আমাদের ভালো কনটেন্টের অভাব: মানিক

আমাদের ভালো কনটেন্টের অভাব: মানিক

রুম্মান রয় ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৭ ২০ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৩:৫৮ ২১ জানুয়ারি ২০২১

পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক

পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক

পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। ২০০৫ সালে ‘দুই নয়নের আলো’ ছবি নির্মাণের মধ্য দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ছবি দিয়েই আলোচনায় আসতে সক্ষম হন। এই ছবিতে অভিনয় করেই চিত্রনায়িকা শাবনূর পান তার একমাত্র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। 

মানিক পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘দুই নয়নের আলো’, ‘মা আমার চোখের মণি’, ‘মন ছুঁয়েছে মন’, ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’। এদিকে সম্প্রতি দু’টি চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। তার সমসাময়িক ব্যস্ততা এবং দেশিয় বিনোদন অঙ্গনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয় ডেইলি বাংলাদেশ-এর সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুম্মান রয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ: সম্প্রতি আপনি দুটো নতুন সিনেমা শুরু করতে যাচ্ছেন। একটি হলো ‘যাও পাখি বলো তারে’ আরেকটি ‘হাহাকার’। ছবি দু’টোর কাস্টিং ও শুরু হচ্ছে কবে?
মোস্তাফিজুর রহমান মানিক:
দু’টি সিনেমা দুই রকমের। ‘যাও পাখি বলো তারে’ ছবিটা অফট্র্যাকের প্রেমের ছবি। এই ছবির গল্প লিখেছেন আসাদ জামান। এই ছবিতে অভিনয় করবেন আদর আজাদ ও মাহিয়া মাহি। এটার শুটিং শুরু হবে ফেব্রুয়ারিতে। 

আর ‘হাহাকার’ ছবির প্রতিটি চরিত্রের মধ্যেই হাহাকার, একটা না পাওয়ার কষ্ট আছে। একেবারেই প্রেমের গল্প বলা যাবে না। এটি একটি সামাজিক গল্পের ছবি। এই সপ্তাহে ছবির কাস্টিং চূড়ান্ত করা হবে। একজন নায়ক ও দু’জন নায়িকা থাকবেন। এটা মার্চে শুরু করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনার নির্মাণাধীন বাকী সিনেমাগুলোর কি অবস্থা?
মোস্তাফিজুর রহমান মানিক:
‘আর্শীবাদ’ সিনেমার এক লটের কাজ শেষ করেছি এবং সেটা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। সেখানে এটি প্রশংসিত হয়েছে। এর পরের লটের শুটিং শুরু করবো। এই জানুয়ারিতে ঢাকায় দুইদিন শুটিং করবো। আর মার্চেই আমরা ছবিটির কাজ শেষ করবো। ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’ ছবির শুটিং আর ডাবিং শেষ। ওটা এখন ব্যাকগ্রাউন্ডের জন্য পাঠাবো। আনন্দ অশ্রু’র শুটিং শেষ এটার পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শুরু করবো। 

আসলে আমার অনেকগুলো ছবির কাজ পেন্ডিং আছে। আবার নতুন কিছু ছবির কাজ শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে আমি শুটিং জটিলতায় আছি। এগুলো আমায় ম্যানেজ করতে হচ্ছে। প্রযোজকেরা আমাকে সাহায্য করলে সব ম্যানেজ করে আমি শেষ করবো। আমার আরেকটা সিনেমা ‘এমনও তো প্রেম হয়’। অনেক দিন হয়ে গেছে ছবিটার কাজ প্রায় শেষের দিকে ছিলো। শাবনূরের কিছু কাজ বাকি ছিলো। জানি না কি হবে। এখন শাবনূর দেশে আসলে একটা চেষ্টা করবো। এটা একটা জটিলতার মধ্যে পড়ে গেছে। এই ছবির ভবিষ্যৎ আমি নিজেও জানি না। এটা খুব উঁচু মানের একটা ছবি ছিলো। আমার নিজেরও ভালোলাগার একটা ছবি। খুব ভালো মেকিং হয়েছিলো। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, জানি না ছবিটা আলোর মুখ দেখবে কিনা!

ডেইলি বাংলাদেশ: একটা সময়ে দেখা গিয়েছিলো আপনার সিনেমায় নায়িকা হিসেবে থাকতেন শাবনূর। এখন আপনার বেশির ভাগ সিনেমায় দেখা যাচ্ছে মাহিয়া মাহিকে। এর কি বিশেষ কোনো কারণ আছে?
মোস্তাফিজুর রহমান মানিক:
এটা কাকতালীয়। সবাই জানেন আমি শাবনূরের অভিনয়ের ভক্ত। শাবনূরকে নিয়ে আমার কাজ করার ইচ্ছা ছিলো আমি করেছি। শুধু আমার না এক সময় বাংলাদেশের সব বড় বড় পরিচালকরাই শাবনূরের সঙ্গে কাজ করতে চাইতেন। আমিও চাইতাম আর করেছিও। এরপর যখন সিনেমা থেকে শাবনূর অনেকটা সরেই গেলেন তখন আমি সিনেমা শুরু করলাম মাহিয়া মাহিকে নিয়ে। মাহিকে নিয়ে আমার প্রথম সিনেমা হলো ‘জান্নাত’। মাহির সঙ্গে এই ছবির কাজ করার পর আমার সঙ্গে তার ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। মাহি খুবই পাংচুয়াল একজন আর্টিস্ট। সে খুব ভালো সময় মেইনটেইন করে। মাহি পরিচালকদেরকে খুব রেসপেক্ট করতে জানে। অভিনয় গুণ ওর জনপ্রিয়তা এগুলোতো আছেই। মাহি এখন বাংলাদেশের অন্যতম একজন জনপ্রিয় নায়িকা।

ডেইলি বাংলাদেশ: গত কয়েক বছর ধরেই বাংলা সিনেমার দর্শক কমে যাচ্ছে। এটার মূল কারণগুলো কি?
মোস্তাফিজুর রহমান মানিক:
এটার তো অনেক কারণ। একটা দু’ইটা তো নয়। প্রথমত, ভালো কনটেন্টের অভাব। হলে হোক কিংবা ইউটিউব চ্যানেলে; আপনাকে যে স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে রাখবে সেরকম ভালো কনটেন্ট তো নাই। দ্বিতীয় কথা, এই কনটেন্টগুলো যে আমরা চালাবো সেই সিনেমা হলের পরিবেশ ভালো নেই। ভালো চেয়ার নেই, পর্দায় ভালো দেখা যায় না, সাউন্ড সিস্টেম ভালো না। তাহলে কি করে এই পরিবেশে দর্শক সিনেমা দেখবে! তৃতীয় কথা, আমাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা আমাদের জীবন এখন জটিল হয়ে যাচ্ছে। যানজট সমস্যা, অর্থনৈতিক সমস্যা সময়ের অভাব। মানুষ তো এখন কাজে ব্যস্ত থাকে। আধা ঘন্টা এক ঘন্টা সময় নষ্ট করতে চায় না। সেটা উপেক্ষা করে হলে যাবে কনটেন্ট দেখার জন্য ২/৩ ঘন্টা বসে থাকবে এই সময়টা তাদের নেই। তারপর ভালো জনপ্রিয় নায়ক- নায়িকার অভাব। এক সময় শুধুমাত্র জনপ্রিয় নায়ক নায়িকার নামেই ছবি চলতো। তাদের নামেই দর্শকরা হলে ছবি দেখতে হলে ভীড় করতো। এখন সীমিত সংখ্যক জনপ্রিয় নায়ক-নায়িকা আছে। আরেকটা ব্যাপার হলো আমাদের মধ্যে পরিচালক,প্রযোজক ও শিল্পীদের পেশাদারিত্বের অভাব আছে। সবমিলিয়ে দিনে দিনে আমরা দর্শক হারাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ: দেশের প্রেক্ষাগৃহে হিন্দি সিনেমা চালাতে চাচ্ছেন হল মালিকরা। হিন্দি সিনেমা হলে চললে এটা কি দেশীয় চলচ্চিত্রের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়বে নাকি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন?
মোস্তাফিজুর রহমান মানিক:
আমি যতটুকু শুনেছি এটা আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। আমি আগেও বলেছি আমাদের ভালো কনটেন্ট নাই। ছবির বড় কোনো বাজেট নাই। দুই একটা বড় বাজেটের সিনেমা তৈরি হয়। আমরাও তো বুঝি হল মালিকদের সমস্যা হচ্ছে। তাদের তো অনেক খরচ আছে হল চালতে সমস্যা হচ্ছে। তারাও তো চেষ্টা করবে হল কিভাবে বাঁচানো যায়। আমার কাছে এটা মনে হচ্ছে একটা এক্সপেরিমেন্ট। মাঝে তো আমদানি কলকাতার ছবিও চালিয়েছিলো। সেগুলো কিন্তু আমাদের দর্শকরা রিজেক্ট করেছে।

আমি যতদূর জানি দেশের কোনো উৎসবে হিন্দি সিনেমা মুক্তি পাবে না। আগে তো আমরা হিন্দি ছবি চালানোর ঘোর বিরোধী ছিলাম। এখন তো তাদের ব্যাপারটাও আমাদেরকে দেখতে হবে। হল না থাকলে আমরা কোথায় ছবি চালাবো? আমাদের ছবিও তো চালাতে হবে। এখন যদি হল বাঁচে তাহলে তাদেরও লাভ আমাদেরও লাভ। 

ডেইলি বাংলাদেশ: অনেক নির্মাতাই এখন ওয়েব কনটেন্ট বানাচ্ছেন। আপনারও কি ইচ্ছা আছে?
মোস্তাফিজুর রহমান মানিক:
হ্যাঁ, আমার ইচ্ছা আছে। আমি সময়ের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে চাই। কিন্তু এজন্য আমাকে আরো বুঝতে হবে জানতে হবে। আমি অনেক ওয়েব কনটেন্ট দেখি অনেকগুলোর কাজ ভালো হচ্ছে। আমি যখন দেখবো বিষয়টা বুঝতে পারছি আরো ভালো বাজেট পাবো তখন আমি নির্মাণ করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনি বিয়ে করবেন কবে?
মোস্তাফিজুর রহমান মানিক:
এটা আসলে আমি বললেই তো হচ্ছে না। এটা পুরোটা সৃষ্টিকর্তার উপর নির্ভর। আমি চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ এই বছরেই বিয়ে করতে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস