ভারতের করোনা পরিস্থিতি বিপজ্জনক করে তুলবে বায়ুদূষণ

ভারতের করোনা পরিস্থিতি বিপজ্জনক করে তুলবে বায়ুদূষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৩ ২১ অক্টোবর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর ভারতে আবারো একটি পরিচিত দৃশ্যের সূত্রপাত হয়েছে। মাড়াই করা শষ্যক্ষেত্রে ফসলের অবশিষ্টাংশ খড় পোড়াচ্ছেন কৃষকরা। বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া বিভিন্ন রাজ্যের সীমা পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে শহর ও নগরীতে। বাতাস হলদে রঙের ও ভারী।

প্রতি বছর শীতের শুরুতে দীপাবলী উৎসবের আগে এই ঘটনা ঘটে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে রাজধানী নয়াদিল্লি। সেখানে এই ধেঁয়ার সঙ্গে যুক্ত হয় যানবাহনের কালো ধোঁয়া, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নির্মানাধীন ভবনের ধুলা, দীপাবলীতে জ্বালানো আতশবাজির অতি ব্যবহার বাতাসকে বিষিয়ে তুলে।  এর ফলে পুরো বসন্তকাল দিল্লির আকাশে ঘুরতে থাকে এক বিষাক্ত মেঘ।

জানা গেছে, এ বছর হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের কৃষকদের ফসলের গোড়া পোড়ানো থেকে নিবৃত করতে চেয়েছিল সরকার। তবে তা আর সম্ভব হয়নি। এই দুই রাজ্যের মাঝখানে দিল্লির অবস্থান। এ কারণে সব ধোঁয়া এসে জমা হচ্ছে দিল্লির আকাশেই। 

নতুন এক গবেষণা বলছে, বায়ু দূষণের এমন বিপর্যয় ভারতের করোনা পরিস্থিতি অবনতির জন্য আরো ভয়াবহ দুঃসংবাদ নিয়ে আসছে। এর মধ্যেই দূষণের মৌসুম শুরু হওয়ায় পুরো স্বাস্থ্যখাতই ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ এ ধরণের দূষণ কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য মারাত্মক। এর মধ্যে এসময় ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অনেক রোগী।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বায়ুতে বিপজ্জনক দূষণকারী বস্তুকণার ২ দশমিক ৫ মাইক্রোগ্রাম ঘনমিটার বৃদ্ধিতে করোনার মৃত্যুর হার ৮ শতাংশ করে।

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের আরেকটি গবেষণায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের বৃদ্ধি এবং বায়ুদূষণকারী পদার্থ ও নাইট্রোজেন অক্সাইড, যানবাহনের ধোঁয়া, জীবাশ্ম জ্বালানীর মাত্রারিক্ত ব্যবহারের সংযোগ রয়েছে।

গবেষণাটির সহ-লেখক মার্কো ট্রাভাগ্লিও সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে জানান, এ জাতীয় দূষণকারী বস্তুকণা প্রদাহের মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এবং শ্বাসকষ্টজনিত ভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এদিকে দিল্লিতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বায়ুদূষণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতাকে ছাড়িয়ে গেছে। বায়ুদূষণের মাত্রা চরম বৃদ্ধি পেয়েছে। বেশ কয়েক মাস লকডাউনের ফলে দিল্লির লোকজন পরিচ্ছন্ন বায়ুতে শ্বাস নিতে পারছিলেন। তবে সম্প্রতি আবারো বেড়ে গেছে এই ভয়াবহতা। তবে দূষণের ফলে কোভিড ১৯ এর ভয়াবহতা কতটা বেড়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে ভারতে কোনো গবেষণা বা পরীক্ষা দেখা যায়নি। যদিও চিকিৎসক এবং মহামারি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে গেছেন যে, বিষাক্ত বায়ু করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।

ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণ দেশ। দেশটিতে প্রায় ৭৬ লাখ মানুষ আক্রান্ত ও ১ লাখ ১৫ হাজারের অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই সংখ্যা বাড়িয়ে তুলবে।

মহামারির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম দিল্লি। আর সেই দিল্লিতেই বাড়ছে বায়ুদূষণের তীব্রতা।

এই শীতে দিল্লির পরিস্থিতি সত্যিই মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে- বলছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শীর্ষ গবেষক ড. ফ্রান্সেসকা ডোমিনিসি। এই অবস্থায় দূষণ কমাতে না পারলে ভারতের কোভিড-১৯ মোকাবেলাও বাধাগ্রস্ত হবে, তাই  ভারতের দূষণ কমানোর উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ