এক ঘণ্টা পেছাচ্ছে ইউরোপের ঘড়ির কাঁটা

এক ঘণ্টা পেছাচ্ছে ইউরোপের ঘড়ির কাঁটা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২৪ ২৪ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২২:১৮ ২৪ অক্টোবর ২০২০

এক ঘণ্টা পেছাচ্ছে ইউরোপের ঘড়ির কাঁটা-ফাইল ছবি।

এক ঘণ্টা পেছাচ্ছে ইউরোপের ঘড়ির কাঁটা-ফাইল ছবি।

প্রতিবারের ন্যায় এবারো ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন হচ্ছে। ২৫ অক্টোবর স্থানীয় সময় রাত ৩ টা থেকে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে আনা হবে। অর্থ্যাৎ ঘড়ির ৩ টার কাঁটা ২ টায় আনা হবে। 

জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম অর্থাৎ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশই সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান টাইম জোনকে অনুসরণ করে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান টাইম জোনে থাকা দেশগুলোর সময়ের ব্যবধান হবে পাঁচ ঘণ্টা। এছাড়া সারা পৃথিবীতে সময় নির্ণয়ের জন্য প্যারামিটার হিসেবে পরিচিত গ্রিনউইচ মিন টাইম বা জিএমটির সঙ্গে ইউরোপের সেন্ট্রাল দেশগুলোর সময়ের ব্যবধান এক ঘণ্টায় এসে পৌঁছাবে।

অন্যদিকে রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, বেলারুশ, ইউক্রেন, গ্রীস অর্থাৎ পূর্ব ইউরোপিয়ান টাইম জোনে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে আগামীকাল থেকে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য হবে চার ঘণ্টা। গ্রিনউইচ মিন টাইম বা জিএমটির সঙ্গে এখন থেকে পূর্ব ইউরোপিয়ান টাইম জোনে থাকা দেশগুলোর সময়ের পার্থক্য দুই ঘণ্টা হবে।

আগামীকাল থেকে ইউরোপের দেশ গ্রেট ব্রিটেন ও পর্তুগালের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য হবে ছয় ঘণ্টা। উল্লেখ্য, প্রত্যেক বছরের মার্চ মাসের শেষ রোববার ও অক্টোবর মাসের শেষ রোববার অর্থাৎ বছরে দুইবার ইউরোপের দেশগুলো তাদের সময়ের পরিবর্তন ঘটায়।

২০০১ সাল থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে কাঁটা পরিবর্তনের বিষয়টি শুরু হয়। তখনকার সময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এক অধিবেশনে সদস্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে ঘড়ির কাঁটার পরিবর্তনের বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করে। এ কারণে প্রত্যেক বছরের মার্চ মাসের শেষ রোববার ঘড়ির কাঁটাকে এক ঘণ্টা এগিয়ে নেয়া হয়, যাকে ‘সামার টাইম’ বলা হয়।

আবার অক্টোবর মাসের শেষ রোববার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে আবার মূল সময় ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়, যা ‘উইন্টার টাইম’ হিসেবে পরিচিত।

এদিকে ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঘড়ির কাঁটার পরিবর্তনের বিপক্ষে এক প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে ইউরোপিয়ান কমিশন। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অধীনে থাকা দেশগুলোর শতকরা ৮৪ ভাগ মানুষ ঘড়ির কাঁটার পরিবর্তনের বিপক্ষে। তারা মনে করেন, বছরে দুইবার সময় পরিবর্তন তাদের প্রাত্যহিক জীবনে খুব বেশি কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না।

২০১৯ সালের ২৬ মার্চ কমিশনের পক্ষ থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্টে অফিসিয়ালি এ বিষয়ে প্রস্তাবনা দেয়া হয়। 
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যদি এ প্রস্তাবনা গ্রহণ করে তাহলে আগামী বছর থেকে হয়তো এরকমভাবে আর সময়ের পরিবর্তন আনা হবে না। সেক্ষেত্রে ‘সামার টাইম’ এবং ‘উইন্টার টাইম’ ইউরোপ থেকে বিদায় নিতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ