অর্থনীতিতে নতুন নেতা পেতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া

অর্থনীতিতে নতুন নেতা পেতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৫২ ২৪ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা

ছবি: বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা

১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক তথ্য সম্প্রতি কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা অঞ্চলটিকে। সেই তথ্যে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ভারতকে মাথাপিছু জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) পেছনে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ, যেখানে পাঁচ বছর আগেও ভারত বাংলাদেশের চেয়ে ২৫ শতাংশ এগিয়ে ছিল।

এক্ষেত্রে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, এই পরিবর্তনে বড় একটি ভূমিকা রেখেছে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস। ভারত যখন ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে লড়াই করে যাচ্ছে, বাংলাদেশের তথ্য নির্ভর উদ্ভাবনী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং দ্রুতবর্ধনশীল ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন অর্থনীতিকে ক্রমবর্ধমান থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।

কিন্তু বিশ্ব কি লক্ষ্য করবে এবং বুঝতে পারবে যে চিরাচরিত দেশগুলির বাইরে দক্ষিণ এশিয়ায় আরো নতুন (এবং আরো স্থিতিশীল) অংশীদার রয়েছে? নতুন ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ কি বাণিজ্য চুক্তির জন্য বেঙ্গল টাইগারকে অগ্রাধিকার দেবে? এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট (তা সে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা জো বাইডেন যেই নির্বাচিত হোক) বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রাধিকার হিসাবে বিবেচনা করবে? নাকি পরিচিত অংশীদারদের সঙ্গেই থাকবে?

অবশ্যই এই সংবাদ সেই হিসেবকে বদলে দেবে যার দ্বারা একটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং শক্তি বিচার করা হয়। একটি দেশের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মুদ্রা, রফতানি এবং শাসনের দিকে নজর দেয়ার পরিবর্তে এখন থেকে জননিরাপত্তা সক্ষমতা ও জাতীয় সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও প্রাধান্য দেয়া হবে।

জিডিপি র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের এই বড় লাফের ক্ষেত্রে কেবল নিজেদের প্রবৃদ্ধিই অবদান রেখেছে তা নয়, করোনা সংকট মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতের ধারাবাহিক ব্যার্থতাও বেশ বড় ভূমিকা রেখেছে।

মহামারির মধ্যেও একটি দেশ কিভাবে তার অর্থনীতির স্রোতকে স্বাভাবিক রাখতে পারে, তার একটি উদাহরন চীন। দেশটিতে জনগণের ক্রয় ক্ষমতা এরই মধ্যে মহামারির পূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং দেশটির জিডিপি হ্রাস পাবার বদলে ত্রৈমাসিকের শেষ প্রান্তিকে এসে পাঁচ শতাংশ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে চীন একটি চূড়ান্ত উদাহরন। এই দেশটি ছাড়াও বিশ্বে আরো অনেক দেশ আছে যারা করোনা মহামারিকে সফলভাবে সামাল দিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রেখেছে এবং এই দেশগুলোর থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো অনেক কিছু শিখতে এবং ভুলত্রুটি এড়াতে পারে।

সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী