ত্রুটি ধরা পড়ায় আবারো ট্রায়ালে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন

ত্রুটি ধরা পড়ায় আবারো ট্রায়ালে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৫ ২৭ নভেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কার্যকারীতায় ত্রুটি ধরা পড়ায় ফের ট্রায়ালের জন্য নেয়া হচ্ছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভ্যাকসিন।

এ সম্পর্কে অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভ্যাকসিনে বেশি কার্যকরী ফলাফল পেতে আগের তুলনায় ডোজ কমিয়ে আনা হবে এবারের ট্রায়ালে।

সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবকদের একাংশকে একটি ডোজ দেয়ার পর আরেকটি পূর্ণাঙ্গ ডোজ না দিয়ে ভুল করে অর্ধেক ডোজ দেয়ার পর ভ্যাকসিনের সাফল্যের হার ৯০ শতাংশ পাওয়ায় ভ্যাকসিনটির সত্যিকারের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ বিষয়ে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিনের অধ্যাপক পিটার ওপেনশ বলেন, ‘আমাদের ট্রায়ালের সম্পূর্ণ তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলো এই ফলকে কিভাবে দেখে।’

ভ্যাকসিন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলোর পর্যালোচনার ফল ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে বলেও ধারণা দিয়েছেন তিনি।

সোমবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওষুধনির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা এক ঘোষণায় অক্সফোর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে বানানো তাদের পরীক্ষামূলক কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ব্রাজিল ও যুক্তরাজ্যে করা চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালের ফলে গড়ে ৭০ শতাংশ সফলতার কথা জানায়।

এর মধ্যে বেশিরভাগ স্বেচ্ছাসেবককে দুটি পূর্ণাঙ্গ ডোজ দেয়া হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনটির সাফল্য ৬২ শতাংশ। আর যে খুব ছোট অংশকে ভুল করে দেড় ডোজ দেয়া হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে সাফল্যের হার পাওয়া যায় চোখ ধাঁধানো, ৯০ শতাংশ।

এই ফলাফল নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। বলা হচ্ছে, যেখানে দুটি পূর্ণাঙ্গ ডোজ দিচ্ছে ৬২ শতাংশ সফলতা, সেখানে ভুল করে যাদের দেড় ডোজ দেয়া হল, তাদের সাফল্য কীভাবে ৯০ শতাংশ হয়? ভুল করে যে অর্ধেক ডোজ দেয়া হয়েছিল, তা কিভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পূর্ণাঙ্গ ডোজের চেয়েও বেশি বাড়িয়ে দেয়?

গবেষকরা এজন্য এখন অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালের সম্পূর্ণ তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছেন।  বিভ্রান্তি এড়াতে অ্যাস্ট্রাজেনেকাও নতুন ট্রায়ালের চিন্তাভাবনা করছে।

নিয়ম অনুযায়ী, ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ট্রায়ালের পূর্ণাঙ্গ ফল মেডিকেল জার্নালে প্রকাশ করে পর্যালোচনার জন্য দিতে হয়। এর মধ্যেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ভ্যাকসিনের জরুরি অনুমোদনের জন্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলোর অনুমোদন পেতে কোনো ভ্যাকসিনকে অবশ্যই ন্যূনতম ৫০ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হতে হবে।

ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত কোভিড ভ্যাকসিনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সফলতার কোনো ন্যূনতম মানদণ্ড ঠিক করেনি।

এসব বিবেচনায় অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের অনুমোদন পেতে কোনো ঝামেলা হওয়ার কথা না থাকলেও তাদের ট্রায়ালের ফলের ব্যাপক পর্যালোচনার আগে ভ্যাকসিনটির জরুরি অনুমোদন মিলছে না বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী