বেলারুশের বিক্ষোভ দমনে পশ্চিম সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা, সর্বোচ্চ সতর্কতায় সেনাবাহিনী

বেলারুশের বিক্ষোভ দমনে পশ্চিম সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা, সর্বোচ্চ সতর্কতায় সেনাবাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩০ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোটচুরির অভিযোগে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে ইউরোপের দেশ বেলারুশে। আন্দোলনকারীদের দাবি প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগ। তবে বিক্ষোভের কাছে হার মানছেন না লুকাশেঙ্কোর। বরং টানা এই বিক্ষোভ দমনে আরো কঠোর হচ্ছেন তিনি।

সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার খবরে জানা যায়, টানা ছয় সপ্তাহ ধরে বেলারুশে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে পশ্চিমাদের উস্কানি রয়েছে বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো। এবার সেখানকার পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধই করে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, দেশটির সেনাবাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট।

গত ৯ আগস্টের বিতর্কিত নির্বাচনে টানা ২৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা লুকাশেঙ্কোকে আবারো বিপুল ভোটে বিজয়ী ঘোষণার পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বেলারুশে। বিরোধীদের দাবি, এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাচ্ছেন ইউরোপের সবশেষ স্বৈরশাসক লুকাশেঙ্কো।

জানা গেছে, সোভিয়েত আমলের পর এমন বড় বিক্ষোভ দেখলো দেশটি। লক্ষাধিক মানুষের একাধিক সমাবেশে কেঁপে উঠে মিনস্ক। নিরাপত্তা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ ও নির্বিচারে গ্রেফতার চালালেও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে বেলারুশবাসী। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তা থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন লুকাশেঙ্কো। বৃহস্পতিবার একটি উইমেন্স ফোরামে তার বক্তব্যে বিষয়টি জানা যায়।

বেলারুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, রাস্তা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। কিন্তু পশ্চিম সীমান্ত মূলত লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ডের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সেনাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন সীমান্তে সেনা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

লুকাশেঙ্কো বলেন, আমার দেশ কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ুক এটা আমি চাই না। বেলারুশ, পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া একটি সামরিক অভিযানের দিকে চলে যাক এটি আমি চাই না, যে আমাদের ইস্যুগুলোর সমাধান করবে না।

তিনি আরো বলেন, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড ও ইউক্রেনের জনগণের প্রতি আমি আহ্বান করছি, আপনাদের অতি উৎসাহী রাজনীতিবিদদের থামান, যাতে কোনো যুদ্ধ লেগে না যায়।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বেলারুশ। এর মাত্র দুই বছর পর দেশটির ক্ষমতায় আসেন লুকাশেঙ্কো। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ বছর ধরে দেশের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তিনি। তাকে বলা হয় ইউরোপের শেষ স্বৈরাচার। ভোটচুরির অভিযোগে টানা বিক্ষোভে ভিত নড়ে উঠলেও ক্ষমতায় অটল লুকাশেঙ্কো। রাশিয়ার সরাসরি সমর্থনে বিক্ষোভ দমনেও সচেষ্ট তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ