দৈত্যাকার মাছে ঘুরল ভাগ্যের চাকা, রাতারাতি লাখপতি বৃদ্ধা

দৈত্যাকার মাছে ঘুরল ভাগ্যের চাকা, রাতারাতি লাখপতি বৃদ্ধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪০ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

বৃদ্ধার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেয়া দৈত্যাকার মাছ। ছবি: সংগৃহীত।

বৃদ্ধার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেয়া দৈত্যাকার মাছ। ছবি: সংগৃহীত।

জীবনের শেষ বয়সে কোনোভাবেই বেঁচে থাকতে পুরনো পেশা মাছ ধরাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন এক বৃদ্ধা। বয়স বাড়ায় গভীর সমুদ্রে যাওয়ার বদলে বাড়ির পাশের নদীতে জাল ফেলে চলছিল তার জীবিকা নির্বাহ। তবে আচমকা দৈত্যাকার একটি মাছ বৃদ্ধার জালে ধরা পড়ায় ঘুরে গেছে তার ভাগ্যের চাকা। এ বৃদ্ধা রাতারাতি হয়ে গেছেন লাখপতি।

সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর এলাকার এক নদীতে দৈত্যাকার মাছটি শিকার হয়।

সংবাদ মাধ্যমের খবর, দুই ছেলেকে নিয়ে আর্থিক সংকটে জীবনযাপন করছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরের বাসিন্দা পুষ্পদেবী কর। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া পুষ্পদেবী বাড়ির পাশে নদীতে প্রতিদিন জাল ফেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিনই তিনি চুনোপুঁটি ধরেন। এভাবেই দিন কাটছিল বৃদ্ধা পুষ্প করের। তবে সম্প্রতি অন্যান্য দিনের মতোই নদীতে জাল ফেলে বাড়ি চলে যান তিনি।

নির্দিষ্ট সময়ের পর বাড়ি থেকে নদীর উদ্দেশ্যে রওনা হন বৃদ্ধা পুষ্প। সেখানে পৌঁছার জালে হাত দিতেই চমকে উঠেন তিনি। কারণ তিনি টের পেয়েছেন প্রতিদিনের মতো কোনো মাছ তার জালে উঠেনি। যা ধরা পড়েছে, তা অনেক বড় আকারের মাছ। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের বেশ কয়েকজনের সহযোগিতায় জাল টেনে তোলেন এ বৃদ্ধা।

সংবাদ মাধ্যমের আরো খবর, দৈত্যাকার আকৃতির একটি ভোলা মাছ ধরা পড়েছে। আর এ মাছ দেখতে হুমড়ি খেয়ে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। প্রায় ৬০ কেজি ওজনের মাছের খবর পৌঁছে যায় কাকদ্বীপ বাজারে। পরের দিন ভোরের আলো ফুটতেই পুষ্পদেবীর কাছে পৌঁছে যান কাকদ্বীপ বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা। দরদাম শেষে দৈত্যাকার আকৃতির মাছ প্রতি কেজি ৬ হাজার টাকা বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়।

আর্থিক অনটনে ভোগা বৃদ্ধা পুষ্পদেবী কর রাতারাতি সাড়ে তিন লাখ টাকার মালিক হয়ে গেছেন। তাই এ টাকা কীভাবে খরচ করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না তিনি।
 
এদিকে এতো বড় মাছ নদীতে আসা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে। তবে জাহাজের ধাক্কায় মাছটি পাড়ের দিকে চলে এসেছিল বলে ধারণা করছেন অনেকে। কারণ সমুদ্রের এ মাছটি কোনোভাবেই নদীতে আসার কথা নয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ