পাল্টাপাল্টি রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার, মন্টেনিগ্রো-সার্বিয়ায় উত্তেজনা

পাল্টাপাল্টি রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার, মন্টেনিগ্রো-সার্বিয়ায় উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৩ ২৯ নভেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সার্বিয়ার রাষ্ট্রদূতকে সার্বভৌমত্ব অবমাননার দায়ে বহিষ্কার করেছে মন্টেনিগ্রো। জবাবে সার্বিয়াও মন্টেনিগ্রোর রাষ্ট্রদূতকে নিজ দেশ থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। মন্টিনিগ্রোতে সার্বপন্থী নতুন সরকারের শপথ নেয়ার আগে আগে এ ঘটনা ঘটলো। একে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ঘটনার ব্যাখ্যায় মন্টেনিগ্রোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগত দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর কারণেই সার্বিয়ান রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত শনিবার মন্টেনিগ্রো সার্বিয়ান রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির বোজোভিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দেশ থেকে বহিষ্কার করলে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সার্বিয়া সেদেশে নিযুক্ত মন্টেনিগ্রোর রাষ্ট্রদূত তারজান মিলোসেভিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বহিষ্কার করে।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আগে থেকেই চলমান বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক এ ঘটনার জেরে আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠল। একসময় সার্বিয়া-মন্টেনিগ্রো দুটোই একই রাষ্ট্র ছিল। পরে ২০০৬ সালে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করে মন্টেনিগ্রো। দেশটির জনগণের একটি অংশ চায় সার্বিয়া ও রাশিয়ার অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের সঙ্গে মিত্রতা। আর আরেকটি অংশ চায় পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে। টানা ৩০ বছর ধরে মন্টিনিগ্রোকে নেতৃত্ব দি্চ্ছেন প্রেসিডেন্ট মিলো দুকানোভিক। তবে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার পরাজয় হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই রাশিয়া ও সার্বিয়াপন্থী নতুন জোট সরকারের শপথ নেয়ার কথা।

আর তার আগে শনিবার মন্টিনিগ্রোতে নিয়োজিত সার্বিয়ার দূত ভ্লাদিমির বোজোভিককে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ‘মন্টিনিগ্রোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ করেছেন। দেশত্যাগের জন্য ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে তাকে। এরপর নিজেদের দেশে নিয়োজিত মন্টিনিগ্রোর রাষ্ট্রদূত টারজান মিলোসেভিকের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় সার্বিয়া। তাকেও বহিষ্কার করে দেশ ত্যাগ করতে বলা হয়।

মন্টিনিগ্রোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সার্বিয়ার রাষ্ট্রদূত বোজোভিক ১৯১৮ সালে সার্বিয়ার আধিপত্যাধীন রাজ্যে মন্টিনিগ্রোর যুক্ত হওয়াকে দেশটির ‘স্বাধীনতা’ ও ‘জনগণের মুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে বোজোভিক সরাসরি মন্টিনিগ্রোকে অসম্মান করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। কারণ, ২০১৮ সালে দেশটির পার্লামেন্ট শতাব্দী পুরনো এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিল। বলা হয়েছিল, এর মধ্য দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ