রাস্তায় গাড়ি আটকে নারীর শ্লীলতাহানি, সাসপেন্ড পুলিশ কর্মকর্তা

রাস্তায় গাড়ি আটকে নারীর শ্লীলতাহানি, সাসপেন্ড পুলিশ কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৫ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এক রূপান্তরকামী এবং তার সঙ্গে থাকা দুই নারীর গাড়ি আটকে রাস্তায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে কলকাতা পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় ওই কর্মকর্তা মাতাল অবস্থায় ছিলেন।

কলকাতা পুলিশের এক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই নির্যাতিতারা। ওই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রটি জানিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৌবাজার থানা এলাকায় চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের ওপর একটি ক্যাফের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পশ্চিমবঙ্গ রূপান্তরকামী উন্নয়ণ পর্ষদের এক সদস্য ও আরো দুই নারী ওই ক্যাফেতে চা খেতে যান। ক্যাফের সামনেই তাদের গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিলো। ওই ক্যাফে থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় এক ব্যক্তি তাদের গাড়ি আটকান।

নির্যাতিতাদের করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ বলে পরিচয় দেন। নির্যাতিতারা বলেন, কেন তাদের গাড়ি আটকানো হলো জানতে চাওয়ায় পুলিশ পরিচয় দেয়া ওই ব্যক্তি অসভ্য আচরণ শুরু করেন। এক নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি গাড়ির সামনে অসভ্যতা করার পাশাপাশি গাড়ির দরজা খুলে দুই নারীর হাত ধরে নামানোর চেষ্টা করেন এবং শ্লীলতাহানি করেন।

নির্যাতিতারা গাড়ি থেকে ওই ব্যক্তির ছবিও তোলেন এবং ১০০ নম্বর ডায়াল করে পুলিশে খবর দেন। তারা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যক্তিকে স্যার বলে সম্বোধন করায় আমরা বুঝতে পারি যে ওই ব্যক্তি সত্যিই পুলিশ কর্মকর্তা।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ওই ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করে পুলিশ। এরপরেও তারা ওই রাতেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কলকাতা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্যাতিতারা যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা। বৌবাজার থানার ওপরেই তার কোয়ার্টার।

তদন্তকারীদের দাবি, ওই কর্মকর্তা একটি গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়েছিলেন সেটি ঠিক। তবে অভিযোগকারীদের সঙ্গে তার বক্তব্যের অনেক পার্থক্য রয়েছে।

কলকাতা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করেছি। দুই পক্ষের বক্তব্য, অভিযোগকারীদেরকরা ভিডিও এবং ঘটনাস্থলে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের সাক্ষ্য তদন্ত করা দেখা হচ্ছে।

ট্রাফিক পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও মাতাল অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের গন্ডগোলে জড়ানোর উদাহরণ রয়েছে। এই ঘটনার জেরে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো তদন্ত শুরু করা হচ্ছে কি না সেটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা।

সূত্র- আনন্দবাজার 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ