তাইওয়ানে মার্কিন হস্তক্ষেপ রোধ করবে চীনের হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র: বিশ্লেষক

তাইওয়ানে মার্কিন হস্তক্ষেপ রোধ করবে চীনের হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র: বিশ্লেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:৪১ ১৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২২:৪১ ১৯ অক্টোবর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাইওয়ানের পাশে চীনের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অত্যাধুনিক ডিএফ-১৭ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে হংকংয়ের সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশের পর বিশ্লেষকরা জানান, পিএলএ’র এই ক্ষেপণাস্ত্র তাইওয়ানে মার্কিন হস্তক্ষেপ রোধ করতে পারবে।

রোববার বিশ্লেষকরা জানান, পিএলএ’র এই হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি আটকানো সম্ভব নয়। ফলে এটি তাইওয়ান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে পারবে। এছাড়া তাইওয়ানকে নিয়ন্ত্রণ করতে ও সেখানে বৈদেশিক হস্তক্ষেপ দূরে রাখতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তারা।

অজ্ঞাত এক সূত্রের বরাত দিয়ে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, তাইওয়ানের পাশের ওই অঞ্চল থেকে পুরনো ডিএফ-১১ ও ডিএফ-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে অত্যাধুনিক ডিএফ-১৭ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে চীন। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ও অনেক বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি। এটি ২৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম বলেও জানানো হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইপেই ভিত্তিক সংবাদপত্র লিবার্টি টাইমসসহ আরো কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ডিএফ-১৭ তাইওয়ানের পূর্বদিকে অবস্থিত তাইটং ও হুয়ালিয়েনে বিমানবাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে সরাসরি আক্রমণ করতে সক্ষম। তাইওয়ানের গণমাধ্যম আরো উল্লেখ করেছে যে, সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতির জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে জে -২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান ওমেরিন কর্পস ইউনিট স্থাপন করছে পিএলএ।

রোববার বেইজিং ভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ ওয়েই দোংশু গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, হংকং ও তাইওয়ানের গণমাধ্যমগুলো চীনের মূল ভূখণ্ডের কৌশলগত অস্ত্রগুলোর গতিবিধি ও বিকাশের দিকে গভীর মনোযোগ দিচ্ছে। তবে তাদের বেশিরভাগ প্রতিবেদনই খাঁটি জল্পনা মাত্র। ডিএফ-১৭ মোতায়েনের তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পোঁছানো এতোটা সহজলভ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চীনের মূল ভূখণ্ডের ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ইয়াং চেঞ্জুন গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো চীনের জাতীয় দিবসের সামরিক প্যারেডে নতুন বিকাশমান স্বল্প-মাঝারি-পরিসরের ডিএফ-১৭ হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রদর্শিত হয়েছিলো। শত্রুদের এই ক্ষেপণাস্ত্রকে বাঁধা দেয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ানে মোতায়েন থাকা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থ্যাড, এসএম-৩ ও প্যাট্রিয়ট মিসাইলও ডিএফ-১৭ এর বিরুদ্ধে কাজ করবে না।

ওয়েই দোংশু বলেন, ডিএফ-১৭ যদি তাইওয়ানের নিকটে সামনের দিকে মোতায়েন করা হয় তবে এটি কার্যকরভাবে অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এটি তাইওয়ান বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাঁধা দিতে সক্ষম হবে ও বিদেশী হস্তক্ষেপ দূরে রাখতে পারবে।

চীনের এই বিশেষজ্ঞ আরো বলেন, পিএলএ’র রকেট ফোর্সের পুরানো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোই তাইওয়ানের বেশিরভাগ মূল সামরিক স্থাপনাগুলো নিশ্চিহ্ন করার জন্য যথেষ্ট। এক্ষেত্রে তাইওয়ান তাদের বাঁধা দিতেও সক্ষম নয়। তাই তাদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ডিএফ-১৭ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। তবে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করলে ডিএফ -১৭ যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও অন্যান্য অবস্থান থেকে সেনাবাহিনীকে থামাতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

সূত্র-গ্লোবাল টাইমস

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ