সাধারণ মায়ের পেটে ‘মোগলি’র জন্ম, স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে ক্রাউডফান্ডিং

সাধারণ মায়ের পেটে ‘মোগলি’র জন্ম, স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে ক্রাউডফান্ডিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:২৩ ৩ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:৪৫ ৩ ডিসেম্বর ২০২০

ক্রাউডফান্ডিং শুরু, ঘুচবে বাস্তবের ‘মোগলি’র দুর্দশা

ক্রাউডফান্ডিং শুরু, ঘুচবে বাস্তবের ‘মোগলি’র দুর্দশা

রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের গল্পের নায়কটির মতোই জঙ্গলে গিয়ে বেশির ভাগ সময় কাটান ২১ বছর বয়সি বাস্তবের ‘মোগলি’ জেঞ্জিম্যান এলি। সন্তানের এমন জীবন কোনো মা-ই চায় না। 

সম্প্রতি ‘আফ্রিম্যাক্স’ নামের স্খানীয় টিভি চ্যানেলে একটি সাক্ষাৎকার দেন এলি মা। এবার সেই চ্যানেল দাঁড়িয়েছে এলি ও তার মায়ের পাশে। তাদের জীবনযাপনের দুর্দশা ঘোচানোর লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ক্রাউডফান্ডিং।

এলির মা জানিয়েছিলেন, তিনি নিজের প্রথম পাঁচটি সন্তানকে হারিয়েছিলেন। এক সময় তার মনে হয়েছিল, এ জীবনে হয়তো মাতৃত্বের স্থায়ী সুখ তার অধরাই থেকে যাবে। সেই সময়ই ১৯৯৯ সালে তার জীবনে আসে এলি। কিন্তু তবুও সেই সন্তানের জীবনে কোনো সুখের জোগান করতে পারেননি মা।

মাইক্রোসেফালি নামের একটি বিরল রোগে আক্রান্তের মাথা শরীরের তুলনায় অনেকটাই ছোট থাকে। এই কারণে ছোট থেকে সে কথাও বলতে পারে না। 

একেবারে ‘আলাদা’হওয়ায় গ্রামের লোকেরা এলিকে তাড়া করে, ঢিল ছোঁড়ে। তাদের উদ্দ্যেশেও অদ্ভুত মুখভঙ্গি করে এলি। তথাকথিত সভ্য এবং আধুনিক সমাজের আদব-কায়দা সে বোঝে না। বোঝে না সামাজিক কোনো নিয়মকানুন। কথাও বলতে পারে না। 

মায়ের আক্ষেপ সন্তানকে স্কুলেও পাঠাতে পারেননি তিনি। পরিবারের কোনো উপার্জনও নেই সেই অর্থে। তার কথা শোনার পর এবার ওই চ্যানেলের পক্ষ থেকেই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এলি ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। খোলা হয়েছে ‘গোফান্ডমি’ নামের এক পেইজ। সেই পেইজে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফে লেখা হয়েছে, ‘‘এই একলা মা ও তার সন্তানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসুন। কোনো উপার্জন নেই। তাই খাদ্যের অভাবে ভুগছে পরিবারটি। এই তরুণটিকে জঙ্গলে গিয়ে ঘাস খেতে হয় খিদের তাড়নায়। আসুন এই ছেলেটি ও তার মায়ের জীবন বাঁচাই।’’

এই আবেদনে মিলেছে অভূতপূর্ব সাড়া। এরই মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ডলার ফান্ডে জমা হয়েছে। বহু মানুষের আবেগপ্রবণ মন্তব্যও রয়েছে পেইজে। তার মধ্যেই একজন লিখেছেন, ‘‘ওর মধ্যে কী বিশেষত্ব আছে, সেটা কেবল আবিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায়। ঈশ্বর নিশ্চয়ই ওর মধ্যে কোনো বিশেষ গুণ দিয়েছেন।’’

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস