আর্মেনিয়া-আজারবাইজান: কোন দেশের সামরিক শক্তি কেমন?

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান: কোন দেশের সামরিক শক্তি কেমন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৩২ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ফের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর্মেনিয়ার বাহিনীর দাবি, আজারবাইজানের প্রায় একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে তারা। দুই দেশের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে, এই লড়াইয়ে কিছু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই দ্বন্দ্ব আবারও শুরু হয়েছে।  রোববার থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের এই যুদ্ধে এরইমধ্যে উভয়পক্ষের ৮৪ জন সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ১১ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে আজারবাইজানের ৯ জন ও আর্মেনিয়ার ২ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

কোন দেশের সামরিক শক্তি কতটা?

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার বিশ্বের দেশগুলোর সামরিক শক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের শক্তির একটি ধারণা পাওয়া যায়। ২০২০ সালের গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক শক্তির দিক থেকে বিশ্বের ১৩৮টি দেশের মধ্যে আজারবাইজানের অবস্থান ৬৪ ও আর্মেনিয়ার অবস্থান ১১১ তম।

আজারবাইজানের জনসংখ্যা এক কোটি ৪৬ হাজার হলেও আর্মেনিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ৩০ লাখ ৩৮ হাজার। আয়তনের দিক থেকেও যেখানে আর্মেনিয়া মাত্র ২৯ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার সেখানে আজারবাইজানের আয়তন প্রায় তিনগুণ ৮৬ হাজার ৬০০ বর্গ কিলোমিটার।

দুই দেশের মধ্যে সামরিক শক্তির প্রধান পার্থক্যগুলো:

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের ইনডেক্স অনুযায়ী, আজারবাইজানের সশস্ত্র বাহিনীর মোট সদস্য এক লাখ ২৬ হাজার। তাদের সংরক্ষিত বাহিনীতে ৩ লাখ কর্মী রয়েছে। সেই তুলনায় আর্মেনিয়ার সেনা সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। দেশটিতে কর্মরত সেনা রয়েছে মাত্র ৪৫ হাজার। সংরক্ষিত সেনা সদস্য হিসেবে রয়েছে ২ লাখ সদস্য।

প্রতিরক্ষা বাজেট:

এই ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে সামরিক খাতের বাজেটেও অনেক পার্থক্য রয়েছে। আজারবাইজানের সামরিক বাজেট আর্মেনিয়ার প্রায় দ্বিগুণ। আজারবাইজান যেখানে সামরিক খাতে ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করে সেখানে আর্মেনিয়া ব্যয় করে ১৩৮ কোটি মার্কিন ডলার।

এয়ারক্রাফট:

আজারবাইজানের সামরিক বাহিনীতে মোট এয়ারক্রাফটের সংখ্যা ১৪৮টি। অন্যদিকে আর্মেনিয়ার এয়ারক্রাফট সংখ্যা ৬৪টি। এর মধ্যে আর্মেনিয়ার কোনো যুদ্ধবিমান নেই। তবে হামলায় ব্যবহার উপযোগী ৯টি অ্যাটাক এয়ারক্রাফট রয়েছে। অন্যদিকে আজারবাইজানের ১৭টি যুদ্ধবিমান রয়েছে। এর বাইরে তাদের অ্যাটাক এয়ারক্রাফট আছে ১২টি।

হেলিকপ্টার:

হেলিকপ্টারের সংখ্যার দিক থেকে আজারবাইজান এগিয়ে থাকলেও আক্রমণকারী হেলিকপ্টারের তালিকায় এগিয়ে রয়েছে আর্মেনিয়া। আজারবাইজানের হেলিকপ্টার ৮৮টি রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার। আর আর্মেনিয়ার হেলিকপ্টার ৩৭টি রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার।

সামরিক যান:

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সাঁজোয়া যানের দিক থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে আজারবাইজান। তাদের ৫৭০টি ট্যাংক রয়েছে। আর আর্মাড কার রয়েছে এক হাজার ৪৫১টি। আর্মেনিয়ার ট্যাংকের সংখ্যা অনেক কম। তাদের মাত্র ১১০টি ট্যাংক রয়েছে। অন্যদিকে তাদের আর্মাড কারের সংখ্যা ৭৪৮টি।

আর্টিলারি:

আর্টিলারির দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে আজারবাইজান। দেশটির স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি গান রয়েছে ১৮৭টি আর ফিল্ড আর্টিলারি রয়েছে ২২৭টি। আর্মেনিয়ার স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি গান রয়েছে ৩৮টি আর ফিল্ড আর্টিলারি রয়েছে ১৫০টি। আজারবাইজানের যেখানে রকেট প্রজেক্টর ১৬২টি রয়েছে সেখানে আর্মেনিয়ার আছে ৬৮টি যা অর্ধেকেরও কম।

নৌযান:

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের ইনডেক্স অনুযায়ী, আর্মেনিয়ার কোনো রণতরী নেই। তবে আজারবাইজানের নৌ বাহিনীর মোট ৩১টি রণতরী রয়েছে। এর মধ্যে আজারবাইজানের একটি ফ্রিগেট, চারটি সাবমেরিন রয়েছে। আর্মেনিয়ার এ ধরণের কোনো নৌযান নেই। এছাড়া আজারবাইজানের মাইন অপসারণে সক্ষম ৭টি যুদ্ধজাহাজ আর উপকূলে টহল দিতে সক্ষম ১৩টি পেট্রল বোটও আছে। দুই দেশের কারোই বিমানবাহী রণতরী কিংবা ডেস্ট্রয়ার নেই।

অন্যান্য:

আর্মেনিয়ায় মোট ১১টি বিমানবন্দর রয়েছে। যেখানে আজারবাইজানে রয়েছে ৩৭টি। আর্মেনিয়ার কোন বাণিজ্যিক জাহাজ নেই, তবে আজারবাইজানের ৩১৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। সড়কপথ, রেলপথ, বন্দরের দিক থেকেও আর্মেনিয়ার চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে আজারবাইজান। আজারবাইজান তেল সম্পদে সমৃদ্ধ। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বড় একটি অংশ তারা রফতানি করে। তবে আর্মেনিয়ার তেল নেই। চাহিদার পুরোটাই তাদের আমদানি করতে হয়।

সূত্র- বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ