করোনাভাইরাসের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত

করোনাভাইরাসের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪২ ১৯ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৭ ১৯ অক্টোবর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত। দেশটিকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে ফিরিয়ে আনতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। বৈশ্বিক এই মহামারি আঘাত হানার পর থেকেই বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে ভারত।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, ভারত সরকার তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সংশোধন করতে অস্বীকার করেছে। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা ও এরপরে ভারতে কাজ করা চীনের ব্যবসায়ীদের ওপর নিষেধাজ্ঞাগুলো দেশটির অর্থনৈতিকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

অবিচ্ছিন্নভাবে চীনকে মোকাবিলা করা, সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে সংঘর্ষ চালিয়ে যাওয়া, চীনের প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করা এবং তাইওয়ানের বিষয়ে অনুপ্রবেশ করার ফলে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা আরো বাড়বে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, দুই দেশের মধ্যকার শত্রুতা মোদি সরকার কর্তৃক বিভক্ত না করা হলে সেগুলো ভারতের জাতীয় কল্যাণের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

১৯৯৬ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে এপ্রিল থেকে জুনের কোয়ার্টারে ভারতের জিডিপি ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এবার ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ভারতীয় জিডিপিতে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ সংকোচনের অনুমান করেছে গোল্ডম্যান স্যাকস গ্রুপ।

আইএমএফ’র সর্বশেষ হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে যে, ২০২০ সালে মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক ৪ দশমিক ৩ শতাংশ সংকোচনের তুলনায় ও চীনের ইতিবাচক ১ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় ভারতের অর্থনীতি ১০ দশমিক ৩ শতাংশ কমবে। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে  চীনের অর্থনীতি ভারতের তুলনায় কমপক্ষে ৬ গুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১০ সাল থেকে ভারত তার অর্থনৈতিক উদারকরণের নীতিগুলোর জন্য কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এটি মৌলিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ ও তার উত্পাদন শিল্পকে শক্তিশালীকরণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের দুটি সর্বাধিক জনবহুল দেশের মধ্যে সম্পর্ক তখন থেকেই শীতল হতে শুরু করেছিলো। তাই স্পষ্টতই, বর্তমান ভারত সরকার সীমান্তে উস্কানিমূলক পদক্ষেপের কারণে চীনের জনগণের শ্রদ্ধা অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া সম্প্রতি ভারতে চীনের অ্যাপ টিকটক ও উইচ্যাট নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তও দেশটির অর্থনৈতিকে আরো ক্ষতিগ্রস্থ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র- গ্লোবাল টাইমস

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ