে। 

ভালোবাসা দিবসে তার নির্মিত নাটক আলোচনায় এসেছিলো। তরুণ এই নির্মাতার সমসাময়িক ব্যস্ততা নিয়ে কথা হয় ডেইলি বাংলাদেশ-এর সঙ্গে। আর তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইসমাইল উদ্দীন সাকিব।

ডিরেক্টর হিসেবে আপনি কোনো নাটক করার সময় কোনটিকে বেশি প্রাধান্য দেন?
কাজল আরেফিন অমি:
কন্টেন্ট। যে কনটেন্ট আমি অনুভব করতে পারি, আমার আপন মনে হয়। যে গল্পটা হয়তো আমি দেখছি, শুনছি বা কখনো সামনে দেখতে পারি বা আগে কখনো দেখে ফেলেছি, যে গল্পটা আমার পরিচিত। এরকম কন্টেন্ট আমি বানাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।  

সবাই ওটিটিতে পেইড কন্টেন্টের দিকে ঝুকছে। আপনিও ওটিটিতে কাজ দিলেন। তবে সেটা ফ্রি কেন?
কাজল আরেফিন অমি:
আমি ওটিটি প্লাটফর্মে কাজ করে ফ্রি দিচ্ছি কি দিচ্ছি না সেটা আমার সিদ্ধান্ত না। তা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং যে প্রযোজক থাকবে তার সিদ্ধান্ত। সে তার কন্টেন্ট ফ্রি দেখিয়ে দর্শক টানবে; নাকি প্রথম থেকেই একটা অর্থ নিয়ে তারপর কনটেন্ট দেখাবে।

আপনি ইউটিউবে সব কন্টেন্ট ফ্রি দেন। ফ্রি দেখতে দেখতে দর্শক টাকা দিয়ে ভাল কাজ দেখবে কেন? 
কাজল আরেফিন অমি:
কোনো কিছুই ফ্রি না। সবকিছুই টাকা দিয়ে দেখতে হয়। আবারো বলছি এটা আসলেই প্রযোজকের সিদ্ধান্ত। প্রযোজক যখন একটা কাজ ইউটিউব কেন্দ্রিক করে তখন সে অনলাইন স্পনসরশিপ নেই। সে টেলিভিশন রাইটস বিক্রি করে এবং ইউটিউবে দেয়ার পর এখানে স্বয়ংক্রিয় গুগল বিজ্ঞাপন চলে আসে। তাছাড়া আপনার মোবাইলে যদি ডাটা না থাকে আপনি সেই ইউটিউব দেখতে পারবেন না। 

আপনার বাসায় ওয়াইফাই থাকলে আপনি ইউটিউব দেখতে পারবেন। সেই ওয়াইফাই এর জন্য মাস শেষে আপনাকে টাকা দিতে হয়। ঘুরেফিরে যদি আপনি চিন্তা করেন কোনো কিছুই ফ্রি না। ইউটিউবে যে কাজটা মানুষ দেখছে, সেটার পেছনেও টাকা যায়। হ্যাঁ ওটিটিতে সরাসরি পেইড কন্টেন্ট হলে নির্দিষ্ট ঐ কন্টেন্ট দেখার জন্য আপনার হয়তোবা একটা অর্থ দেয়া লাগবে, যা ইউটিউবে নেই। ওটিটি একটা নতুন প্ল্যাটফর্ম এসেছে, এখন বেড়ে উঠছে। 

আপনি ডেয়ার বাংলাদেশ বানালের দেশপ্রেম নিয়ে, সামাজিক ইস্যু নিয়ে ভাইরাল গার্ল, প্রেম নিয়ে ভ্যালেন্টাইন ডে তে এত কাজ করলেন। আপনি কি কোন টার্গেট অডিয়েন্স নিয়ে কাজ করেন? 
কাজল আরেফিন অমি:
আমার টার্গেট অডিয়েন্স সবাই। আমি এক একটা কনটেন্ট একেক ধরনের অডিয়েন্স কে টার্গেট করে বানাই। আমি যখন ‘ভাইরাল গার্ল’ বানিয়েছি, আমার কাছে মনে হয়েছে এ ধরনের একটা ইস্যু আমাদের সমাজে ঘটে যাওয়া এবং আমার চোখে দেখা ঘটনা। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই গল্পটা বানানো। এটারও একটা অডিয়েন্স আছে। বাংলাদেশে সিরিয়াস কন্টেন্ট কখনো জনপ্রিয়তা পাইনা।  কিন্তু ‘ভাইরাল গার্ল’ দিয়ে আমরা সেটা অবসান করেছি। এট অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে, জনপ্রিয়তা পেয়েছে। 

সবাই সাধারণত বলে সিরিয়াস কনটেন্ট, শিক্ষামূলক কাজ বা একটু অন্যভাবে বললে আলাদা গল্প বা বোধের গল্পের হয়তো অডিয়েন্স নেই। কিন্তু কথাটা ভুল। সামাজিক ইস্যু বা কোন ম্যাসেজ নির্ভর কনটেন্টেরও অডিয়েন্স আছে। সে কারণেই ‘ভাইরাল গার্ল’ প্রায় সাত মিলিয়ন ভিউজ হয়ে গিয়েছে তিন সপ্তাহের মধ্যে। 

এই কাজগুলোরও অসংখ্য অডিয়েন্স আছে যদি সেই কাজটাকে প্রাণবন্তভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরা যায়, সেই সিরিয়াস কাজটা সমাজের জন্য দরকার, সে কাজটাও জনপ্রিয়তা পেতে পারে। এটারই প্রমাণ হচ্ছে ‘ভাইরাল গার্ল’। 

আবার আমি কমেডি কন্টেন্টও করি। আমি যেহেতু ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ বানাচ্ছি এর একটা অডিয়েন্স আছে; যারা কমেডি কাজ দেখতে ভালোবাসে। আমরা সারাদিন বিভিন্ন কাজের চাপে থাকি। এত কাজের পর সব সময় আমাদের থ্রিলার কন্টেন্ট বা সিরিয়াস কন্টেন্ট ভালো নাও লাগতে পারে। কিছু মানুষ আছে শুধুমাত্র মজা সংশ্লিষ্ট, কমেডি সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট দেখতে পছন্দ করে। সেই অডিয়েন্সের জন্য আমি ‘ফিমেল’ বানিয়েছি। 

কিছু মানুষ আছে যারা রোমান্টিক কাজ দেখতে পছন্দ করে। সে সিরিয়াস কনটেন্ট দেখতে চায় না, যে কমেডি কন্টেন্টও দেখতে চায় না। সে মানুষগুলোর জন্য আমি ‘লতা ওডিও’ বানিয়েছি। আমার অডিয়েন্স সবাই। আমি নিজেকে কোনো বিন্যাসের মধ্যে ফেলতে চাইনা এবং অডিয়েন্স কোন বিন্যাসের মধ্যে না। এক একটা মানুষের এক এক জিনিস ভালো লাগবে এটাই স্বাভাবিক। 

তাহলে কি আপনি সবসময় আলোচনায় থাকতে পছন্দ করেন? 
কাজল আরেফিন অমি:
আলোচনায় থাকতে সবাই চায়। আলোচনায় থাকতে পছন্দ করি বিষয়টা এমন না। আমি ভালো কাজ করতে চাই। খুব উদ্যোমে কাজ করতে চাই। এখন আমার কাজটা নিয়ে যদি মানুষ কথা বলে, সেটা আমার এক ধরনের ভালোলাগা। সকল পরিচালকের চাওয়া তার কাজটা মানুষ দেখবে, কাজটা নিয়ে কথা বলবে। এই জায়গা থেকে আমার এই চাওয়াটা তো থাকবেই। আলোচনায় থাকতে পছন্দ করি লাইনটা এরকম হওয়া উচিত না। 

আপনার সানগ্লাস, মাস্ক নিয়ে খারাপ মন্তব্য ও হয়েছে। ব্যাচেলর পয়েন্ট নিয়েও দুই ধরণের মতামত আছে। তাদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন? অনেকেই এসবকে ভাঁড়ামি বলে যাচ্ছে।
কাজল আরেফিন অমি:
এখানে কাউকে ছোট করে বলার কিছু নেই। যে মানুষটা কমেডি কন্টেন্ট পছন্দ করেনা, সে মানুষটা ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দেখবে না। তার কাছে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ভাঁড়ামো মনে হবে। আবার যে মানুষটা কমেডি পছন্দ করে, সেই মানুষটার জন্যই তো আজ ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ জনপ্রিয়। যে মানুষগুলো আনন্দ পেতে চায় সারাদিনের দুশ্চিন্তা ভুলে, তাদের জন্যই ‘ফিমেল’। ১৮ ঘন্টায় এক মিলিয়ন ভিউজ হয়ে গিয়েছে। এখন যে মানুষটার সামাজিক ইস্যু নিয়ে কাজ দেখতে ভালো লাগে সে ‘ফিমেল’ দেখে যদি একটা বাজে মন্তব্য করে এখানে আসলে বলার কিছু নেই। 

কারণ তার ঐ কনটেন্টটা ভালো লাগছে না। তার ভালো লাগছে ‘ভাইরাল গার্ল’। আবার যে মানুষটার রোমান্স ভালো লাগছে, সে মানুষটার সামাজিক ইস্যু নিয়ে কনটেন্ট ভালো লাগবে না। আমি কাউকে ছোট করে কিছু বলতে চাই না। যার যেটা ভালো লাগবে সে সেটা নিয়ে মন্তব্য করবে, যার যেটা ভালো লাগবে না সে সেটা নিয়ে মন্তব্য করবে, আমার ভালো লাগে নাই। 

আমি একেকটা জোনে কাজ করি। কখনো রোমান্স করি, কখনো ফ্যামিলি ড্রামা করি, কখনো কমেডি করি, কখনো সিরিয়াস ইস্যু নিয়ে সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ করি। যার যে জায়গাটা ভালো লাগবে সে সেটা নিয়ে ভালো বলবে এবং যার যে জায়গাটা ভালো লাগবে না সে সেটা নিয়ে খারাপ বলবে। এটাই স্বাভাবিক। 

দর্শকদের রুচি নিয়ে অনেক ডিরেক্টর বাজে মন্তব্য করে। আপনি কি আমাদের দেশের দর্শকদের রুচি নিয়ে সন্তুষ্ট?
কাজল আরেফিন অমি:
আমি দর্শকদের রুচি নিয়ে সন্তুষ্ট। আমাদের দেশে ১৭ কোটি মানুষ আছে। সেই ১৭ কোটি মানুষের ১৭ কোটি রুচি। আপনাকে একটা শো-রুমে যদি জামা-কাপড় কিনতে পাঠানো হয় আপনি এক রকমের শার্ট পছন্দ করবেন, আমি শো-রুমে ঢুকে অন্যরকম শার্ট পছন্দ করবো। এটাই স্বাভাবিক। এক একটা মানুষের রুচিবোধ এক এক রকম। আমার যে কাজটা দেখে একটা মানুষ বাহ বাহ বলবে, আরেকটা মানুষ একই কাজটা দেখে থুথু দিতে পারে। এটাই স্বাভাবিক। এখানে কারো রুচি নিয়ে কথা বলা ঐ মানুষকে ছোট করা হবে। আমি কারো রুচিবোধ নিয়ে কথা বলতে চাই না। কারন মানুষ যার যেটা ভালো লাগবে সে সেটা নিয়ে বলবে। যদি মানুষের রুচিবোধ নাই থাকতো তাহলে ‘ভাইরাল গার্ল” এর মত কনটেন্ট এত জনপ্রিয়তা  পেত না। মানুষের অবশ্যই রুচিবোধ আছে। মানুষ তার নিজের রুচি নিয়েই কাজ দেখে।

সামনে কি কি কাজ আসছে আপনার?
কাজল আরেফিন অমি:
সামনে কিছু বিদেশী অ্যাপ এর জন্য কাজ করছি। ওটার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সিনেমা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই?
কাজল আরেফিন অমি:
সিনেমা নিয়ে অবশ্যই পরিকল্পনা আছে। শেষ পর্যন্ত সিনেমাটাই বানাতে চাই। আরেকটু প্রস্তুতি নেই। কথা হচ্ছে যদি সবকিছু ঠিকভাবে মিলে যায় তাহলে হয়তো সিনেমার ঘোষণা দেব।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস