পরীক্ষিত ও ত্যাগী প্রবীণ নেতারাই আওয়ামী লীগের ভিত্তি

পরীক্ষিত ও ত্যাগী প্রবীণ নেতারাই আওয়ামী লীগের ভিত্তি

জাফর আহমেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:১৭ ১৪ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৪:৩৪ ২১ নভেম্বর ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাসী। পরীক্ষিত ও ত্যাগী প্রবীণ নেতাদের ওপর ভিত্তি করে টিকে আছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া এ দল। তাই এখানে অনুপ্রবেশকারীদের নয়, জায়গা দেয়া হচ্ছে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের।’

সম্প্রতি ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগ) শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়সহ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন নিয়েও আলোচনা হয়।প্রতিবেদক জাফর আহমেদের সঙ্গে আলাপচারিতায় শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল

১৯৮৬ সালে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের রাজনীতির হাতেখড়ি শুরু। ১৯৮৭ সালে সিলেট এম সি কলেজ ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য, ১৯৯৩ সালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৭ সালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

২০০৪ সালে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, ২০১২ সালে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সবশেষ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। রাজনীতির পাশাপাশি খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত এই রাজনীতিবিদ। বর্তমানে তিনি বিসিবি’র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগের রাজনৈতিক অবস্থা কেমন?
 
শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল: রাজনৈতিকভাবে ময়মনসিংহ বিভাগের অবস্থান অত্যন্ত ভালো। এ বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জেলা, উপজেলা, সদরের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় এমপি ও কাউন্সিলরদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বৈঠক করেছি। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চের দিকে সব কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে আশার আলো হচ্ছে- জেলা আওয়ামী লীগের আগস্টের শোক সভা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মাঠের সংগঠনের পরিবেশ ফিরেছে আগের চেনা রূপে।

অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়ে ত্যাগীরা কি মূল ধারার রাজনীতিতে মূল্যায়িত হচ্ছে?
 
শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল: আওয়ামী লীগ যেসব ত্যাগী নেতাদের উপর ভর করে টিকে আছে তাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাও দলের প্রবীণ নেতাদের বিষয় জানেন, তাদের সঠিক মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয় কিছু নেতার কারণে ত্যাগীরা কোনো-কোনো ক্ষেত্রে মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হন। অন্য দলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা গুটি কয়েক নেতা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করার অভিযোগ রয়েছে। ওই সব অনুপ্রবেশকারীরাই আওয়ামী লীগের শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। স্থানীয় ত্যাগী কর্মীদের সহায়তায় কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। 

দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযানের প্রতিফলন কতটা ঘটেছে?

শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল: দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দৃঢ় নেতৃত্বে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সেজন্য তিনি বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। এটা যেমন সরকারে চলছে, তেমনি দলের ভেতরেও চলছে। এরই মধ্যে সহযোগী সংগঠনগুলোতেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। অবশ্যই সেটার প্রতিফলন ঘটছে। শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়ে এখনো চলছে।

কার আদর্শ ধারণ করে আপনার রাজনীতির হাতেখড়ি?
 
শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল: রাজনীতির হাতেখড়ি পারিবারিকভাবে হলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে ছাত্রদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছি। সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে ‘হল বাচাঁও’ আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতির পথচলা শুরু হয়। সে সময় এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর কাছে স্কুলের ছাত্রাবাস বিক্রি করেছিলেন বিএনপির শিক্ষামন্ত্রী। সেটা ফিরিয়ে আনতে ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলন শুরু করি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আবেগের জায়গা থেকেই ছাত্রলীগে যোগদান করি এবং তিনিই আমার রাজনীতির আইডল।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/আরএইচ