শুধুমাত্র শিল্পের ক্ষেত্রেই মানুষের এত অভিযোগ: আশফাক নিপুণ

শুধুমাত্র শিল্পের ক্ষেত্রেই মানুষের এত অভিযোগ: আশফাক নিপুণ

ইসমাইল উদ্দীন সাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৪ ২৫ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৭:২১ ২৫ জানুয়ারি ২০২১

আশফাক নিপুণ

আশফাক নিপুণ

দ্বন্ধ সমাস, ফেরার পথ নেই, সোনালী ডানার চিল ও এই শহরে। গত তিন বছরে আমাদের নাট্যঙ্গনে অন্যতম আলোচিত নাম। এই সময়গুলোতে নাট্যঙ্গন যেমন অস্থির সময়ে কেটেছে তেমনি বেশ সংখ্যক নাটক দর্শকদের তৃপ্তি দিয়েছে। তবে সেই কাজগুলোর ভিড়ে এই চারটি নির্মাণই স্বাতন্ত্র্যভাবে স্থান করে নিয়েছে। এই নির্মাণগুলোতে ফুটে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্ররূপ।

প্রশ্নফাঁস, গুম, গুজব থেকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা- এই সমস্যাগুলো আমাদের জীবন যাত্রায় অস্থিতিশীল করে দিয়েছিল, আর এই সমস্যাগুলোই সেলুলয়েডের পর্দায় তুলে ধরেছেন এক নির্মাতা। চারটিরই নির্মাতা একজন, যে রাঘব বোয়ালদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই সাহসী নির্মাণ করেছেন। দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে এই নাটকগুলো গ্রহণ করেছেন, খেতাব দিয়েছেন সময়ের সেরা সাহসী নির্মাতা। তিনি এই মুহূর্তে বাংলা নাটকের সবচেয়ে আলোচিত, প্রশংসিত নির্মাতা আশফাক নিপুণ।

সম্প্রতি তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ডেইলি বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি ইসমাইল উদ্দীন সাকিব। 

কষ্টনীড় গল্পের উৎস কি ছিল?
আশফাক নিপুণ:
হৈচৈ প্লাটফর্ম থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল আমার সঙ্গে। ওদের কনটেন্ট হেড ফোন দিয়ে বলেন, ৯০ মিনিটের একটা কাজ করতে চান। হৈচৈ এ এধরনের কাজ আগে হয়নি। এটা হবে ওদের প্রথম কোন প্রোডাকশন। ওরা আমাদের এখানে টেলিভিশনে যে ৬০, ৭০, ৮০, ৯০ মিনিটের গল্প হয় সেরকম একটা গল্প নিয়ে কাজ করতে চান। ওরাই আমাকে বলল একটা পরিবারের গল্প করতে চায়, গল্প যাই হোক। আমার কাছে এরকম প্রস্তাব আসে। 

প্রস্তাব আসার পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি একটা পরিবারের গল্প যদি হয় গল্পটা আমি কেন বলতে চাই? গল্পের মধ্যে রাষ্ট্রের বা সিস্টেমের যেসব দুর্বলতাগুলো আছে ওগুলোকে দেখাতে পারি কিনা! ওখান থেকেই ‘কষ্টনীড়’ এর গল্প মাথায় আসে। ওরা থ্রিলার বা গ্যাংস্টার, আন্ডারওয়ার্ল্ড এ ধরনের কিছু চায় না, ওরা চায় একদম পরিবারের গল্প। তখন আমি চিন্তা করলাম কিভাবে পরিবারের ভিতর দিয়ে আর একটু বড় গল্প দেখাতে পারি। ওখান থেকেই শুরু।

কেনো নাটকে নির্মাতা নিপুণ সর্বপ্রথম কি খুঁজে? নাটকের কোনদিকটাতে সব থেকে বেশি জোর দেন?
আশফাক নিপুণ:
  নির্মাতা হিসেবে আমি যেটা বলতে চাই, সেটা হলো দর্শন। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি যে গল্পটাই বলি না কেনো সেটা যদি একদম সাধারণ পারিবারিক নাটক হোক, সামাজিক কোন গল্প হোক, রাজনৈতিক কোনো গল্প হোক সেখানে আমার দর্শনটা কি? যে গল্পই করি না কেনো সেটাতে আমার দর্শনটা কি? আমি কেনো বলতে চাচ্ছি? আমি কাজ করি কম অন্যান্যদের তুলনায়। যার জন্য আমি যখনই কাজ করতে যাই প্রথমে আমার মাথায় থাকে; এই গল্পটা আমি কোন দর্শনের জায়গা থেকে বলছি। আমার দর্শনটা দর্শকদের কাছে পৌঁছানো এটাই আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারপর ওরা ওদের জায়গা থেকে গল্পটা কিভাবে গ্রহণ করবে সেটা ওদের ব্যাপার। হঠাৎ করে একটা গল্প মাথায় আসলো, আমি করে দিলাম সেটা না। নির্মাতা হিসেবে আমার মাথায় যেটা থাকে তা হলো; একটা দর্শন থাকতে হবে। অন্যথায় আমি গল্প বলি না বা গল্প বলতে চাই না। ওই ধরনের গল্প আমি করিও না, যেখানে মনে হয় দর্শন নাই। 

‘কষ্টনীড়’ এর দর্শনটা কি ছিল? 
আশফাক নিপুণ:
‘কষ্টনীড়’ দর্শনটা হলো একটা পরিবারের গল্প এবং পরিবারের চোখে রাষ্ট্রের গল্প। সেটাই হচ্ছে দর্শন। পরিবারে যে সদস্যরা ছিল ওদের ভিতর দিয়ে যে আমি আরেকটা বড় গল্প বলছি এবং বড় গল্পের মধ্যে নিয়ম অনিয়মের কথা বলছি এটাই হচ্ছে দর্শন।

পেইড কন্টেন্ট হওয়াতে আশানুরূপ মানুষের কাছে কি কাজটি পৌছাতে পেরেছেন?
আশফাক নিপুণ:
যখন আমি কোন সাবস্ক্রিপশন নির্ভর ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য কাজ করি, তখন আমি ধরেই নিই এতে দর্শক কম থাকবে ফ্রি কন্টেন্ট এর তুলনায়। কিন্তু আমার এতে কোন আপত্তি নেই। গত তিন বছরে, আমার সম্ভবত দুইটি কাজ ইউটিউবে এসেছে। ‘ইতি মা’ আর ‘ভিক্টিম’ ছাড়া বাকি সব কাজই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে গিয়েছে। কোনটি বায়োস্কোপ, কোনটি বঙ্গ, কোনটি রবি টিভি+ এ মুক্তি পেয়েছে। আর সর্বশেষটি হইচই এ।

আমি শুরু থেকেই বলে আসছি যে আমি ইউটিউবে ফ্রি কন্টেন্ট দেখার বিপক্ষে। কারণ ইউটিউবে যে কন্টেন্টগুলো দেয়া হয় তাতে প্রযোজকের কোন লাভ হয়না। কারণ বর্তমানে ইউটিউবে লভ্যাংশ বা আয় অনেক কম।

আমরা বিনামূল্যের কন্টেন্ট এর মাধ্যমে দর্শকদের অভ্যাস খারাপ করছি। একজন গায়কের একশটি গান সবগুলো এমপিথ্রী আকারে পাওয়ার কারণে আজ আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। বেশি মানুষ দেখবে এই আশায় আমরা পেইড কন্টেন্ট আনতে দেরী করবো, তত দ্রুত আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাবে। কারণ একটা পর্যায়ে গিয়ে মানুষ এই কাজগুলো আর দেখবে না।

আপনি যখন কিছু কিনতে যান বাজারে, তখন কেউ ফ্রি দেয়না। কেউ বলেনা যে- আপনি কষ্ট করে দশ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে এসেছেন, আপনাকে একটা ডিম ফ্রি দিয়ে দিলাম। আপনাকে একটা ডিম কিনতেও পয়সা খরচ করতে হয়। কিন্তু কন্টেন্ট দেখার বেলায় আমাদের দেশে যে অভ্যাসটা হয়ে গিয়েছে, সবাই শুধু লিংক খোঁজে। ইউটিউব লিংক দেন, কোন পাইরেটেড লিংক আছে কিনা এসব। কন্টেন্টগুলোকে এভাবে অবমাননা করার ফলেই কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হয়। আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি শেষ, আমাদের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি শেষ। এভাবে আস্তে আস্তে আমাদের নাটক ইন্ডাস্ট্রিও শেষ হয়ে যাবে যদি না এখনই ঠিক করা হয়। একজন দর্শক একটি কন্টেন্ট দেখবে ঠিক আছে, কিন্তু একটা নির্দিষ্ট অংকের অর্থের বিনিময়ে দেখুক, যেই অংকটা আসলে আহামরি কিছু নয়। এমনো কিছু ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আছে যারা দুই টাকায় কন্টেন্ট দেখায়।

বর্তমানে এত এত ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরী হচ্ছে, দর্শক কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা সাবস্ক্রাইব করবে?
আশফাক নিপুণ:
ঢাকায় বা চট্টগ্রাম শহরে যখন একটা নতুন রেস্টুরেন্ট চালু হয়, তখন সেখানে প্রচুর লোকসমাগম হয়। বার্গার কিং যখন প্রথম চালু হলো, তখন আমরা সবাই ফেসবুকে দেখলাম বিশাল লম্বা লাইন বার্গার কিং এর সামনে। বার্গার তো একই, বানের ভিতর বিফ প্যাটি। কিন্তু তারপরও মানুষ নতুন স্বাদের আশায় ওখানে যাচ্ছে। টং এর চা থেকে এখন আমরা তিনশ-সাড়ে তিনশ টাকার কফি খেতে চলে যাই। 

কিন্তু ওটিটি প্ল্যাটফর্মে খরচেই শুধু দর্শকদের যত অনীহা। আমরা এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকিনা, বিভিন্ন জিনিস চেষ্টা করে দেখি যা মানুষের সহজাত স্বভাব। কেউ সবসময় এক দোকানের, একই রেস্টুরেন্টের খাবার খায় না। এই যে অন্যসব বেলায় একজন চিন্তা করে না যে আমি কয়টা জিনিস চেষ্টা করছি। কিন্তু যখন অনেকগুলো ওটিটি প্ল্যাটফর্মের কথা হয়, তখন একজন চিন্তা করে আমি কয়টা প্ল্যাটফর্ম সাবস্ক্রাইব করছি। বর্তমানে সকলের বাসায় ডিশ এর চ্যানেল আছে দুইশ এর অধিক, এর জন্য কি আপনি প্রতিমাসে বিল দিচ্ছেন না? মাসে মাসে যখন আপনি তিনশ, চারশ টাকা করে দেন বছর শেষে সেটা কিন্তু চার থেকে পাচ হাজারে গিয়ে দাড়ায়। এতগুলো চ্যানেল আপনি না দেখলেও টিভিতে ঠিকই রেখে দিচ্ছেন। কিন্তু যখন মাত্র চারটি বা পাঁচটি ওটিটি সাবস্ক্রাইব করার কথা বলা হচ্ছে, মানুষ চিন্তা করছে সে কয়টি সাবস্ক্রাইব করবে?

বাৎসরিক সাবস্ক্রিপশনের চেয়ে আলাদা কন্টেন্ট নির্ভর খরচের দাবি বেশিরভাগ দর্শকের। এ ব্যাপারে আপনার কি মত?
আশফাক নিপুণ:
আমি ফেসবুকে দেখলাম অনেকেই বলছেন কষ্টনীড় দেখতে অসুবিধা হচ্ছে। হইচই এ কিন্তু বাৎসরিক সাবস্ক্রিপশন খরচ বেশি না, সম্ভবত পাঁচশ টাকার বাৎসরিক প্যাকেজ এবং আড়াইশ কি তিনশ টাকার ছয়মাসের প্যাকেজ। এর বাইরে আর কোন প্যাকেজ ওরা বিক্রী করে না। হয়ত ছয়মাসে এই তিনশ টাকা অনেকের জন্য একটু কষ্টকর, কিন্তু এই টাকায় কিন্তু আপনি অনেক কিছু পাচ্ছেন। 

হইচই এ নাহলেও প্রায় হাজার খানেক কন্টেন্ট রয়েছে। আর প্রিমিয়াম কিছুর জন্য তো আপনার কিছু খরচ করতেই হবে। ওদের যেহেতু এত বেশি কন্টেন্ট এবং বেশিরভাগই অত্যন্ত ভালো মানের, এজন্যই ওরা ঠিক করে দিয়েছে এই খরচ। 

শুধুমাত্র শিল্পের ক্ষেত্রেই মানুষের এত অভিযোগ। এত প্ল্যাটফর্ম কেন, কয়টা সাবস্ক্রাইব করবো, কয়টা দেখবো, কয়টা কি করবো? কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করে দেখুন, প্রতিদিন যদি নতুন নতুন রেস্টুরেন্ট হয় আপনি কিন্তু সেখানে যান, যখন নতুন কোন ভ্রমন স্থানের নামডাক হয়, আপনি যান। একজন সারাজীবন কক্সবাজার ঘোরে না, এই মাসে কক্সবাজার গেলে তারপরের মাসে কুয়াকাটা, তার পরের মাসে সিলেট যায়। আপনি দর্শনীয় স্থানগুলোকে ভাগ করে ফেলেন। কন্টেন্টের বেলায়ই সবার এ ধরণের অভিযোগ- কেন এতগুলো হচ্ছে? কেন এতগুলো দেখবো? কিভাবে দেখবো?

আমার এই কথা বলার কারণ হলো পৃথিবীর সবকিছু জন্য আমরা খরচ করতে রাজি, কিন্তু বাংলা কন্টেন্টের বেলায় অনীহা কাজ করে। মানুষ কি নেটফ্লিক্স দেখছে না? নেটফ্লিক্স বছরে দুইশ কোটি টাকার ব্যবসা করে নিয়ে যায়। এ দুইশ কোটি টাকা কোথা থেকে আসে? এটা তো আমাদের মানুষের পকেট থেকেই যাচ্ছে। নেটফ্লিক্সের কন্টেন্ট দেখার সময় মানুষ কিন্তু চিন্তা করছে না নেটফ্লিক্সের খরচ তো আরো বেশি! কিন্তু স্থানীয় প্ল্যাটফর্মের কথা উঠলেই মানুষ চিন্তা করে এত প্ল্যাটফর্ম! কোনটা দেখবো? এটায় নাকি ওটায় নাকি অন্য কোনটিতে? এটা হওয়ার একমাত্র কারণ হলো বিনামূল্যের ইউটিউব। 

পৃথিবীর কোথাও ইউটিউবে বিনামূল্যে কন্টেন্ট দেয়না। হলিউডে টম ক্রুজের সিনেমা, বলিউডে শাহরুখ খানের সিনেমা বা এ ধরণের অন্য কোন কিছুই আপনি ইউটিউবে বিনামূল্যে পাবেন না। এগুলা সবই ওটিটি তে চলে যায়, কারণ খরচ করে দেখতে হবে। আমাদের দেশে বিনামূল্যে দিতে দিতে, সবার একটা বদভ্যাস হয়ে যাওয়ায় এত অভিযোগ। আশা করি অবস্থা পরিবর্তন হবে একদিন মানুষ আস্তে আস্তে কদর করা শিখবে। পাশাপাশি আমাদের শিল্পীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে যেন আমরা আরো ভালো কন্টেন্ট দিতে পারি। যাতে দর্শক আরো আগ্রহী হয় বিভিন্ন ওটিটি সাবস্ক্রাইব করার জন্য। কারণ ভালো ভালো কন্টেন্টই দর্শকদের চাওয়া। অর্থাৎ দায়িত্ব দুই পক্ষেরই রয়েছে, সকলকেই সহযোগিতা করতে হবে।

বর্তমান দর্শকদের রুচি নিয়ে আপনার কি ধারণা? অতীতে অনেক পরিচালকই এদেশের দর্শকদের রুচির নিন্দা করেছে।
আশফাক নিপুণ:
রুচি খারাপ বা ভালো একথা আপনি বলতে পারবেন না। কারণ রুচি ব্যাপারটা আপেক্ষিক। মানে যেটি আমার কাছে খারাপ, সেটি আপনার কাছে ভাল হতেই পারে। আবার আপনার কাছে যেটি ভালো অন্য আরেকজনের জন্য সেটি সর্বশ্রেষ্ঠ রুচিও হতে পারে। সুতরাং, রুচি ব্যাপারটা হচ্ছে স্থান, কাল, পাত্র তার আশেপাশের পরিবেশ সব কিছু মিলেই নির্ভর করে। 

আমি সারা সপ্তাহ বসের ঝাড়ি খেয়ে, অফিস করে তারপর বৃহস্পতিবার যে কন্টেন্ট দেখতে চাইবো; অন্য আরেকজন, যে কিনা পুরো সপ্তাহ আরামে কাটিয়েছে তার বৃহস্পতিবারের কাঙ্খিত কন্টেন্ট এর মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য থাকবে। যে সাতদিন ধরে কষ্ট করে, ঝাড়ি খেয়ে এসেছে, সে হয়তো হালকা কিছু দেখবে; আর যে সাতদিন খুব আরামে, ভরপেটে, ফুরফুরা অবস্থায় কাটিয়েছে, সে হয়ত চিন্তা করবে একটু চিন্তা ভাবনা করা যায় এমন কন্টেন্ট দেখার। 

সুতরাং কন্টেন্ট সব ধরণের থাকবে, দর্শকও সব রকমের থাকবে। কন্টেন্ট দেখতে দেখতেই আসলে দর্শকের রুচি তৈরী হয়। আপনি কন্টেন্ট কম বানালে রুচি তৈরী হবেনা। অনেকে বলেন দর্শকের রুচি দিনদিন খারাপ হচ্ছে, বিষয়টা আসলে এমন না। দর্শকের রুচি তৈরী করা শিল্পীদের দায়িত্ব। বাংলাদেশের যে কোন দোকানে এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের কোন দোকানে গেলেও কিন্তু আপনি চিপস পাবেন। অর্থাৎ চিপস এর একটা ভোক্তা রয়েছে। এটি খুব উপাদেয় খাদ্য, শরীরের জন্য ভালো তা কিন্তু না। 

একটা বয়সে আপনি প্রচুর চিপস খান, যত বয়স বাড়তে থাকে আপনার চিপসের প্রতি আগ্রহ কমতে থাকে। একটা বয়সে আপনি প্রচুর ফাস্টফুড জাঙ্কফুড খান, কিন্তু একসময় আপনার বাসার খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। দোকানের ভাজাপোড়া খেতেও ভালো লাগেনা। কন্টেন্ট গুলোকেও চিপসের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কন্টেন্ট তৈরী হবে, রুচি তৈরী করার একটা বড় দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের শিল্পীদের। শিল্পী বলতে পুরো শিল্পটাকে বুঝিয়েছি, যেখানে অভিনেতা অভিনেত্রী রয়েছে, প্রযোজক পরিচালক রয়েছে, স্ক্রিপ্ট লেখক রয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এই হাজারো চিপসের ভীড়ে, ভালো মানের কিছু যেন দর্শক পায়। যাতে আস্তে আস্তে দর্শকরা এইসব পেইড কন্টেন্টের দিকে আসতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস