নিহতের কৃত্রিম পা দিয়ে বিয়ার পান করছিলেন অস্ট্রেলিয় সেনারা

নিহতের কৃত্রিম পা দিয়ে বিয়ার পান করছিলেন অস্ট্রেলিয় সেনারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৩৭ ২ ডিসেম্বর ২০২০  

নিহতের কৃত্রিম পা দিয়ে বিয়ার পান করছিলেন অস্ট্রেলিয় সেনারা

নিহতের কৃত্রিম পা দিয়ে বিয়ার পান করছিলেন অস্ট্রেলিয় সেনারা

আফগানিস্তানের একটি অননুমোদিত বারে একজন মারা যাওয়া তালেবান সৈন্যের কৃত্রিম পা থেকে বিয়ার পান করেছিল অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র স্পেশাল ফোর্সেসের সৈন্যরা। আর এমন জঘন্য কাজের একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

মঙ্গলবার জঘন্য ছবিটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ করে গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বাহিনীর জ্যেষ্ঠ এক সেনা নিহত তালেবান যোদ্ধার কৃত্রিম পা দিয়ে মদ পান করছেন। মদপানকারী সেনা এখনো অস্ট্রেলিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন।

সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, ২০০৯ সালে আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের রাজধানী তারিন কোট শহরে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বাহিনীর শিবিরে ফ্যাট লেডিস আর্মস নামের অনুমোদনহীন পানশালা স্থাপন করা হয়। সেখানেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

এ নিয়ে গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বিভাগ একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে আফগানিস্তানে বিশেষ বাহিনীর সেনাদের নৃশংসতা তুলে ধরা হয়। এরই মধ্যে অন্তত ১৩ সেনা সদস্যকে বরখাস্তের নোটিশ দেয়া হয়েছে। বরখাস্তের নোটিশ পাওয়া সেনারা ৩৯ আফগান বেসামরিক নাগরিক হত্যায় অভিযুক্ত বলে জানা গেছে। এর মধ্যে দেশটির বিশেষ বাহিনীর সেনাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন এই ভয়াবহ প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে।

আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, দুজন অস্ট্রেলিয়ান সৈন্য নিহত তালেবান যোদ্ধার কৃত্রিম পা নিয়ে নাচানাচি করে ছবি তুলছেন।

গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের এপ্রিলে কৃত্রিম পা ব্যবহারকারী সন্দেহভাজন ওই তালেবান যোদ্ধা উরুজগানের কাকারাকে সার্স-২ স্কোয়াড্রন নামের হামলায় নিহত হন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যোদ্ধা নিহত হবার পর তার কৃত্রিম পা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফ্যাট লেডিস আর্মস পানশালায় নিয়ে আসা হয়। দর্শনার্থীরা মাঝে মাঝে এটাকে মদ পানের পাত্র হিসেবে ব্যবহার করতো।

কিছু সেনা জানান, কৃত্রিম পা দিয়ে মদ পানের বিষয়টি জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের কাছে নিয়মিত ব্যাপার ছিল। কখনো কখনো জুনিয়ররাও এটি দিয়ে মদ পান করতো। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অঙ্গপ্রতঙ্গ নিয়ে আসা অস্ট্রেলীয় সেনাদের জন্য নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও যুদ্ধের ট্রফি হিসেবে কৃত্রিম পা-টি নিয়ে আসা হয়।
এ পর্যন্ত যেসব তথ্য প্রমাণ মিলেছে তার ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দা এবং বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায় বিচারের দাবি উঠছে।

আফগানিস্তান, তুরস্ক এবং চীন এ ঘটনায় বিস্তৃত তদন্ত দাবি করেছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ