পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় পর্বের ভোটে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় পর্বের ভোটে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা

তপন বকসি, কলকাতা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:৩৩ ২ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ০৭:৪৫ ২ এপ্রিল ২০২১

১ এপ্রিল নন্দীগ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের লাইন । ছবি: এএফপি

১ এপ্রিল নন্দীগ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের লাইন । ছবি: এএফপি

বিক্ষিপ্ত সহিংসতার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ১৭তম বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হলো। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের তিনটি জেলা বাঁকুড়া, মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার ৩০ আসনে এ ভোট হয়। ভোটে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস আর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দুই হেভিওয়েট প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। দুজনেই মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থেকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

দ্বিতীয় দফায় তিন জেলার মোট ১৭১ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। এদিন সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনার মধ্যে এদিনের ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হয়। হাইভোল্টেজ কেন্দ্র বলে ভোটের আগের দিন থেকেই নির্বাচন কমিশন পুরো নন্দীগ্রামে ১৪৪ ধারা জারি করে দেয়।

বিভিন্ন স্থানে জোরদার পাহারা বসানো হয়। ২২ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এরপরেও সকালে মেদিনীপুরের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে বোমাবাজি, জোর করে বুথ দখল, মহিলাদের ভোট দিতে ভয় দেখানোর আবহ তৈরি করার খবর পৌঁছাতে থাকে। পূর্ব মেদিনীপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হন অন্তত দুই জন।

এক সময় খবর পেয়ে মমতা নিজেই সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে বেরিয়ে পড়েন। পূর্ব মেদিনীপুরের বয়াল ২-এর ৭ নম্বর বুথের ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে তৃণমূল আর বিজেপির সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি, হাতাহাতি ছাড়াও বাঁশ, লাঠি নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ পরিস্থিতিতে মমতা রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে ফোন করে ঘটনার বিবরণ দেন। কেউ কেউ বলেন, মমতাকে সশরীরে সামনে পেয়ে অনেকেই ভয় ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যোগে ভোট দিতে যান।

সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত পাওয়া খবরে দেখা যায়, মেদিনীপুর আর বাঁকুড়ায় ভোটগ্রহণ হয়েছে শতকরা ৮০ ভাগের ওপর। শতকরা হিসাবে দক্ষিণ ২৪ পরগণায় কিছু কম। ৭৯ শতাংশের কিছু বেশি।

৬ এপ্রিল তৃতীয় দফার ভোট রয়েছে হাওড়া, হুগলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাকি থাকা কিছু অঞ্চলে। মোট আসন সংখ্যা ৩১। ১ এপ্রিলের ভোটের পর যেমন আশাবাদী কথা শুনিয়েছেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু। তেমনই তৃণমূল কংগ্রেস  ঘোষণা করা দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অন্য কোনো অঞ্চল থেকে ভোটে  দাঁড়াবেন না। তিনি বুঝতে পেরেছেন তিনিই জিতছেন নন্দীগ্রাম থেকে।

উল্লেখ্য, মেদিনীপুরের তমলুকের ছেলে শুভেন্দু অধিকারী ১৯৯৫ সালে জাতীয় কংগ্রেসের পুরপিতা হিসাবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। তিন বছর কংগ্রেসে কাটিয়ে ১৯৯৮ সালে বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে। ২০০৬-এ পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির বিধায়ক হওয়ার পর ২০০৯-এ লোকসভায় জিতে সাংসদ হন। ২০১৪ তেও কাঁথির সাংসদ পদ ধরে রাখেন। আর সেই বছরেই লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে সারদা গোষ্ঠীর চিটফান্ড ঘটনার তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। তদন্তের স্বার্থে উঠে আসে শুভেন্দু অধিকারীর নাম।

ভোটের মাত্র তিন মাস আগে, ডিসেম্বরে তৃণমূল ছেড়ে দেয়ার পর শুভেন্দু নিজেই জানিয়েছিলেন, ২০১৪ থেকেই তিনি বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলছিলেন। তৃণমূল গঠনের পর সেই দলে যোগ দেয়ার পর থেকে শুভেন্দু যতবার নির্বাচন জিতেছেন, ততবারই বিভিন্ন মন্ত্রক আর সরকারি প্রশাসনিক পদ পেয়েছিলেন শুভেন্দু। 

তবে ভোটের আগে দল পালটানোকে ভালোভাবে নেননি মমতা। উল্টে তিনি মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে সরাসরি সম্মুখ সমরে নেমেছেন শুভেন্দুর সঙ্গে। তাই ১ এপ্রিল মেদিনীপুরের ভোটপর্ব ছিল সারাদেশের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

১০ মার্চ এই নন্দীগ্রামেই প্রচারের সময় বাঁ পায়ের গোড়ালিতে আঘাত পান মমতা। এরপর দুইদিন হাসপাতালে কাটিয়ে ব্যান্ডেজ করা অবস্থাতেই হুইলচেয়ারেই প্রচারের কাজ করতে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী মোমতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএইচ