উৎসব পালন নিয়ে ভারতবাসীকে সতর্ক করলেন মোদি

উৎসব পালন নিয়ে ভারতবাসীকে সতর্ক করলেন মোদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:১৬ ২০ অক্টোবর ২০২০  

নরেন্দ্র মোদি

নরেন্দ্র মোদি

ভারতজুড়ে চলছে উৎসবের মৌসুম। শুরু হয়ে গেছে নবরাত্রি। নিয়ম মেনে এখন পর্যন্ত দুর্গাপূজা শুরু না হলেও প্রথমা-দ্বিতীয়া থেকেই মণ্ডপে-মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। এই অবস্থায় ভারতে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা থেকে এই বিষয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভাষণে এই উৎসব নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন তিনি।

মোদি বলেন, উৎসবের মৌসুমে আনন্দ, উৎসাহ স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের সামান্যতম অসাবধানতার জন্য সেই আনন্দ মাটি হতে পারে। তাই মনে রাখুন, যতদিন ওষুধ নয়, ততদিন কোনো অবহেলা নয়।

দুর্গাপূজার প্রস্তুতিতে এরইমধ্যে ঢাকে কাঠি পড়েছে। এমনকি কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পরও অনেক জায়গায় ভিড় চোখ পড়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে এটি।

বর্তমানে ভারতে করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা নিম্নমুখী। মঙ্গলবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চব্বিশ ঘণ্টায় ভারতে ৪৬ হাজার ৭৯০ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্তকরা হয়েছে। গত তিন মাসে দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে সর্বনিম্ন এটি। একইসঙ্গে সুস্থতার হারও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বভাবতই উৎসবের মৌসুমে বেপরোয়া মনোভাবের জেরে সংক্রমণ বাড়ুক এমনটা চায়না মোদি সরকার।

ভাষণে মোদি বলেন, করোনার ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে গেলেই প্রত্যেক দেশবাসীর কাছে কিভাবে সেটি দ্রুত পাঠানো যায় সেই প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে সরকার। তাই যতদিন না আমরা পুরো সাফল্য পাচ্ছি ততদিন বেপরোয়াভাবে কাজ করলে হবে না। যতদিন না ভ্যাকসিন আসছে ততদিন আমরা করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনো ধরণের অবহেলা করতে পারবো না।

তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত ছিলো। কিন্তু হঠাত করেই সেখানে আবারো সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। তাই এখন মনে করলে হবে না যে করোনা চলে গেছে বা করোনা আর কোনো ক্ষতি করবে না। গত কয়েকদিনে আমরা একাধিক ভিডিও দেখেছি যে মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব আছে।

মোদি আরো বলেন, বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় ভারতের অবস্থা বেশ ভালো। ভারতের আক্রান্তের হার অনেক কম। দেশে করোনা রোগীদের জন্য ৯০ লাখের বেশি শয্যা আছে। ১২ হাজার কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র আছে। দেশে টেস্টের সংখ্যা শিগগিরই ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে লকডাউন চলে গেলেও ভাইরাস যায়নি। পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেয়া আমাদের উচিত হবে না।

সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ