আফ্রিকায় টেলিভিশন থেকে লেখাপড়া শিখছে শিশুরা

আফ্রিকায় টেলিভিশন থেকে লেখাপড়া শিখছে শিশুরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪৬ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৩ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপে বন্ধ আফ্রিকা মহাদেশের সব স্কুল। এর ফলে লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে মহাদেশটির সব শিশুর। কিন্তু ঘরে বসেই যেনো শিশুরা লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে সেই উদ্যোগ নিয়েছে অঞ্চলটির বিভিন্ন সংস্থা। আর এর জন্যে রেডিও-টেলিভিশনকে বেছে নিয়েছে তারা।

কেনিয়ার পাঁচ বছরের শিশু মিগুয়েল মুনেনে বসার ঘরে তার বা-মার মাঝখানে বসে টিভির দিকে চেয়ে আছে। ওখানে ‘ফিশ’ শব্দটা কীভাবে উচ্চারণ করতে হয়, সেটা শেখানো হচ্ছে। স্কুল বন্ধ, তাই মিগুয়েলকে রীতিমতো সিরিয়াস মুখ করে বসতে হয় টেলিভিশনের সামনে। কার্টুন বাদ দিয়ে মনোযোগ দিয়ে দেখতে হয় টেলিভিশনে ‘ফিশ’ বা ‘মাছ’ শব্দটার সঠিক উচ্চারণ কী?

মার্চ মাসে মিগুয়েলের স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ওর স্কুল বন্ধ থাকবে। এতে করে সে ঘরে থাকার সুযোগ পাচ্ছে, কিন্তু হারিয়ে ফেলেছে তার শিক্ষক এবং ক্লাসমেটদের। এখন অনলাইনে ছাড়া লেখাপড়ার আর কোনো বিকল্প নেই ওদের জন্য। কিন্তু জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলেছে, সাব-সাহারাভুক্ত দেশগুলোতে অধিকাংশ স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই।

অবশ্য এ অবস্থার কথা ভেবেই মিগুয়েলের মতো শিশুদের লেখাপড়ার সহায়তায় এগিয়ে এসেছে তাঞ্জানিয়ার একটি অলাভজনক সংস্থা ‘উবোঙ্গো’। তারা আফ্রিকার ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে রেডিও-টেলিভিশনের মাধ্যমে লেখাপড়া শেখানোর চেষ্টা করছে।

মিগুয়েলের মা চেলেস্টাইন ওয়ানজিরু বলেন, আমাদের এসব প্রোগ্রাম শুধুই শিশুদের মজা দেয়ার জন্য। তবে উবোঙ্গো শিশুদের কিছু শেখানোর চেষ্টা করছে। মিগুয়েল এখন ইংরেজি ও সোয়াহিলি ভাষায় বেশ কিছু আকার ও রঙের পার্থক্য করতে পারছে।

সোয়াহিলি ভাষায় উবোঙ্গো মানে মগজ বা মস্তিষ্ক। উবোঙ্গোর যোগাযোগ বিষয়ক প্রধান ইমান লিপুম্বা বলেন, মার্চেই আমরা নয়টি দেশের এক কোটি ২০ লাখ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের কাজ শুরু করতে পেরেছি। আগস্টে তা ২০ দেশে এক কোটি ৭০ লাখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেশ ভালোই সাড়া পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ পর্যন্ত ৪০ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছে। ইউটিউবসহ অন্যান্য উৎস থেকে আয় করেছে ৭ লাখ ডলার। সব চেয়ে বড় কথা হলো, মিগুয়েলের মতো শিশুদের জন্য যেখানে পড়ালেখা করার আর কোনো বিকল্প নেই, সেখানে প্রধান এবং একমাত্র ভূমিকাটি পালন করছে উবোঙ্গো। কেনিয়ার শিক্ষামন্ত্রণালয় বলেছে, করোনাভাইরাস সম্পূর্ণ দূরীভূত হওয়ার আগে স্কুল খোলা হবে না। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩৬ হাজার আক্রান্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৬২০।

মিগুয়েলের বাবা প্যাট্রিক নিয়াগো বলেছেন, আপনার যদি একটা শিশু সন্তান থাকে, তাহলে এ অবস্থায় ওর লেখাপড়ার জন্য এটা অনেক বড় একটা সহায়তা। তবে নিয়াগো এও বলেন, এটা আসলে মূল শিক্ষাপ্রণালির স্থান নিতে পারে না। আমরা আশা করছি, শিগগিরই আমাদের শিশুরা স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে মিশে পড়াশোনা করতে পারবে।

সূত্র: রয়টার্স

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী