লাদাখের তীব্র ঠান্ডায় চীনের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনারা

লাদাখের তীব্র ঠান্ডায় চীনের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪৪ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৪ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় তীব্র ঠান্ডার মোকাবিলা করে চীনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত হচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় বিশ্বের উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাঙ্ক-সহ সব ধরণের পদাতিক যুদ্ধযান নিয়ে প্রস্তুত দেশটির সেনারা। মাইনাস ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও যুদ্ধ করতে সমান পারদর্শী এমন যুদ্ধযান মোতায়েন করা হয়েছে সেখানে। এছাড়া ইতোমধ্যেই এর মহড়াও শুরু করা হয়েছে।

শীতের মৌসুমে পূর্ব লাদাখের তাপমাত্রা মাইনাস ২০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়। প্রতি বছরই শীত আসার আগে প্রস্তুতি চলে সেনাবাহিনীতে। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। গত মে মাস থেকে প্যাংগং লেক, গালওয়ান উপত্যকাসহ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় হামলা শুরু করে চীনের বাহিনী। অঞ্চলগুলোতে ভারতও প্রচুর সেনা মোতায়েন করেছে। এরই জেরে গত ১৫ জুন গালওয়ানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে।

ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে বৈঠকের পর কিছুটা শান্ত হয়। তবে চলতি মাসের শুরুতে ফের প্যাংগং লেক এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও যে কোনো সময় ফের পরিস্থিতি খারাপহতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই চলতি বছর শীতের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় সেনারা।

জানা গেছে, চুমার ডেমচক এলাকায় টি-৯০ ও টি-৭২ ট্যাঙ্ক মোতায়েন করা মহড়া চালাচ্ছেন ভারতীয় সেনারা। এছাড়া সেখানে বিএমপি-২ ইনফ্যান্ট্রি কমব্যাট ভেহিক্যালসও রয়েছে। মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রাতেও সমান দক্ষতায় যুদ্ধ করতে সক্ষম এই যুদ্ধযানগুলো। যেকোনো ধরণের চরমভাবাপন্ন অর্থাৎ তীব্র গরম, ঠান্ডা, পাহাড়ি, সমতল অথবা পানিতে সমান পারদর্শী বাহিনীও থাকছে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে (পিএলএ মোকাবিলায় এরইমধ্যে মহড়ায় অংশ নিয়েছেন তারা।

সেনাবাহিনীর ভাষায় ট্যাঙ্ক ও অন্যান্য যুদ্ধযান, অত্যাধুনিক অস্ত্র, প্রতিকূল আবহাওয়ায় বসবাসের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত কাঠামোসহ যাবতীয় সরঞ্জামে সম্পূর্ণ বাহিনীকে মেকানাইজড ইনফ্যান্ট্রি বা সংগঠিত পদাতিক বাহিনী বলা হয়।

পূর্ব লাদাখে ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধের পুরো প্রস্তুতির দায়িত্বভার ভারতীয় সেনার ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কোরের ওপর। এই বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকা মেজর জেনারেল অরবিন্দ কাপুর বলেন, শুধু ভারতে নয় বরং পুরো পৃথিবীতে একমাত্র ভারতীয় সেনার ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কোর’ এই ধরণের চরম প্রতিকূল আবহাওয়ার মোকাবিলা করেও যুদ্ধ করতে সক্ষম।

জেনারেল কাপুর জানান, মেকানাইজড ইনফ্যান্ট্রি বা সংগঠিত পদাতিক বাহিনী ভারতীয় সেনার মধ্যেই আরো এক ধাপ উন্নত বাহিনী। দ্রুত বহনযোগ্য গোলাবারুদ ও মিসাইল ভান্ডার থাকায় এই বাহিনী অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় বেশি সময় ধরে যুদ্ধ করতে পারে। সংগঠিত বাহিনীর সেনারা প্রায় সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র চালাতে সক্ষম।

তিনি আরো বলেন, শীতের বিশেষ পোশাকসহ যাবতীয় প্রশিক্ষণের পর বাহিনীর মনোবল তুঙ্গে। খুব অল্প সময়ের নির্দেশেও দ্রুত দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত তারা। পুরো শীতকাল জুড়েই এই প্রক্রিয়া চলবে বলেও জানান তিনি।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও বসবাসের উপযোগী অস্থায়ী বাসস্থান তৈরিতেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে থেকে তৈরি করে রাখা কাঠামো যা খুব কম পরিমাণ সিমেন্ট বালি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে সেগুলোও আনা হয়েছে। বাথরুম, রান্নাঘরসহ আধুনিক বসবাসের মতো প্রায় সব কিছুই থাকছে সেখানে। বিনোদনের জন্য প্রতিটি কোম্পানির জন্য সেট টপ বক্স কানেকশনসহ একটি করে টিভির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সূত্র-আনন্দবাজার

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ