১৮ ঘণ্টা উঠোনে পড়ে থাকল করোনায় মৃত ব্যক্তির দেহ

১৮ ঘণ্টা উঠোনে পড়ে থাকল করোনায় মৃত ব্যক্তির দেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩০ ২২ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৭:৩১ ২২ এপ্রিল ২০২১

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মহামারি করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে নাকাল ভারত। দেশটিতে ভাইরাসটির সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই ঠিকমতো হচ্ছে না মৃতদের মরদেহ সৎকার। সম্প্রতি দেশটির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ঘটেছে এমনই একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

রাজ্যটির হুগলি জেলার সিঙ্গুরে করোনায় আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর পর তার মরদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যেতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

অভিযোগ উঠেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টায় রোগীর মৃত্যু হলেও প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর সেখানে পৌঁছান জেলা প্রশাসনের কর্মীরা।

সিঙ্গুর ব্লকের মির্জাপুর-বাঁকিপুর রেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ভোলানাথ পাল করোনা আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ মারা যান।

ওই বৃদ্ধের পরিবার থেকে বলা হয়েছে, বেশ কয়েকদিন অসুস্থ থাকার পর গত ১৭ এপ্রিল ভোলনাথের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

তার বাড়িতে স্ত্রী এবং ছেলে রয়েছে। শারীরিক অবস্থা খুব গুরুতর না হওয়ায়, ভোলানাথকে বাড়িতেই হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয় বলে দাবি তার ছেলে বাবিন পালের।

কিন্তু মঙ্গলবার ভোলানাথের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তার ছেলের অভিযোগ, বহুবার যোগাযোগ করেও অ্যাম্বুলেন্স আসেনি। এর পর রাত ১০টা নাগাদ অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছালেও ততক্ষণে ভোলানাথের মৃত্যু হয়।

এর পর অ্যাম্বুল্যান্স ফিরে যায়। তার পর থেকে বাড়ির উঠোনেই পড়ে থাকে বৃদ্ধের দেহ। অভিযোগ উঠেছে, বারবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য কেউ আসেনি।

সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে যায়। ভোলানাথের ছেলে বাবিন পাল অসহায়ভাবে বলেন, আমি কী করব বলুন। প্রশাসনকে অনেক বার জানিয়েছি। অপেক্ষা করা ছাড়া তো আমাদের কোনো উপায় নেই।

সংবাদমাধ্যমে এই খবর দেখানোর পর শেষ পর্যন্ত বিকেল ৪টা নাগাদ চুঁচুড়া থেকে প্রশাসনের কর্মীরা শববাহী গাড়ি নিয়ে গিয়ে ভোলানাথের দেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যায়।

প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে করোনা আক্রান্তের দেহ এভাবে উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যেও প্রবল আতঙ্ক ছড়ায়। দেহ নিয়ে যেতে এত সময় কেন লাগল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

যদিও দেহ নিতে আসা সরকারি এক কর্মী জানান, করোনা আক্রান্তদের দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য সহজে কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ এর আগে চুক্তির ভিত্তিতে যারা এ কাজ করছিলেন, তারা নিজেরাই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। নতুন করে কর্মী খুঁজে নিয়ে আসতে গিয়েই এত সময় লেগেছে।

সূত্র: নিউজ ১৮

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী