অঙ্গ চুরির দায়ে চীনা চিকিৎসকের কারাদণ্ড

অঙ্গ চুরির দায়ে চীনা চিকিৎসকের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০৮ ২৭ নভেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দুর্ঘটনায় নিহতদের শরীর থেকে অবৈধভাবে অঙ্গ সংগ্রহের দায়ে চীনে চিকিৎসকসহ ছয় ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২০১৭-২০১৮ সালের মধ্যে দেশটির আনহুই প্রদেশের একটি হাসপাতাল থেকে ১১ জনের শরীর থেকে কিডনি ও লিভার সংগ্রহ করায় তাদের এই সাজা প্রদান করা হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে মানুষের অঙ্গ প্রতিস্থাপন সহজতর হয়েছে। ফলে প্রতিস্থাপনে আগ্রহী মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। আর এর প্রভাবে প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ সংগ্রহের মারাত্মক সংকট পড়েছে চীনে। বৈধভাবে অঙ্গ দানের মাধ্যমে সেই সংকট মোকাবিলা করছে দেশটি। এর মধ্যেই আনহুই প্রদেশের ওই হাসপাতালে অবৈধভাবে অঙ্গ সংগ্রহকারী চক্রটির কার্যক্রম শনাক্ত করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অঙ্গ চুরির চক্রের দণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের অঙ্গ সংগ্রহকারী বিভাগে কর্মরত চার জন ঊর্ধ্বতন চিকিৎসক। খবরে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু ছিলো হুয়াইউনুয়ান কাউন্টি পিপল’র হাসপাতালে আসা গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার কিংবা মস্তিষ্কে অনিয়ন্ত্রিত রক্তক্ষরণের রোগীরা।

হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের প্রধান ইয়াং সুক্সুয়ান রোগীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতো। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হতো প্রিয়জনদের অঙ্গ দানের ক্ষেত্রে তাদের সম্মতি আছে কিনা। পরিবারের সদস্যরা তখন সম্মতি পত্র স্বাক্ষর করতে পারতো। পরে জানা যায়, সেগুলো আসলেই ভুয়া সম্মতি পত্র।

পরে সেই মৃতদেহ কিংবা রোগীকে মধ্যরাতে হাসপাতালটি থেকে বের করে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের মতো দেখতে একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানেই তাদের শরীর থেকে এসব অঙ্গ সংগ্রহ করা হতো। পরে সেসব অঙ্গ প্রতিস্থাপনে আগ্রহী বিভিন্ন ব্যক্তি কিংবা অন্য হাসপাতালের কাছে বিক্রি করতো। আগ্রহী এসব ব্যক্তি ও হাসপাতালগুলো গোপনে চক্রটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো।

ঘটনার শিকার এক ব্যক্তির ছেলে সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়ার জেরে এই চক্রটির খোঁজ পাওয়া যায়। ২০১৮ সালে মায়ের মৃত্যুর কয়েক মাস পর সি জিয়ানলিন পরিবারের কাছে থাকা অঙ্গদান সংক্রান্ত নথিপত্রগুলো আবার খতিয়ে দেখতে যান। ফর্মটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ শুন্য থাকার পাশাপাশি বেশ কিছু অসামঞ্জস্যতা দেখতে পান তিনি। পরে তিনি আবিষ্কার করেন, প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ কিংবা বেইজিংয়ে চীনের অঙ্গ দান প্রশাসন সেন্টার কোথাও তার মায়ের অঙ্গদানের রেকর্ড নেই।

স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে সি জিয়ানলিন জানান, এসব অসামঞ্জস্যের বিষয়ে তিনি যখন হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের প্রধান ইয়াং সুক্সুয়ানের কাছে জানতে চান, তখনই তাকে মুখ বন্ধ রাখতে বিপুল টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। জিয়ানলিন বলেন, ‘তখনই আমি নিশ্চিত হলাম খুব অদ্ভূত কিছু ঘটে চলেছে।’ সঙ্গে সঙ্গে তিনি এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন।

অঙ্গ চুরির চক্রটির ছয় সদস্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে মৃতদেহ ধ্বংসের দায়ে গত জুলাইতে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মামলাটি এখন নতুন করে সামনে আসার কারণ সি জিয়ানলিন এখনই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন।

চীনা কর্তৃপক্ষ বহুদিন ধরে নিহত কারাবন্দিদের শরীর থেকে অঙ্গ সংগ্রহ করে অন্যদের শরীরে প্রতিস্থাপন করেছে। তবে চীনের এই চর্চাটি বিশ্ব জুড়ে তুমুল সমালোচিত। ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই চর্চা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় বেইজিং কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে জানায়, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠবে।

বর্তমানে দেশটি চাহিদা মেটাতে ন্যাশনাল অর্গান ব্যাংকে দানকৃত অঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। বিগত কয়েক বছরে চীনে অঙ্গ দানের হার বেড়েছে। তবে এখনও বিশ্বের বহু দেশ থেকেই এই হার অনেক কম। স্পেনে যেখানে প্রতি দশলাখে ৪৯ জন অঙ্গদান করে সেখানে চীনে এই হার ৪ দশমিক ৪।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী