অনলাইনে নোট বিক্রি করে যেভাবে সফল ব্যবসায়ী হলেন সিঙ্গাপুরের তরুণ

অনলাইনে নোট বিক্রি করে যেভাবে সফল ব্যবসায়ী হলেন সিঙ্গাপুরের তরুণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৩৮ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ইউজিন চিও

ইউজিন চিও

সিঙ্গাপুরের ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র ইউজিন চিও। তার বয়স ২৪ বছর। সম্প্রতি আরইএস নামের বাড়ি ও জমি বেচাকেনার এজেন্ট হওয়ার পরীক্ষায় পাস করেছেন তিনি। কিন্তু তিনি আলোচিত হয়েছেন অন্য কারণে। ওই কোর্সে পড়াশোনার জন্য চিও যেসব নোট তৈরি করেছিলেন অনলাইনে সেগুলো বিক্রি করছেন তিনি। আর এতে তার বেশ ভালো আয় হচ্ছে। ফলে নোট বিক্রির একটি নতুন ব্যবসা শুরু করেছে চিও।

ইন্টারনেটে নোট বিক্রি করা প্রথম ব্যক্তি নয় চিও। তবুও তার নোটস দারুণ বিক্রি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দেড় হাজার নোট বিক্রি করেছেন তিনি। তার সাপ্তাহিক আয় এক হাজার ডলারের বেশি ছিলো। এরপর তিনি পড়াশোনার নোট বিক্রিকেই ব্যবসায়ে পরিণত করলেন। সিঙ্গাপুরে একজন রিয়েলটর বা বাড়ি-জমি বেনাকেনার এজেন্ট হতে বেশ কিছু পূর্বশর্ত পূরণ করতে হয়। তাকে ৬০ ঘন্টার একটি কোর্স করতে হয়। পাস করতে হয় আরইএস যা দুই পর্বের একটি পরীক্ষা।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে চিও বলেন, পুরো ব্যাপারটা খুব সহজ নয়। সিঙ্গাপুরে নিয়মকানুন খুবই কঠিন। আমি তখনই উপলব্ধি করলাম দ্রুত কোনো কিছু শিখে নেয়ার পদ্ধতির একটি বড় চাহিদা আছে। চিও তার নোটগুলোকে মাইণ্ড ম্যাপ বা মনের মানচিত্র বলেন। নোটগুলোকে নিজের পরীক্ষার সময়েও সফলভাবে ব্যবহার করেছেন তিনি। এরকম ১৬টি মাইন্ড ম্যাপ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা একটি ফির বিনিময়ে ডাউনলোড করতে পারেন।

কী আছে চিওর এই মাইন্ড ম্যাপে?

মাইন্ড ম্যাপে ছবি বা গ্রাফিক্স ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের আইডিয়া, কনসেপ্ট এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছেন চিও। যা মানুষের মস্তিষ্ক সহজেই বুঝতে পারে। সেগুলোতে বিভিন্ন ধরণের আইনি ধারণা, বিপণন সংক্রান্ত ধারণা বা তত্ত্ব, গাণিতিক ফর্মুলা, বিভিন্ন ধরণের গ্রাফ এবং সিলেবাসে আছে। এছাড়াও আরো অনেক ধরণের বিষয় আছে ওই ম্যাপে।

চিওর মাইন্ড ম্যাপ

এই মাইন্ড ম্যাপ ব্যবহারকারী যেকোনো ব্যক্তি ৮০ সিঙ্গাপুরী ডলার ব্যয় করে এগুলো ডাউনলোড করতে পারেন। কোনো একটি বিশেষ বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে সে বিষয়ের তথ্যগুলোও মাইন্ড ম্যাপে পাওয়া যাবে। এতে যে সুবিধা হবে সেটি হচ্ছে, একটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য পাঠককে পাঠ্যপুস্তক খুঁজে পুরো অধ্যায় পড়তে হবে না। এটিকে একটি ভিন্ন ধরণের শিক্ষণ পদ্ধতিও বলা যেতে পারে।

চিওর আরেকটি আগ্রহের বিষয় হচ্ছে স্কুবা ডাইভিং। তিনি বলেন, সাগরের পানির নিচে একদল ডাইভার পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ করেন আকারে ইঙ্গিতে। সেই যোগাযোগ পদ্ধতি তাকে শিখিয়েছে যে অনলাইন শিক্ষণের ক্ষেত্রে কি করে বিভিন্ন ভাষার বাধা অতিক্রম করতে হয়।

চিওর কোম্পানির নাম হচ্ছে আরইএস টিউটর। যারা সিঙ্গাপুরে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার এজেন্ট হতে চান তাদেরকে আরইএস পরীক্ষা পাস করতে সহায়তা করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছে। চিও বলেন, তিনি এখন তার ব্যবসাকে আইটির অন্য ক্ষেত্রেও প্রসারিত করতে চান। তিনি নিজে একজন রিয়েলটর হতে চান না বরং যারা হতে চায় তাদের সাহায্য করার আনন্দ পেতেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

সূত্র- বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ