ইরানি বিজ্ঞানী হত্যায় তুরস্ক-রাশিয়ার নিন্দা

ইরানি বিজ্ঞানী হত্যায় তুরস্ক-রাশিয়ার নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৩ ১ ডিসেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মহসেন ফখরিজাদেহকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ক্ষমতাধর দেশ রাশিয়া ও ইউরোপের মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্ক। আলাদা বিবৃতিতে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্মম এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। সোমবার সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতির মাধ্যমে বলছে, এই ধরনের উস্কানিমূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল এবং সংঘাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধির জন্য যে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে, তা সুস্পষ্ট।

এতে আরো বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, এমন পদক্ষেপ নেয়া থেকে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই আমরা।

রাশিয়ার মন্ত্রণালয় বিবৃতি দেয়ার আগেই তুরস্কের পক্ষ থেকে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসী হামলায় ইরানি বিজ্ঞানী মহসেন ফখরিজাদেহ নিহত হওয়ার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। আমরা এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানাই আমরা। একই সঙ্গে ইরান সরকার এবং নিহত বিজ্ঞানীর পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা তুরস্কের।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বে যে কোনো ধরনের শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রচেষ্টার প্রতি নিন্দা জানায় তুরস্ক সরকার। আঙ্কারা সবরকম সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, তা যেই করুক এবং যারাই এর শিকার হোক।

বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সংস্থার চেয়ারম্যান মহসেন ফখরিজাদেহ গত শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলে তার কাছাকাছি অন্য একটি গাড়ি থেকে রিমোট কন্ট্রোলড বন্দুকের মাধ্যমে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং অন্যান্য নেতারা। শুক্রবার একটি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে করে তার স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। সে সময় নিরাপত্তাবাহিনীর তিনটি গাড়ি তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল। এসময় তার গাড়িতে একটি বুলেট লাগার শব্দ হলে তা দেখতে তিনি বের হন। এরপরেই একটি রিমোট কন্ট্রোলড বন্দুক থেকে গুলি ছোড়া হয়।

জানা যায়, ফখরিজাদেহের গাড়ি থেকে ১৫০ মিটার দূর থেকে তাকে গুলি করা হয়েছিল। তাকে অন্তত ৩টি গুলি করা হয়। এ সময় ফখরিজাদেহের দেহরক্ষীকেও গুলি করা হয়। তাদের উপর প্রায় ৩ মিনিট হামলা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ