মহামারি প্রতিরোধে সদস্যদেশগুলোর প্রতি সংহতির আহবান জাতিসংঘের

মহামারি প্রতিরোধে সদস্যদেশগুলোর প্রতি সংহতির আহবান জাতিসংঘের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:২৯ ৫ ডিসেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বিশ্ব এখন সবচেয়ে বড় সংকটে। জাতিসংঘ বলছে, তাদের ৭৫ বছরের ইতিহাসে বিশ্বে এমন সংকট খুব কমই দেখা গেছে। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সমাজ, অর্থনীতি, বাণিজ্য সবই করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত। এই মহামারি প্রতিরোধ ও এর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সংহতি ভীষণ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করে জাতিসংঘ।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের দুইদিনের সাধারণ অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশনটিতে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক সম্পাদক আলেক্স আজার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়িসহ প্রায় ৫৩ রাষ্ট্রপ্রধান, ৩৯ জন সরকারপ্রধান ও ৩৮ জন মন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করে। এ সম্মেলনে মহামারি মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরো বেশি ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানায় চীন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন , ১৯৩ সদস্যের সাধারণ অধিবেশনটি শুরু হওয়ার আগে চীনের পূর্বে ধারণকৃত বক্তব্যের জন্য বিশেষ অধিবেশন হওয়া উঠিত ছিল। এছাড়া শুক্রবার প্যানেল আলোচনায় প্রশ্নগুলো সীমাবদ্ধ করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, আমার বিশ্বাস চীন নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার জন্য এই দুই দিনের মধ্যে একটি খুব কার্যকর প্রচার চালাবে।

এর পাল্টা প্রতিত্রিয়ায় নিউইয়র্ক জাতিসংঘে চীনের মিশনের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র করোনা ইস্যুটির রাজনীতিকরণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষে নয়।

চলতি বছরে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই প্রকাশ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমালোচনা শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, হু পুরো বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ‘চীনের পুতুল’ বলেও তিরস্কার করেন তিনি আর্থিক অনুদান দেয়া বন্ধ করে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। মার্কিন এ প্রত্যাহারটি আগামী বছরের জুলাইয়ে কার্যকর হবে। তবে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই পদক্ষেপটি প্রত্যাহার করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, চীনে প্রথম শনাক্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার প্রায় একমাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে  কোভিড-১৯ সংক্রমণ ছিল বলে জাতিসংঘের অধিবেশনে বেইজিং দাবি করবেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ দাবি অনুমান ভিত্তিক বলে জানিয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের আধিকারিকরা বলেছেন যে তারা  এই সপ্তাহে  একটি আখ্যানকে চাপ দেবে বলে আশা করেছিল যে এই ভাইরাসটি গত বছর চীনা শহর উহান শহরে আবিষ্কার হওয়ার আগেই বিদেশে ছিল, এমন এক দাবি ডাব্লুএইচও বলেছে যে “অত্যন্ত অনুমানমূলক”।

এদিকে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক সম্পাদক আলেক্স আজার ভিডিও বিবৃতিতে চীনকে সরাসরি আক্রমণ করবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে তার প্রস্তুতকৃত মন্তব্যের একটি পাঠ্যসূচি অনুসারে, তিনি এই প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য ভাগ করে নেয়ার অভাবকে উল্লেখ করেছেন। তিনি পুরো বিশ্বকে এ ভাইরাস মোকাবিলার জন্য আহ্বান জানান।

চীনকে উদ্দেশ্য করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, করোনাকে আমরা যুদ্ধের অস্ত্র বলব না, তবে এটিকে গুরুতর হুমকি হিসাবে বিবেচনা করতে হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট ফাইজার এবং এর জার্মান অংশীদার বায়োএনটেকের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রথম চালান যুক্তরাজ্যে পৌছেঁছে। এই চালানের টিকা কারা পাবেন তা দেশটির টিকাদান কমিটির সুপারিশ এবং সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে অগ্রাধিকারের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন কেয়ার হোমসে থাকা বয়স্ক জনগণ এবং কেয়ার হোমের স্টাফরা। এরপরই থাকছেন যাদের বয়স ৮০ এর ওপরে এবং স্বাস্থসেবা কর্মীরা। গত ২৪ ঘটনায় বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এ খবর পৌঁছেছে। 

উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর জাতিসংঘের যাত্রা শুরু। মহাযুদ্ধ শেষে বিশ্ব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। বিশ্বের মানুষ শান্তি চেয়েছিল। শুরু থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘ। গত ৭৫ বছরে বিশ্বে বহু দেশ যুদ্ধে জড়িয়েছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে জাতিসংঘের কাছে। বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা দূর করা বহু বছরের পুরোনো চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। অন্য একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ শরণার্থী পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। ১৪টি অঙ্গ সংস্থা (ইউএনডিপি, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ ইত্যাদি), ১৪টি বিশেষায়িত এজেন্সি (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক ইত্যাদি) এবং আরও ৫টি পৃথক সংস্থার মাধ্যমে জাতিসংঘ বিশ্বের ১৯৩টি দেশে কাজ করে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীনে গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে। মহামারির প্রথম আঘাতটি আসে স্বাস্থ্য খাতে। করোনা সংক্রমণের চরিত্র বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের জানা ছিল না। এর চিকিৎসায় কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। রোগী ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করণীয় বুঝে ওঠার আগেই অনেক মানুষ মারা যেতে থাকেন। সম্পূর্ণ নতুন পরিস্থিতিতে অক্সিজেন সরবরাহ, ভেন্টিলেটর নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিতর্ক দেখা দেয়। দেশে দেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকে।

সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর পন্থা হিসেবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দেয়া হয়। বন্ধ করা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশ্বে প্রায় ১৩৭ কোটি শিক্ষার্থী করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ