৮০০ কোটি ডলার দান করে স্বেচ্ছায় ‘গরিব’ হলেন বিলিয়নিয়ার!

৮০০ কোটি ডলার দান করে স্বেচ্ছায় ‘গরিব’ হলেন বিলিয়নিয়ার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৪৭ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১০:৫৩ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একজন মানুষের কতটুকু জমি দরকার? সেই প্রশ্ন রেখেছিলেন রুশ সাহিত্যিক লেভ তলস্তয়। একই নামের তার সেই গল্পে এর উত্তরও দিয়ে দিয়েছেন- মাত্র সাড়ে তিন হাত জমি। কিন্তু আধুনিক ভোগবাদী সমাজে এই অমোঘ সত্যটি ক'জনই বা ধারণ করে। বরং গরিবের সম্পদ হরণ করে ধনী আরো ধনী হতে চায়। সমাজে এর ব্যতিক্রমও কিন্তু আছে। তেমনই একজন চার্লস চাক ফিনে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর এই ধনকুবের তার সব সম্পত্তি দান করে দিয়ে স্বেচ্ছায় দারিদ্র্যবরণ করেছেন। তার দান করা টাকার অঙ্কটাও চমকে দেয়ার মতো- ৮০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

চাক ফিনে তার সব সম্পত্তি দান করবেন এমন স্বপ্ন অনেক দিন ধরেই লালন করছিলেন। শত শত কোটি টাকার মালিক হলেও নিজের সম্পত্তি আরো বাড়াবেন, জীবনের একমাত্র লক্ষ্য তেমনটা ছিল না। বাঁচার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজনের অতিরিক্ত উপার্জিত অর্থ দান করেই জীবনকে সার্থক করতে চেয়েছেন তিনি।

চাক ফিনের উত্থানও রূপকথার মতো। ছাত্রজীবনেই কলেজের সহপাঠী রবার্ট ওয়ারেল মিলানের সঙ্গে একটি ডিউটি ফ্রি শপ খোলেন।

বিমানবন্দরে খুচরা দোকানের এই চেন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। দিনে দিনে ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে ফিনের ব্যবসা। যুক্তরাষ্ট্রে কোটিপতিদের তালিকায় ঢুকে পড়েন তিনি। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল, জীবদ্দশাতেই জীবনের সব রোজগার দান করবেন। এ কথা কয়েক বছর আগেই জানিয়েছিলেন ফিনে। সম্প্রতি নিজের ৮০০ কোটি ডলারের সম্পত্তি বিশ্বের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালে দান করেছেন তিনি। ফোর্বস পত্রিকাকে ফিনে বলেন, 'টাকার ব্যবহার অন্যরকমভাবে করতে চেয়েছিলাম। এই কাজ আমাকে তৃপ্তি দিয়েছে। স্বপ্ন পূরণ করতে পারায় আমি খুব খুশি।' তিনি বলেন, সম্পদ দায়িত্ব বাড়ায়। এই চিন্তা থেকেই নিজের সম্পত্তি দান করে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করা।

কোটিপতি হওয়ার পর থেকেই গোপনে বিভিন্ন সংস্থাকে দান করতেন তিনি। সেই খবর প্রকাশ্যে আনতেন না। এ জন্য তাকে 'জেমস বন্ড অব ফিলানথ্রপি' বলেও ডাকা হতো। ২০১২ সালে ফিনে ঘোষণা করেন, তিনি ও তার স্ত্রীর অবসর জীবনের জন্য ২০ লাখ ডলার রেখে বাকি সব সম্পত্তি দান করবেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর জুমে সম্পত্তি দানের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন।

তার দানের ৮০০ কোটি ডলার সম্পত্তির মধ্যে ৩৭০ কোটি ডলারই শিক্ষা খাতে খরচের জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়েছেন। এ ছাড়াও মানবাধিকার, সামাজিক পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য খাতে তার দানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। তার এমন উদ্যোগে যারপরনাই আপ্লুত বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেটের মতো মার্কিন ধনকুবেররা। বিল গেটস বলেছেন, ফিনে একটা পথ দেখাল। আমার মনে পড়ছে, তার সঙ্গে যখন দেখা করেছিলাম, তখন জীবদ্দশায় নিজের অর্ধেকেরও বেশি সম্পত্তি দানের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল। এ ব্যাপারে ফিনের থেকে ভালো উদাহরণ আর কেউ নেই।

৮৯ বছর বয়সী ফিনের জীবনযাত্রাও খুব সাদামাটা। নিজের কোনো বাড়ি নেই। সান ফ্রান্সিসকোর একটি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে থাকেন তিনি। নিজের গাড়িও নেই। এক জোড়া মাত্র জুতা দিয়েই চলেন বছরের পর বছর। হাতঘড়িটির দাম মাত্র ১০ ডলার। ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বহন করেন একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে করে। বিমান যাতায়াতে ইকোনমিক ক্লাসই তার ভরসা।

সূত্র: আনন্দবাজার

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ