গত ৩ বছরে ভারত সীমান্তে দ্বিগুণ শক্তি বাড়িয়েছে চীন

গত ৩ বছরে ভারত সীমান্তে দ্বিগুণ শক্তি বাড়িয়েছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:১১ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

লাদাখে চীনের বাহিনীর হামলা আসলে দীর্ঘ পরিকল্পনার ফসল। ডোকলামে সংঘাতের পর ভারতের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর এলাকাগুলো নিজেদের মধ্যে নিয়ে আসাই মূল লক্ষ্য ছিলো চীনের। তাই লাদাখসহ ভারতের পূর্ব দিকে এলএসি বরাবর সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেছিলো চীন। এরপর থেকে গত তিন বছরে সেখানে নিজেদের শক্তি তিন গুণ বাড়িয়ে নিতে সফল হয়েছে তারা। ভূ-রাজনৈতিক সংক্রান্ত মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা স্ট্র্যাটফরের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকেই চীনের সম্প্রসারণ নীতি ঠেকিয়ে আসার চেষ্টা করছে ভারত। এই বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষও বেঁধেছে। লাদাখে স্থিতিশীলতা টিকিয়ে রাখতে এই মুহূর্তে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে চাইছে দুই দেশ। এরমধ্যেই এলএসি বরাবর চীনের শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন সংস্থার এই প্রতিবেদন ভারতকে উদ্বিগ্ন করে দিয়েছে।

এর আগে, ১৯৯৯ সালে কসোভের ওপর ন্যাটোর বিমান হামলার প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আন্তর্জাতিক মহলে খবরের শিরোনামে উঠে আসে স্ট্র্যাটফর। পরবর্তী কালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কৌশল নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ করে তারা। স্যাটেলাইট ফুটেজ দেখে এলএসি বরাবর চীনের বাহিনীর সামরিক নির্মাণ ও পরিকাঠামোর অবস্থান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে এবার নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্ট্র্যাটফর। এই প্রতিবেদনেই ডোকলাম এবং লাদাখ সংঘাতের পরের পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য ধরা পড়েছে যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত দুশ্চিন্তাজনক হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলএসি সংলগ্ন এলাকায় কমপক্ষে ১৩টি নতুন সামরিক অবস্থান গড়ে তুলতে শুরু করেছে চীন। সেগুলোর মধ্যে ৩টি বায়ুসেনা ঘাঁটি, ৫টি স্থায়ী আকাশসীমা প্রতিরক্ষা কেন্দ্র এবং ৫টি হেলিপোর্ট রয়েছে। লাদাখ সংঘাতের পরই হেলিপোর্টগুলো তৈরির কাজ শুরু হয় বলে দাবি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। এছাড়া রেডিও সিগন্যাল, র‍্যাডার এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে শত্রুপক্ষের অবস্থান নির্ধারণ করার জন্য রয়েছে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন।

এই প্রতিবেদন নিয়ে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন স্ট্র্যাটফরে কর্মরত আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ সিম ট্যাক। তিনি নিজেই ওই প্রতিবেদনটি লিখেছেন বলে জানা গেছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লাদাখে সংঘাত বাঁধার আগে থেকেই যেভাবে ওই এলাকায় সামরিক শক্তি বাড়াতে শুরু করে চীন তাতেই বোঝা যায় যে এর পিছনে বড় ধরনের কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। আসলে এলএসি সংলগ্ন সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে নিজেদের আয়ত্তে নিতে চায় তারা। চীন এলএসি-তে দুর্ভেদ্য সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ এখনও পর্যন্ত শেষ করে উঠতে পারেনি বলেও দাবি করেন সিম।

তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সম্প্রসারণ এবং সামরিক পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ এখনও মাঝপথে রয়েছে। এই মুহূ্র্তে চীনের বাহিনীর যে গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সূত্রপাত মাত্র। লাদাখে দুইপক্ষের মধ্যে সাম্প্রতিক যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে সেটি ওই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রস্তুতিপর্ব। সামরিক পরিকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে চীনের বাহিনী বাড়তি সুবিধা পাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

জানা গেছে, শুধু লাদাখ বা ভারতের পূর্ব দিকেই নয় দক্ষিণ চীন সাগর এবং ভারত মহাসাগরেও একইভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চীন। সেখানে একটি প্রবাল দ্বীপ সংলগ্ন এলাকাকে নৌ-ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য তাদের। এর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই সরব হয়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভারত। চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একজোট হয়ে ভারত জানায়, দক্ষিণ চীন সাগরে কারো একার আধিপত্য স্বীকার করা হবে না। ওই এলাকায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই ভারতের প্রধান লক্ষ্য।

ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সৌহার্দ্য এমনিতেই অপছন্দ চীনের। এর ওপরে দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ানোয় ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রদর্শনে জোর দিচ্ছে দেশটি। চীন ভারতকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এর আগে, গত মে মাসে প্যাংগং হ্রদ থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে তিব্বতের নারি-গুনসাতেও বিমান ঘাঁটি নির্মাণ করছে চীন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা যায়, সেখানে বৃহদাকার সামরিক নির্মাণকার্য চলছে যাতে জে-১১, জে-১৬ এবং সুখোই-৩০-র মতো যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে পারে তারা। গত কয়েক মাসে সেই কাজ আরো এগিয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র- আনন্দবাজার 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ