চাঁদের পাথর-মাটি আনছে চীনা রকেট, পাঠাচ্ছে রঙিন ছবি

চাঁদের পাথর-মাটি আনছে চীনা রকেট, পাঠাচ্ছে রঙিন ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৩৬ ৪ ডিসেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চীনের রকেট চাঁদের বুকে অবতরণ করেই পাঠিয়েছে প্রথম রঙিন ছবি। ল্যান্ডারটির পাঠানো প্যানোরামিক ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে মহাকাশযানটির পা। একইসঙ্গে দেখা যাচ্ছে বিস্তৃত চাঁদের মাটি। ওই মাটিই আনবে চীনা রকেট।

ল্যান্ডারটি চাঁদে অবতরণ করেছে গত মঙ্গলবার। অবতরণের পরপরই সেটি পৃথিবীতে পাঠানোর জন্য পাথর ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করা শুরু করছে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে। সংগ্রহ করা নমুনাগুলো প্রথমে পাঠানো হবে চাঁদকে প্রদক্ষিণকারী আরেকটি মহাকাশযানে। পরে ওই যানটি নমুনা নিয়ে ফিরে আসবে পৃথিবীতে। আর এ কাজ শুরু হবে বৃহস্পতিবার থেকে।

চীন গত সাত বছরে চ্যাঙই-৫ মহাকাশযান চাঁদে পাঠিয়েছে তিনবার। এর আগে চ্যাঙই-৩ নামের স্ট্যাটিক ল্যান্ডার এবং চ্যাঙই-৪ নামের একটি ছোট রোভার নামিয়েছিল তারা। তবে আগের দুটো অভিযানের তুলনায় অনেক বেশি জটিল এবারের অভিযানটি। কয়েক দিন আগেই পৃথিবী ছেড়ে যায় ৮.২ টন ওজনের চীনা রকেটটি।

এরপর মাল্টি মডিউল প্রোবটি ঘুরতে থাকে চাঁদের কক্ষ পথে। পরে সেটি ভাগ হয় দু’ভাগে। এক ভাগে ছিল একটি ল্যান্ডার ও আরেক ভাগে অ্যাসেন্ডার রকেট, যা চাঁদে অবতরণ করে। পৃথিবীতে ফিরে আসার কাজে ব্যবহার করা হবে অন্য ভাগটি।

ভাগ হওয়ার পর ল্যান্ডারটি এখন দেখতে একটি চামচের মতো এবং এটিই ড্রিল ব্যবহার করে চাঁদের ভূপৃষ্ঠের নমুনা সংগ্রহ করছে। নমুনা সংগ্রহের কাজ শেষ হলে অ্যাসেন্ডারের মাধ্যমে চাঁদ প্রদক্ষিণকারী রকেটে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে শুরু হবে পৃথিবীতে ফিরে আসার মিশন। তবে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে পাথর ও মাটি শেষবার আনা হয়েছিলো ৪৪ বছর আগে।

আমেরিকান অ্যাপোলো মিশনের নভোচারীরা ও সোভিয়েত আমলের রোবটিক ল্যান্ডার এনেছিলো প্রায় ৪০০ কেজি নমুনা। ওইসব নমুনা ছিল খুবই প্রাচীন, যা আনুমানিক ৩০০ কোটি বছর আগে। তবে চ্যাঙই-৫ যে নমুনাগুলো আনবে তা একেবারেই ভিন্ন। চীনা মিশনের নমুনা সংগ্রহের জায়গাটির নাম মন্স রুকমার। এই জায়গার নমুনা ১২০০ থেকে ১৩০০ কোটি বছর পুরনো।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, চ্যাঙই-৫ মিশনে সংগ্রহ করা দুই কিলোগ্রাম নমুনা চাঁদের সৃষ্টি, গঠন ও সেখানে আগ্নেয়িগিরির সক্রিয়তা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। একটি ক্যাপসুলে করে এই নমুনা পৃথিবীতে ফেরত পাঠানো হবে, যেটি অবতরণ করবে উত্তর চীনের মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ