টেক্সাসে ‘মস্তিষ্কখেকো’ অ্যামিবা সংক্রমণে শিশুর মৃত্যু

টেক্সাসে ‘মস্তিষ্কখেকো’ অ্যামিবা সংক্রমণে শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:০১ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:২৩ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সম্প্রতি ‘মস্তিষ্কখেকো’ অ্যামিবার সংক্রমণে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংবাদ সংস্থা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই শিশুটির বয়স ৬ বছর। এই ঘটনার পর টেক্সাস কর্তৃপক্ষ দুর্যোগকালীন সতর্কতা জারি করেছে।

ওই শিশুটি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর তার দেহে অ্যামিবা সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে টেক্সাসের বিভিন্ন শহরে সরবরাহকৃত পানিতে অ্যামিবার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

সেপ্টেম্বরের শুরুতেই শিশুটি মারা যায়। তবে প্রথমদিকে তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পরবর্তীতে চিকিৎসকরা জানান যে, তার দেহে ‘নেগলেরিয়া ফাওলেরি’ নামের এককোষী প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এরপরেই টেক্সাসের বিভিন্ন স্থানের পানি পরীক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে ওই অঙ্গরাজ্যের ৮টি শহরে সরবরাহকৃত পানি পানে সতর্কতা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।

আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, এই এককোষী অ্যামিবা উষ্ণ জলে জন্মায়। মাটিতেও থাকে। নাকের মধ্য দিয়ে মানুষের শরীরে একবার ঢুকলে, সোজা মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। এর সংক্রমণ যদিও খুব কম শোনা যায়। কিন্তু একবার হলে প্রাণসংশয় দেখা দিতে পারে।

লেক জ্যাকসন শহরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই শিশুটির বাড়ির বাগানের ট্যাপের পানিতে অ্যামিবার সন্ধান পাওয়া গেছে। যেসব এলাকার পানিতে এ ধরনের জীবানু পাওয়া গেছে সেখানে দুর্যোগকালীন সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্রেজোস্পোর্ট অথরিটির সরবরাহকৃত পানি পানে সতর্কতা জারি করে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস কমিশন অন ইনভাইরনমেন্টাল কোয়ালিটি।

শিশুটির দাদা-দাদি বলছেন, হয়তো সে খেলার সময় বাগানের ট্যাপ থেকে পানি পান করেছিল। এরপরেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দাদের ট্যাপের পানি পান, গোসল এবং রান্নায় ব্যবহার এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। টেক্সাসের লেক জনসন, ফ্রিপোর্ট, অ্যাংলেটন, ব্রাজোরিয়া, রিচউড, ওয়েস্টার ক্রেক, ক্লুট এবং রোজেনবার্গের বাসিন্দাদের সরবরাহকৃত পানি পান না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। একইসঙ্গে ফ্রিপোর্টের ডো কেমিক্যাল প্লান্ট এবং ওয়েনি স্কট টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব ক্রিমিনাল জাস্টিসের বিভিন্ন ভবনেও পানি পানে সতর্ক করা হয়েছে।

টেক্সাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৮৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ওই শহরে ‘নেগলেরিয়া ফাওলেরি’ অ্যামিবা সংক্রমণে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এই অ্যামিবায় আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বমির মতো উপসর্গ দেখা যায়। ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। এক সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত রোগী মারা যায়।

১৯৬০ সালে অস্ট্রেলিয়ার একটি হ্রদের জলে প্রথম এই মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবার সন্ধান মিলেছিল। দ্রুত কোষ বিভাজন করে অ্যামিবারা। সেজন্য বট ওয়াটার লেক বা উষ্ণ প্রস্রবণগুলোতে এদের দেখা মেলে অনেক বেশি। শিল্পাঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায়, দূষিত জলেও দেখা মেলে এদের। দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না-করা সুইমিং পুল বা ক্লোরিনেটেড নয় এমন বদ্ধ জলে দ্রুত ছড়ায় অ্যামিবারা। এককোষী হলেও এদের প্রভাব মারাত্মক। মানুষের স্নায়ুকোষকে নিমেষে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এই অ্যামিবারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ