সিট ব্যাক এন্ড রিল্যাক্স ফর্মুলায় বিশ্বাসী: মাবরুর রশিদ বান্নাহ

সিট ব্যাক এন্ড রিল্যাক্স ফর্মুলায় বিশ্বাসী: মাবরুর রশিদ বান্নাহ

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৪ ২৬ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:৫৬ ২৬ নভেম্বর ২০২০

মাবরুর রশিদ বান্নাহ

মাবরুর রশিদ বান্নাহ

মাবরুর রশীদ বান্নাহ। টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় তরুণ নির্মাতা। ২০১১ সালের বিজয় দিবসে বান্নার রচনা ও পরিচালনায় প্রথম নাটক ‘ফ্ল্যাশব্যাক’ প্রচার হয়েছিল। প্রথম নাটকেই বাজিমাত করেন তিনি। ব্যতিক্রমধর্মী গল্প আর নির্মাণে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে তৈরি করেছেন নিজস্ব পরিচিতি। গত অর্ধ যুগে সাফল্য পাওয়া তরুণ নির্মাতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। 

বর্তমানে সব শ্রেণির দর্শকদের কাছে বান্নাহর নাটক মানেই অন্যরকম ভালো লাগা। একের পর এক হিট নাটক উপহার দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সারাবছরই নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণে ব্যস্ত থাকেন বান্নাহ। এত ব্যাস্ততার মাঝেও গণমাধ্যমকে সময় দিতে ভুলেন না তিনি। জনপ্রিয় এই পরিচালক এবার কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশ-এর সঙ্গে। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইসমাইল উদ্দীন সাকিব।

ডেইলি বাংলাদেশ: নাটক ইন্ডাস্ট্রিতে এত কাজ হওয়ার পরও গুঞ্জন শুনা যায় মৌলিক গল্পের অভাব। নির্মাতা হিসেবে আপনার মতামত কী?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: মৌলিক গল্প পৃথিবীর সব ইন্ডাস্ট্রিতেই অভাব রয়েছে। শুধু বাংলাদেশের নাটক ইন্ডাস্ট্রিতে নয়। বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে দেখেন, সেখানেও অভাব রয়েছে। সাউথ ইন্ডিয়ান, কোরিয়ান, স্পেনিশ, হলিউডের গল্প থেকে নিতে হচ্ছে তাদের। সেখানে বাংলাদেশের নাটক নিয়ে যদি এই প্রশ্ন করেন তাহলে কি বলার আছে! 

মাবরুর রশিদ বান্নাহ

ডেইলি বাংলাদেশ: জীবনের গল্পগুলো নিয়ে খুব আলোচনা হয়। কিন্তু ভিউ হয় না। এ কারণেই কি এধরণের নাটক নিয়ে কাজ কম করি?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: এখানে দর্শকদের দায় আছে। বাংলাদেশের দর্শক যে নাটকগুলোতে বেশি ভিউ দিচ্ছে, সেসব নাটক নিয়েই কাজ করা হচ্ছে। জীবনমুখী নাটকের ভিউ দেখে প্রোডিউসার, ডিরেক্টরসহ পুরো টিমই নিরুৎসাহিত হয়ে যাচ্ছে। তাই ধীরে ধীরে নির্মাণ কমে যাবে। দর্শক যে ধরণের কনটেন্ট বেশি দেখবে সেধরণের কনটেন্ট বেশি হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ: তাহলে কি দর্শকের রুচি নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট না?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: বাংলাদেশের মানুষের রুচি যদি উন্নত না হতো তাহলে কি ৫০-৬০ টা ভালো ডিরেক্টর এদেশে কাজ করতো? ভালো ভালো কন্টেন্ট কি এদেশে নির্মিত হতো? বাংলাদেশের মানুষের রুচি ভালো না এটা বলা যাবে না। তবে এটা বলতে হবে অনেকেরই রুচিতে সমস্যা আছে। বাংলাদেশের বিশাল একটা অংশ আছে যারা প্রচণ্ড রুচিশীল এবং সেই সংখ্যাটাই বেশি। আমি নেগেটিভ কথা বলতে চাই না। যে দর্শক আমার ভালো কনটেন্ট সাপোর্ট করে আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। 

ডেইলি বাংলাদেশ: ইউটিউব ভিত্তিক ফ্রি কনটেন্ট বানান, এটা ওটিটি ও ভিওডি এর মতো পেইড কনটেন্ট এর জন্য হুমকি নয় কি?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: ফ্রি কনটেন্ট বন্ধ করলে সবার এক সঙ্গে বন্ধ করতে হবে। এটা বহু বছরের অভ্যাস। ভারতীয়রা পেইড কন্টেন্টে দেখার অভ্যাস তৈরি করতে পেরেছে। সবাই এক সঙ্গে টাকা দিয়ে সিনেমা দেখবে, আমাদের দেশের মানুষকে এই প্র্যাকটিসটা করাতে হবে। প্র্যাকটিস শুরু করতে হবে ধীরে ধীরে। ফ্রি কনটেন্টও কমিয়ে দিতে হবে। ফ্রি বলে পৃথিবীতে কিছু নেই। একজন গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসায়ী কি আমাকে ফ্রি জামা গিফট দিবেন? পৃথিবীতে কোন সেক্টরটা আছে যেখানে ফ্রি? কিন্তু এদেশে কনটেন্ট ফ্রি। এটা হছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য। 

মাবরুর রশিদ বান্নাহ

ডেইলি বাংলাদেশ: আমরা নেটফ্লিক্স দেখি অনেক টাকা খরচ করে-
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: ঐ যে আমরা অভ্যাস তৈরি করেছি। আমাদের আসতে আসতে বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ এটা কমাতেই হবে। এছাড়া কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রি বাঁচবে না। 

ডেইলি বাংলাদেশ: আপনারা সিনিয়রদের থেকে শুরু হওয়া দরকার না?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: শুরু হচ্ছে না কে বললো! আইফ্লিক্স যখন প্রথম এসেছে কাজগুলো আমি করেছি। আরো অনেক ওটিটির জন্য কন্টেন্ট বানিয়েছি। ‘আমাজন প্রাইম’ এর মত আন্তর্জাতিক ভিডিও প্লাটফর্মে আমার কন্টেন্ট আছে। আমার আইফ্লিক্সের কাজগুলোর রেসপন্স খুব ভালো ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যভাবে সেটি ব্যাবসা করতে পারলো না এ দেশে। আমি জানিনা কেনো। আমি আইফ্লিক্স নিয়ে খুব আশাবাদী ছিলাম। 

ডেইলি বাংলাদেশ: অভিযোগ আছে ডিরেক্টরদের মধ্যে সিনিয়ররা সিন্ডিকেট মেইন্টেইন করে। এটা নিয়ে আপনার মতামত কি?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: সিন্ডিকেট একটা অভিযোগ। এটা কখনো ভালো জিনিস না। কে বা কারা বলছে, তাদের কি যোগ্যতা সেটাও আমার জানতে হবে। একটা মানুষ বললে তো হবে না। তাকে যোগ্য হতে হবে কথাটা বলার জন্য। অযোগ্য লোক যদি আমাকে নিয়ে কমেন্ট করে, আমি তো তার কমেন্ট নিবো না। আমি সেই মানুষের কমেন্ট নিবো যে যোগ্য।  যার কথার মূল্য আছে। আমি যুক্তিপূর্ণ কথা গ্রহণ করবো। মূর্খ, পিকেটার টাইপ মানুষগুলো ভাল কথা বলতে শেখেনি। তারা জানে ভাল কথা বলে আলোচনায় আসা যায় না। তাই খারাপ কথা বলে আলোচনায় আসে। আল্লাহর রহমতে আমার কাজ যারা দেখে তারা জানে; আমার থেকে বেশি ভার্সেটাইল এক্টর, এক্ট্রেস নিয়ে মার্কেটে আর একটা ডিরেক্টরও এতো নিয়মিত কাজ করে না। 

ডেইলি বাংলাদেশ: নতুনদের বেশি সুযোগ দিচ্ছেন বলে অনেক আপত্তিজনক মন্তব্য আসছে
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: নতুনদের কে অনেক সুযোগ দিয়েছি আমি। ২০১৫ সালে ‘নাইন এন্ড এ হাফ’ এর যেসব আর্টিস্টরা ছিল তাদের নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য এসেছিল। আমি কি তখন থেমে গিয়েছিলাম? তখন আমি আরো ছোট ছিলাম। আমাকে যে পরিমাণ খারাপ কথা শুনতে হয়েছিল সেই তুলনায় এটা কিছুই না। নতুনদেরকে সুযোগ আমরা না দিলে নতুনরা শিখবে কোথা থেকে? 

মাবরুর রশিদ বান্নাহ

আপনারা নতুনদেরও চাইবেন আবার সমালোচনাও করবেন। আমি নির্বাচন করে সিলেক্ট করবো নাকি? ভোটাভোটি করে কাস্টিং করতে হবে? আমি ডিরেক্টর, আমার গল্পে আমি কাকে নিবো এটা কি আমার জিজ্ঞসা করতে হবে? ফজলুর রহমান বাবু কাজ করেছেন প্রত্যয় হিরনের সঙ্গে। বাংলাদেশের একজন লিভিং লিজেন্ড এক্টর। তিনি কি কমেন্ট করেছেন? তিনি কি কম বুঝেন? তাহলে তিনি কেনো প্রত্যয় হিরনের সঙ্গে অভিনয় করলেন? অযোগ্য এবং অসভ্যরা সবসময় এভাবেই চিন্তা করে। সারাজীবন এভাবেই কথা বলে গেছে। আমি সিট ব্যাক এন্ড রিল্যাক্স ফর্মুলায় বিশ্বাসী। নতুনদের নিয়ে সমালোচকেরা ২০১৫ সালেও বলেছে, ২০২০ সালেও তারা বলছে। এখন এসব বিষয় আমি দুই পয়সারও দাম দেই না। 

ডেইলি বাংলাদেশ: সামাজিক অসংঘতি নিয়ে নাটকের ভাষায় কথা বলেন। এটা কি অব্যাহত থাকবে?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: এটা আমার করতে ভালো লাগে। পারিবারিক শিক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে নৈতিকতাগুলো শিখেছি। যে নৈতিকতাগুলো নিয়ে সামাজিক কথাগুলো বলি সেগুলো আমার শিক্ষারই ফল। শিক্ষারই প্রতিফলন। তাই এই কাজ আমি করছি এবং করে যাবো। আমাকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। 

ডেইলি বাংলাদেশ: সিনেমা নিয়ে প্ল্যান কি?
মাবরুর রশিদ বান্নাহ: সিনেমা নিয়ে আপাতত কোনো প্ল্যান নেই। প্ল্যান ছিল কিন্তু করোনা সব বাতিল করে দিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস