কম্বোডিয়ায় খাটো পোশাক পরলেই জরিমানা!

কম্বোডিয়ায় খাটো পোশাক পরলেই জরিমানা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৭ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নারীরা কী ধরনের পোশাক পরবেন এবং পরতে পারবেন না, সে বিষয়ে সরকার একটি আইনের খসড়া নিয়ে কম্বোডিয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এই আইন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ওই আইনে কোনো নারী শরীর দেখা যায় এ রকম পোশাক পরলে তাকে জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা বিবিসি জানায়, জন-শৃঙ্খলাজনিত এই খসড়া আইনে নারীদের ‘খুব বেশি খাটো অথবা খুব বেশি খোলামেলা’ পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আইনটিতে পুরুষের খালি গায়ে থাকা নিষিদ্ধ করারও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সরকার বলছে, দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক মান-মর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিলটি আনা হয়েছে। তবে সরকারের এই উদ্যোগ জানাজানি হওয়ার পর সেটা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। মলিকা টান (১৮) নামে এক তরুণীর উদ্যোগে প্রস্তাবিত এই আইনের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন পিটিশন শুরু হয়েছে। আগস্টে শুরু হওয়া এই পিটিশনে এরই মধ্যে ২১ হাজারের বেশি মানুষ সই করেছেন।

মলিকা বলেন, এ ধরনের একটি আইন করার উদ্যোগ নারীদের ওপর আক্রমণ। যে পোশাক পরতে আমার ভালো লাগবে, আমি সেই জামা কাপড় পরতে চাই। আমি চাই না সরকার এখানে কোনো সীমা বেঁধে দিক।

আরো অনেক নারী মনিকার এই অবস্থানের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ছবি পোস্ট করে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন- এই জামা পরার জন্য কি আমার জরিমানা হবে? তারপর সেগুলো ছড়িয়ে পড়ছে #mybodymychoice এই হ্যাশট্যাগের মাধ্যমে।

জানা গেছে, দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীরা খোলামেলা বা শরীর দেখা যায় এমন পোশাক পরলে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ‘যথাযথ’ পোশাক না পরলে গানের শিল্পী ও অভিনেত্রীদের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এপ্রিল মাসে একজন নারীকে পর্নোগ্রাফির অভিযোগে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে জামা কাপড় বিক্রি করার সময় তিনি শরীর দেখা যায় এরকম ‘অশোভন’ ও ‘উস্কানিমূলক’ পোশাক পরেছিলেন।

সে সময় প্রধানমন্ত্রী হুন সেন অনলাইনে নারীদের এ ধরনের লাইভ স্ট্রিমিংকে ‘আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করে বলেছিলেন, এসবের কারণে নারীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

প্রস্তাবিত এই আইনটির প্রতিবাদে প্রচারণায় যোগ দেন ১৮-বছর বয়সী আরেকজন নারী আয়লান লিম। তিনি বলেছেন, কম্বোডিয়ায় সহিংসতার শিকার নারীকেই দোষারোপ করা হয়। এর ওপরেই তিনি জোর দিতে চান।

তিনি বলেন, ‘এটি আইনে পরিণত হলে এই বিশ্বাসটাই জোরালো হবে যে যৌন অপরাধ করেও অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে পারে এবং মনে হতে পারে যে এটা তাদের কোন দোষ নয়। আমাকে সব সময় বলা হয়েছে আমাকে রাত আটটার মধ্যে বাড়িতে ফিরে আসার জন্য, খুব বেশি শরীরে দেখাতেও না করা হয়েছে।’

প্রস্তাবিত আইনটিতে মূলত নারীর পোশাকের ব্যাপারে যেসব বিধি-নিষেধের কথা বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে সে ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও, অনেকে বিলটির অন্যান্য বিষয় নিয়েও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।

খসড়া আইনটিতে যারা ‘মানসিক প্রতিবন্ধী’ তাদের ‘জনসমক্ষে অবাধ’ হাঁটাচলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবও করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করতে বলা হয়েছে সব ধরনের ভিক্ষাবৃত্তিও। এমনকি কোনো একটি জায়গায় জড়ো হওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন কম্বোডিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের নির্বাহী পরিচালক চাক সোপিপ বলেছেন, বিলটি পাস হলে সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, ‘এর ফলে দারিদ্র ও অসাম্য আরও বেড়ে যেতে পারে।’

সরকারের মন্ত্রীরা এবং জাতীয় পরিষদে বিলটি অনুমোদিত হলে এটি কার্যকর হবে আগামী বছর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওক কিমলেখ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, এটি এখন খসড়া পর্যায়ে আছে।

তবে মানবাধিকার আন্দোলনের একজন নেতা চাক সোপিপের আশঙ্কা হচ্ছে, জনগণের দিক থেকে চাপ দেয়া না হলে কোন ধরনের যাচাই বাছাই ছাড়াই হয়তো বিলটি পাস হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়ায় প্রায়শই তাড়াহুড়ো করে আইন পাস হয়। সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে এ নিয়ে তেমন আলোচনা করা হয় না।

তবে মলিকা টান আশাবাদী যে তার পিটিশনের ফলে লোকজনের মধ্যে এমন সচেতনতা তৈরি হবে যে শেষ পর্যন্ত সরকার প্রস্তাবিত আইনটি পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ