চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে লাভবান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও

চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়নে লাভবান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৯ ২২ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২০:২৩ ২২ অক্টোবর ২০২০

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যে চীনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিছু কিছু মার্কিন বহুজাতিক সংস্থাগুলোর জন্যেও বেশ লাভবান প্রমাণিত হয়েছে। সোমবার প্রকাশিত জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের জিডিপি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রসারিত হয়েছে। এই উন্নয়ন কিছু পশ্চিমা সংস্থাগুলোকেও লাভবান করেছে।

ডমিনোস পিজ্জা জানিয়েছে, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের খুচরা বিক্রয় বৃদ্ধি তার আন্তর্জাতিক ব্যবসাকে ধরে রেখেছে। এটি এমন এক সময়ে হয়েছে যখন মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এই কোম্পানির বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০০টি আউটলেট বন্ধ ছিলো।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ডমিনোস কোম্পানির সিইও রিচার্ড অ্যালিসন চলতি মাসের শুরুতে চীনকে এক ভয়ঙ্কর সাফল্যের গল্প হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে আমাদের কয়েকটি বাজারে কিছুটা মন্দা থাকলেও চীন অবশ্যই তাদের মধ্যে নয়। অ্যালিসন আরো বলেন, খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে চীন এই কোম্পানির বৃহত্তম বাজার হবে বলে আশা করছেন তিনি।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেরিল্যান্ড-ভিত্তিক মশলা প্রস্তুতকারী ম্যাককর্মিক অ্যান্ড কোম্পানি জানিয়েছে, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী এর বিক্রি তিন মাসের মধ্যে এক শতাংশ কমেছে। কারণ পশ্চিমা রেস্তোরাগুলোতে চাহিদা কম ছিলো। চীন না থাকলে এই ক্ষতির পরিমাণ আরো মারাত্মক হতো বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

শুক্রবার ফোর্ড মোটর কোম্পানি জানিয়েছে, বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনে তাদের বিক্রি ২৫ শতাংশ বেড়েছে। মিশিগান গাড়ি প্রস্তুতকারকের প্রায় তিন বছরের অবনতির পরে বিশ্বের বৃহত্তম অটো মার্কেটে টানা দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক বিক্রয় বৃদ্ধি এটি।

গত ১২ অক্টোবর জেনারেল মোটরস কোম্পানি জানিয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে চীনে তাদের গাড়ির বিক্রয় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জিএম’র সাংহাই ভিত্তিক এসএআইসি মোটর কর্পের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ রয়েছে যা বুয়িক, শেভ্রোলেট ও ক্যাডিলাক যানবাহন তৈরি করে।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে চীনে যানবাহন বিক্রয় সামগ্রিকভাবে ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক বিবৃতিতে জিএম জানিয়েছে, এই বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে তৃতীয় ত্রৈমাসিকের গণ-মার্কেট বুয়িক ব্র্যান্ডের অধীনে জিএম গাড়িগুলোর বিক্রয় ২৬ শতাংশ বেড়েছে ও ক্যাডিল্যাকের বিক্রি ২৮ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্কেচার্সের চিফ অপারেটিং অফিসার ডেভিড ওয়েনবার্গ বিশ্লেষকদের বলেছেন, ক্যালিফোর্নিয়া কোম্পানির দ্বিতীয়-প্রান্তিকের বিক্রয় এক বছর আগের তুলনায় সামগ্রিকভাবে ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে একই কোম্পানির বৃদ্ধি চীনে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে চীনের জিডিপি ১ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইএমএফ’র পূর্বাভাস অনুযায়ী, মার্কিন অর্থনীতি চলতি বছর ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে এবং ইউরোপ অঞ্চলের ক্ষেত্রে এটি হ্রাস পেতে পারে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

এশিয়া বিষয়ক এক ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক টম ফুডি টুইটারে লিখেছেন, চীনের জিডিপি সংখ্যার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হচ্ছে এটি শুধুমাত্র অর্থনীতিই বিকাশ করছে না বরং করোনা মহামারির কারণে অর্থনীতিতে যা ক্ষতি হয়েছে সেটি চলতি বছরের মধ্যেই পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে দেশটি। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশ অর্থনীতির এই ক্ষতি ২০২১ সালের মধ্যেও পূরণ করতে সক্ষম হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সিঙ্গাপুরের নমুরা হোল্ডিংসের ম্যাক্রো গবেষণার গ্লোবাল প্রধান রব সুব্বারমানের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ ডটকম জানিয়েছে, অর্থনীতিতে চীনের এই পুনরুদ্ধার পুরো বিশ্বের জন্য একটি উত্সাহজনক ও আশাবাদী বার্তা। আপনি যদি স্বাস্থ্য সংকটকে সফলভাবে পরিচালনা করেন তবে আপনার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবেন।

ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সোমবার কোয়ালকম ইনকর্পোরেট ও জেনারেল মোটরসসহ কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে চীনের শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলোকে চীনের বাজারে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার জন্য স্বাগত জানায় দেশটি। এটি একটি ন্যায্য পরিবেশ তৈরিতে সচেষ্ট হবে বলেও জানায় মন্ত্রণালয়। চীনের শিল্প ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী জিয়াও ইয়াকিং মার্কিন-চীন বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে একটি ভিডিও বৈঠককালে এই মন্তব্য করেছেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজনেস কাউন্সিলের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ৫-জি প্রযুক্তি ও নতুন জ্বালানি যানবাহনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বাজারের অবস্থা কতটা ভালো বিবৃতিতে সে সম্পর্কেও মন্তব্য করেছেন জিয়াও।

ভারতের ডাটা ট্র্যাকার টিজরি ফিন্যান্স জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোতে অবস্থিত কোয়ালকম যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অর্ধপরিবাহী প্রস্তুতকারকদের মধ্যে অন্যতম যারা আয়ের জন্য প্রচুর পরিমাণে চীনের ওপর নির্ভর করে। সেখানে কোম্পানিটির বিক্রির পরিমাণ ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ। কোয়ালকমের বেশিরভাগ চালান স্মার্টফোন ও অন্যান্য পণ্যগুলোকে একত্রিত করে এমন কারখানায় যায়। এর প্রধান গ্রাহকদের মধ্যে শাওমি, লেনোভো ও অপ্পো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

টিজরি আরো জানিয়েছে, মাইক্রন প্রযুক্তি তার উপার্জনের ৫৭ দশমিক ১ শতাংশ চীন থেকে পায় ও যুক্তরাষ্ট্রে পায় ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। ইডাহো-ভিত্তিক এই প্রযুক্তি সংস্থা ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভের মতো পণ্য তৈরি করে। চীনে ব্রডকম ও টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের নিজ নিজ বিক্রয়ের পরিমাণ ৪০ শতাংশ।

এরইমধ্যে মার্কিন সরকার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলে চীনের বৃহত্তম অর্ধপরিবাহী প্রস্তুতকারক হুয়াওয়ে টেকনোলজিস কোম্পানি ও এসএমআই’র কাছে মার্কিন প্রযুক্তি বিক্রয়কে সীমাবদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি সংস্থাগুলো মার্কিন-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও কাজ করছে।

সূত্র- চায়না ডেইলি

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ