খাশোগি হত্যার প্রতিবেদন থেকে রহস্যজনকভাবে তিনজনের নাম বাদ

খাশোগি হত্যার প্রতিবেদন থেকে রহস্যজনকভাবে তিনজনের নাম বাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৫৫ ১ মার্চ ২০২১  

ছবি: জামাল খাশোগি

ছবি: জামাল খাশোগি

সৌদি রাজপরিবারের কঠোর সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বহুল আলোচিত মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা আবার পরিবর্তন করা হয়েছে। বদল করা প্রতিবেদনে রহস্যজনকভাবে বাদ দেয়া হয়েছে তিনটি নাম।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর শুক্রবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। কিন্তু সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেটিকে রহস্যজনকভাবে বদলে আরো একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে আগের প্রতিবেদনে থাকা লোকজনের মধ্যে তিনজনের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যাও দেয়া হয়নি। অথচ আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, ওই তিন ব্যক্তিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। কিন্তু হুট করেই তাদের নাম কেন সরিয়ে দেয়া হলো তা এখনো পরিষ্কার নয়।

যে তিন ব্যক্তির নাম গায়েব করে দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রথম জন হলেন - আবদুল্লাহ মোহাম্মদ আল-হোয়ারিনি। খাশোগি হত্যায় আগে তার নাম আসেনি। তিনি সৌদি আরবের একজন ক্ষমতাধর মন্ত্রীর ভাই বলে জানা গেছে।

অপর দু’জন হলেন ইয়াসির খালিদ আলসালেম ও ইব্রাহিম আল-সালিম। তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

গত শুক্রবার বিকেলে জো বাইডেন প্রশাসন খাশোগি হত্যার গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায় যে, খাশোগিকে হত্যার অভিযানে সরাসরি অনুমোদন দিয়েছিলেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

এরপর বাইডেন প্রশাসন খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৭৬ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে সেই তালিকায় রাখা হয়নি হত্যার ‘নির্দেশদাতা’ মোহাম্মদ বিন সালমানকে।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রশাসন জানায়, সৌদি আরবের ‘শীর্ষ নেতা’ হওয়ার কারণেই তার ওপর কোনও ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না।

কিন্তু এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। বাইডেন প্রশাসন ক্রাউন প্রিন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে ক্ষোভ বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্সের (ওডিএনআই) প্রথম প্রতিবেদনটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর দ্বিতীয় সংস্করণে তিনজনের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। এর আগের প্রতিবেদনে খাশোগি হত্যায় অংশ নেয়া, হত্যার নির্দেশ বা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ওই তিনজনের নাম প্রতিবেদনে এসেছিল।

প্রথম প্রতিবেদনে তাদের নাম কেন এসেছিল, খাশোগি হত্যায় তাদের ভূমিকা কি ছিল অথবা পরবর্তী প্রতিবেদনেই বা তাদের নাম সরিয়ে দেয়া হলো কেন সে বিষয়ে ওডিএনআই-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।

তবে ওডিএনআই-এর মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সংশোধিত প্রতিবেদনটি আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছি। কারণ প্রথম প্রতিবেদনে ভুলক্রমে তিনজনের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে যা উচিত হয়নি।’

এদিকে, খাশোগি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোমবার ওই সাংবাদিকের বাগদত্তা হাতিস চেঙ্গিস ক্রাউন প্রিন্সের অবিলম্বে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়। সৌদির একটি কিলিং স্কোয়াড যুবরাজ সালমানের নির্দেশে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সে সময় খাশোগি মূলত তালাক সংক্রান্ত কাগজপত্রের জন্য সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার সঙ্গে হাতিস চেঙ্গিসের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওই কনস্যুলেটে তাকে হত্যার পর তার মরদেহ কি করা হয়েছে তা এখনও জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে রহস্য এখনও রয়েই গেছে।

সূত্র: সিএনএন

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী