গুজরাটের ইলিশ স্বাদে-গন্ধে রুই মাছ, ভারতীয়রা বলছে পদ্মাই সেরা

গুজরাটের ইলিশ স্বাদে-গন্ধে রুই মাছ, ভারতীয়রা বলছে পদ্মাই সেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪৭ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৫১ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

গুজরাটের ইলিশ স্বাদে-গন্ধে যেন রুই মাছ, বলছে কলকাতার মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

গুজরাটের ইলিশ স্বাদে-গন্ধে যেন রুই মাছ, বলছে কলকাতার মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

পাতে ইলিশ, মুখে নিলেই রুই মাছের স্বাদ। কোনো গন্ধও নেই। গুজরাটের ইলিশ কিনে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে কলকাতার মানুষের। তাইতো বাংলাদেশের রূপালি ইলিশ কিনতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন খুচরা বাজারে হুমড়ি খাচ্ছে ওপারের বাঙালিরা। পদ্মার ইলিশে একেবারে আত্মহারা সবাই।

বাংলাদেশ ইলিশ না দিলে ভারতীয়দের গুজরাটের ইলিশ ছদ্মবেশী রুই মাছই খেতে হয়। তবে স্বাদে গন্ধে পদ্মার ইলিশের ধারেকাছেও নেই গুজরাটের এই ইলিশ। ফলে বারবরই কম দামে বিক্রি হয় এটি। জানা গেছে, গুজরাটের ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ রুপি কেজি দরে। আবার বাংলাদেশের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ রুপি কেজি দরে। তবে পদ্মার ইলিশ বাজারে আসার পর চাহিদা কমেছে গুজরাটের ইলিশের, কমছে দামও।

পশ্চিমবঙ্গের শহরতলী বাজারের মাছ ক্রেতা অজয় বর্মন বলেন, আমরা বছরজুড়েই বাংলাদেশের ইলিশের জন্য অপেক্ষায় থাকি। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটলো। এখন থেকে আমাদের পাতেও থাকবে পদ্মার ইলিশ। অনেকদিন পর মনে হচ্ছে যে, আসল ইলিশটা খেতে পারবো। গুটরাটের ইলিশের চেয়ে এটা অনেক বেশি ভালো মানের। তাই আমরা সবাই-ই উচ্ছ্বসিত।

আরো পড়ুন: পানির দামে পেয়েও কলকাতায় তিনজনে ভাগে কিনছে এক ইলিশ

কলকাতায় ইলিশ যায় মূলত কাকদ্বীপ, নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ এলাকা থেকে। ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রেও যান ভারতীয় জেলেরা।  কলকাতার ভোক্তারা বলছেন, বাংলাদেশের ইলিশ আসার আগে এখনকার বাজারে গুজরাটেরটা বিক্রি হয়। নর্মদা নদীর ওই মাছ আসে এই রাজ্যে। কিন্তু পদ্মার ইলিশের স্বাদের সঙ্গে এর তুলনা হয় না। কারণ নর্মদা নদীর পানি লবণাক্ত। তাই মাছের স্বাদ ততো ভালো নয়। দেখতো সুন্দর নয়।

পদ্মার ইলিশের এত স্বাদ; যা দিয়ে বাংলাদেশে বিশেষ পদও রান্না করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে,  ইলিশ মাছের মালাইকারি, পান্তা ভাত ও ইলিশ, সর্ষে দিয়ে ইলিশ ডিম ভুনা, ইলিশ দিম দোপিয়াজা ইত্যাদি। ইলিশ রান্নায় এত বৈচিত্র্য ভারতে নেই। কারণ তাদের কাছে গুজরাটের ইলিেই সহজলভ্য, কিন্তু সেটার স্বাদ মন ভোলানো নয়।

সবচেয়ে বিখ্যাত পদ্মার ইলিশ। ছবি: সংগৃহীত

মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের ইলিশ বিষয়ক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান বলেন, পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ একটু বেশি উজ্জ্বল। নদীর ইলিশ চকচকে বেশি হবে, বেশি রুপালী হবে রং। সাগরের ইলিশ তুলনামূলক কম উজ্জ্বল। এছাড়া পদ্মা-মেঘনা অববাহিকার ইলিশ মাছের আকার হবে পটলের মতো অর্থাৎ মাথা আর লেজ সরু আর পেটটা মোটা হতে হবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমারসহ নানা-দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত পদ্মার ইলিশ। পদ্মার ইলিশের এই ব্যাপক খ্যাতির কী কারণ? ড. আনিসুর রহমান বলেছেন, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ইলিশ যে ধরণের খাবার খায় ইলিশ এবং পানির প্রবাহের যে মাত্রা তার ফলে এর শরীরে উৎপন্ন হওয়া চর্বিই এর স্বাদকে অতুলনীয় করে তোলে। যা অন্য যেকোনো জায়গার ইলিশের চেয়ে ভিন্ন।

এদিকে গুজরাটের ইলিশের প্রধান উৎস নর্মদা নদীর অভয়াশ্রয়। এই অভয়াশ্রয়টি ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এর আয়তন ৬ হাজার ৩৪৬ বর্গকিলোমিটার। গুজরাটের অভ্যন্তরীণ মৎস্য আহরণের ৩০ শতাংশই আসে এই অভয়াশ্রয় থেকে। কিন্তু নানা কারণে এটির বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য আহরণেই ভাটা পড়েছে।

আরো পড়ুন: নোবেলের জন্য মনোনীত বাংলাদেশের ড. রুহুল আবিদ

গত বছর দুর্গা পূজার ঠিক আগে উপহার হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ৫০০ টন ইলিশ পাঠাতে রাজি হয়েছিলো। তারপর প্রায় এক বছর কেটেছে, ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর দিয়ে ইলিশের রফতানি হয়নি। সেই অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। এ বছর ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই ইলিশ রফতানির সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে