ট্রাম্প ও বাইডেনের ওপর আস্থা নেই মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের

ট্রাম্প ও বাইডেনের ওপর আস্থা নেই মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:২৬ ২৯ অক্টোবর ২০২০  

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের ওপর আস্থা নেই মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের। সম্প্রতি আরব দেশগুলোতে চালানো এক জরিপে এ তথ্য জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাদের দুইজনের মধ্যে কেউই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার জন্য ভালো হবে না বলে মতামত তাদের।

জরিপ গবেষণা সংস্থা ইউগভ ও সৌদি মালিকানাধীন সংবাদপত্র আরব নিউজের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেক এই মতামত ব্যক্ত করেছেন। বাকি অর্ধেকের মধ্যে ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার জন্য বাইডেন বেশি উপযুক্ত এবং ১২ শতাংশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভালো মনে করেছেন।

গত সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্যের ১৮টি দেশে অনলাইনের মাধ্যমে এই জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপের শিরোনাম ছিলো, আরবরা কি চাইছেন?

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা তার প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাট প্রাথী জো বাইডেন কেউই দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে জনপ্রিয় বলে বিবেচিত হননি। তবে বাইডেনকে সামান্য এগিয়ে রেখেছেন তারা। মূলত, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটি পছন্দ করেননি জরিপে অংশ গ্রহণকারীদের ৮৯ শতাংশ মানুষ। তবে ইরাক ও ইয়েমেনের মানুষ পছন্দ করেছেন ট্রাম্পকে। তারা মনে করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়াসহ অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প যেটা সমর্থন করেছেন তারা।

ইরাকে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৫৭ শতাংশ বলেছেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের রেভ্যুলিউশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নেতা জেনারেল কাসেম সোলায়মানিকে হত্যা করার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেন তারা। অন্যদিকে, সিরিয়ার ঠিক একই সংখ্যক মানুষ অর্থাৎ ৫৭ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরোধী।

নতুন দৃষ্টিভঙ্গি:

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে কাজ করেছেন জো বাইডেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, ওই প্রশাসন সম্পর্কে তাদের মতামত কি।

উত্তরদাতারা বাইডেন সম্পর্কেও তেমন উৎসাহ দেখাননি। তাদের অধিকাংশই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা তার সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নজর দেননি ও তাদের জন্য তেমন কিছুই করেননি তিনি। তারা বলেছেন, এবার যদি বাইডেন নির্বাচিত হন তাহলে তারা আশা করবেন যে ওবামার নীতি থেকে দূরে থাকবেন তিনি। এবার ক্ষমতায় আসলে তিনি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবেন বলেও আশা করেছেন তারা।

ইসরায়েলের ব্যাপারে মার্কিন নীতির প্রতি ফিলিস্তিনের মানুষের যে ঐতিহাসিক অনাস্থা রয়েছে সেটি বিবেচনায় নিলে ফিলিস্তিনি যারা এই জরিপে অংশ নিয়েছেন তাদের উত্তর কিছুটা অবাক হবার মতোই। একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আরো বেশি ভূমিকা নেয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছেন জরিপে অংশগ্রহণকারী ফিলিস্তিনিরা।

অগ্রাধিকার:

জরিপে প্রশ্ন ছিলো, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে। যারা জরিপে অংশ নিয়েছেন তাদের প্রায় ৭৫ শতাংশ আশা করছেন হোয়াইট হাউসে প্রশাসনের দায়িত্বে যিনি আসবেন তিনি আরবদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া আরো সহজ করে দেবেন।

সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে দেখা গেছে, আরব তরুণদের তুলনামূলকভাবে বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাইরে চলে যেতে আগ্রহী। বিশেষ করে লেবানন থেকে যেখানে দুর্নীতির কারণে ও অর্থনীতি ভেঙে পড়ায় বহু মানুষ তাদের ভবিষ্যত নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

ইসলামী কট্টরপন্থা দমন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এ প্রশ্নের উত্তরে মাত্র ২৪ শতাংশ বলেছেন, এটিকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। ৪৪ শতাংশ মনে করেন আরব-ইসরায়েলি দ্বন্দ্বের সমাধানকে যুক্তরাষ্ট্রের আরো বেশি অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। আর ৩৭ শতাংশের মত হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এখন করোনাভাইরাসের মোকাবিলা করা।

জরিপে আরো যেসব বিষয় নিয়ে মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ওই অঞ্চলে সুশাসনের অভাব ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা। ২০১১ সালে এসব ক্ষেত্রে জন অসন্তোষের জেরেই জন্ম নিয়েছিলো আরব বসন্ত নামে পরিচিত প্রতিবাদ আন্দোলন।

সূত্র- বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ