অধিভুক্তির ফলে শিক্ষার মান বেড়েছে- প্রফেসর নেহাল আহমেদ

অধিভুক্তির ফলে শিক্ষার মান বেড়েছে- প্রফেসর নেহাল আহমেদ

ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৫১ ২৫ নভেম্বর ২০২০  

অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ

অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ। অধ্যক্ষ হিসেবে এই কলেজে দেড় বছর পার করেছেন তিনি। ঢাকা কলেজসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাঈদুর রহমান তানভীর। 

সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা কতটুকু সফল বলে মনে করেন?
-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংখ্যা নয়, মানের দিক বিবেচনা করেই পাইলট প্রজেক্টের মতো সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী যে উদ্দেশ্য নিয়ে এটা করেছেন আমরা তার অনেকটাই পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। প্রথমদিকে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। কদিন আগেও বলেছিলাম সমুদ্রযাত্রায় আমরা মোটামুটি তীরেই পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে আবার পিছিয়ে পড়লাম। তবে অবশ্যই শিক্ষার মান বেড়েছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে পড়ালেখার গতি সঞ্চার হয়েছে। নতুন তিনটি সেশন এরই মধ্যে ভর্তি হয়েছে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস, নিয়মকানুন অনুযায়ী পরীক্ষা দিচ্ছে। আগামী দেড়-দুই বছর পর কেউ বুঝবে না সাত কলেজ যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আছে। 

শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কলেজে ডেডিকেটেড ডেস্ক চালু হওয়ার কথা। এখনো তা চালু হয়নি কেন? 
-অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকে কলেজের ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ডিপার্টমেন্টের সম্পর্ক করা হয়েছে। কোনো সমস্যা হলে শিক্ষার্থীরা কলেজের ডিপার্টমেন্টকে জানাবে। ডিপার্টমেন্ট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ডিপার্টমেন্টে দায়িত্বরতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- ডিপার্টমেন্ট থেকে সব তথ্য পাওয়া যায় না। এ সমস্যার সমাধান কী?
-আগে তো সব কলেজের অফিসকেন্দ্রীক ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরাও ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হচ্ছেন। আশা করি এখন থেকে শিক্ষার্থীরা সব সমস্যার সমাধান ডিপার্টমেন্ট থেকে পেয়ে যাবে। 

করোনার কারণে স্থগিত তৃতীয় বর্ষ ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা ফাইনাল পরীক্ষা নেয়ার দাবি করেছে। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন? 
-করোনা এখন বৈশ্বিক সমস্যা। ঢাকা কলেজের এখন পর্যন্ত ৩৯ জন শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তো হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না। এইচএসসি পরীক্ষা কত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবু আমাদের ছাড় দিতে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো আমি দেখেছি এবং পড়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। তাদের ভাইভাগুলো দ্রুত হয়ে যাবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেয়া হবে।

ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার গাফিলতি কী সাত কলেজের না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের? 
-এটা কারো গাফিলতি না। করোনা আমাদের থামিয়ে দিয়েছে। অনেক শিক্ষক পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে খাতা নিতে পারেনি। আবার অনেক শিক্ষক খাতা দেখা শেষ হলেও জমা দিতে দেরি হয়েছে। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক ছিল। তবু শিক্ষকরা যেসব ফলাফল তুলে দিতে পেরেছে তার জন্য আমি তাদের সাধুবাদ জানাই।

অনার্স চতুর্থ বর্ষে দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের মাস্টার্সে সুযোগ দেয়া হয়েছে। এটা কি প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই বিষয় বিবেচনা করা হবে?
-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিন (বিজনেস স্টাডিজ) মহোদয়ের কাছে এরই মধ্যে আবেদনপত্র পাঠিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল থেকে সিন্ধান্ত আসবে। এ বিষয়ে আশাবাদী।

মাস্টার্স ১৩-১৪, ১৪-১৫, ১৫-১৬ সেশন আইসিটি সাবজেক্ট পাস করার পরও এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেট দেয়নি কেন? 
-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুযায়ী পড়ানো হয়নি এবং তারা এ বিষয়ে তদারকি করেনি। এ কারণে সার্টিফিকেট দিতে চাচ্ছে না। এটা তো ডিপ্লোমা টাইপ কোর্স। কলেজগুলোর প্যাডে কলেজ থেকে সার্টিফিকেট দেয়া হবে। সামনে ঢাকা কলেজে আইসিটি ডিপার্টমেন্টই খুলে ফেলবো। আইসিটিতে অনার্স- মাস্টার্স করা যাবে। 

ঢাকা কলেজ নিয়ে আপনার কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা? 
-ঢাকা কলেজ আমার প্রাণের কলেজ। যদিও আমি এখানকার শিক্ষার্থী ছিলাম না। আমি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলাম। তবু ছাত্রজীবনে ঢাকা কলেজ আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। ১৮৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা কলেজ শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে। দেশের যেকোনো আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা কলেজ ভূমিকা রেখেছে। ফলাফলের দিক থেকে ঢাকা কলেজ সবসময় এক নম্বরে ছিল। গর্ব করে বলতে পারি ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠার পরে থেকেই এ আসন ধরে রেখেছে। ঢাকা কলেজ নিয়ে স্বপ্নের শেষ নেই, ভালোরও শেষ নেই। এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী সবাই আমরা একযোগে কাজ করছি। 

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে কি অবস্থায় আছে বা কতটুকু টিকে আছে বলে আপনি মনে করেন? 
-সারাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বলবো ঢাকা কলেজের খুব কম শিক্ষার্থী বেকার আছে। কর্মবাজারে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে- চাকরির পেছনে না ছুটে অন্যকে চাকরি দেয়ার মানসিকতা তৈরি করুন। ইদানিং শিক্ষার্থীদের মাঝে এই মানসিকতা তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী নিজেই বিজনেস শুরু করেছে। কয়দিন পরে এসে বলতেছে স্যার আমি তো ছোট একটা বিজনেস শুরু করেছিলাম এখন আমার অধীনেই অনেকে কাজ করছে। 

আপনার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেমন কেটেছে? 
-আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ছিল সংগ্রাম মুখর। আশির দশকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কাটিয়েছি। তখন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ছিল। মাস্টার্সের শেষ দিন পর্যন্ত আমরা আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম। স্বৈরাচার শাসনের যাতাকলে ছিলাম আমরা। ওই সময় আমাদের নিয়মিত ক্লাসের সুযোগ ছিল না। চার বছরের কোর্স শেষ করতে ছয় বা সাড়ে ছয় বছর লেগেছে। এখন নিয়মিত কোর্সগুলো শেষ হচ্ছে। আমাদের সময় এই সুযোগ ছিল না। 

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আপনার কী বার্তা থাকবে?
-ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলবো, শুধু ক্লাসের পড়াশোনায় না থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে এগিয়ে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে হবে। কোনোভাবেই জঙ্গিবাদ, মাদকের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধুর আজীবনের সংগ্রামের জন্য আমরা যে দেশ পেয়েছি তরুণ প্রজন্মই সেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাহলেই আমরা সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব। আমার ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা-আস্থা আছে। দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলছি তাদের জাতিকে অনেক কিছু দেয়ার আছে। তারা পারবে ইনশাআল্লাহ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম