তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত ৩৩৭ জনের যাবজ্জীবন

তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জড়িত ৩৩৭ জনের যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪২ ২৭ নভেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের দায়ে সেনা কর্মকর্তাসহ ৩৩৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশটির একটি আদালত এ রায় ঘোষণা করে।

২০১৬ সালের জুলাই মাসের ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে সামরিক বাহিনীর প্রায় ৫০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এরদোগানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেন ছিলেন এই চক্রান্তের মূল হোতা। তবে তিনি এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।

অভিযোগে বলা হয় আঙ্কারার কাছে আকিনঞ্চি বিমানঘাঁটি থেকে এই ষড়যন্ত্র পরিচালনা করা হয়।

তুরস্কের সবচেয়ে বড় আদালতের এজলাসে যখন বিচারক বৃহস্পতিবার রায় পড়ে শোনাচ্ছিলেন, তখন সেখানে ছিল চাপা উত্তেজনা। আদালত কক্ষে হাজির করা হয়েছিল অভিযুক্তদের।

এই মামলার বিচার শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন ২৫ জন জেনারেল এবং দশ জন বেসামরিক ব্যক্তি।

যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন অনেক সেনা অফিসার। আছেন তুরস্কের বিমান বাহিনীর কয়েকজন পাইলট, যারা আঙ্কারায় পার্লামেন্ট ভবনে বোমা বর্ষণ করেছিলেন।

চার বছর আগের সেই ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সময় নিহত হয় ২৫১ জন এবং আহত হয় দুই হাজারের ওপর লোক। ওই সময় এরদোগান একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে ছুটি কাটাচ্ছিলেন।

অভিযোগে বলা হয় ওই অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে হত্যার এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো দখলের চক্রান্ত করা হয়। এটি ছিল তুরস্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

অভ্যুত্থান বিফল হওয়ার পর দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়। শিক্ষক ও বিচারপতিসহ প্রায় এক লাখ সরকারি কর্মচারীকে চাকুরিচ্যুত করা হয়। অভিযোগ করা হয় এদের সঙ্গে গুলেনের যোগাযোগ ছিল। দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

তখন অভিযোগ উঠেছিল, প্রেসিডেন্ট এরদোগান এই সুযোগে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে তুরস্কে তার রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূল করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সরকার বলেছিল, তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এদেরকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কারের প্রয়োজন ছিল।

গুলেনের নেতৃত্বাধীন হিজমেত আন্দোলন গোষ্ঠীকে এরদোগান ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর থেকে ৭৯ বছর বয়স্ক ধর্মীয় নেতা গুলেন আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় বসবাস করছেন। তুরস্ক সরকার তাকে প্রত্যাপর্ণের দাবি জানিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী