ভাবিকে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ করলো দেবর

ভাবিকে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ করলো দেবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৭ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

ভাবিকে হত্যার পর না পালিয়ে সরাসরি থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে দেবর। শুক্রবার দুপুরে ভারতের কলকাতা শহরের বুকে এ ঘটনা ঘটেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা’র প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভাবি ও তার দুই মেয়ের মাথায় আঘাতের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় ও হাতে কোপ মেরেছেন দেবর। এতে ভাবির মৃত্যু হয়েছে। মারাত্মক জখম হয়েছে দুই মেয়ে। তবে এমন ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যাননি ঘাতক দেবর। সোজা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করলেন সুলতান আনসারি নামের ওই ব্যক্তি। থানায় এসেই বললেন, আমি তিন মহিলাকে খুন করে এসেছি।

পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন দুপুরে একবালপুর থানায় আসে বছর ২৫ বছর বয়সী ওই যুবক। ডিউটি অফিসারের টেবিলে এসে জানায়, সে আত্মসমর্পণ করতে চায়। কী কারণে সে আত্মসমপর্ণ করতে চাইছে, তা জানতে চাওয়া হলে সুলতান জানায়, সে তিনজন নারীকে খুন করে এসেছে। এ কথা শুনেই সঙ্গে সঙ্গে ওই যুবককে আটক করে তার দেয়া ঠিকানায় পৌঁছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ দেখে, সেখানে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এক মহিলা ও তার দুই মেয়ে। সকলেরই মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আঘাতের ক্ষত। গলায় ও হাতে কাটা দাগ। সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু অভিযুক্তের ভাবি আকিদা খাতুনকে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার ২০ ও ১৭ বছরের দুই মেয়ের অবস্থা সংকটজনক।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সুলতান সম্পর্কে নিহত আকিদা খাতুনের মামাতো দেবর। বাড়ি রাজাবাগান থানা এলাকার পাঁচপাড়া রোডে। পারিবারিক কোনো গোলমালের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকিদার বড় মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছিল সুলতান। তা নিয়ে আকিদা ও তার স্বামীর সঙ্গে কথাও বলেছিল ঘাতক দেবর। কিন্তু ওই দম্পতি কিছুতেই এ বিয়েতে মত দিচ্ছিলেন না। এ দিন দুপুরে সুলতান তাই সোজা হাজির হন আকিদার বাড়িতে। সেই সময়ে আকিদার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। আকিদা ও তার দুই মেয়েকে একা পেয়ে কথা কাটাকাটির মাঝেই তিন জনের মাথায় আঘাত করেন সুলতান। তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারেন। পরে আকিদার স্বামী বাড়ি ফিরে এসে দেখেন, বাড়ির সামনে প্রবল ভিড়। তার পরে তিনি জানতে পারেন ঘটনার কথা। তবে তদন্তে নেমে শিলনোড়াটি উদ্ধার করতে পারলেও ধারালো অস্ত্রটির খোঁজ পায়নি পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ