সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি, স্ত্রীকে বিয়ে দিলেন প্রেমিকের সঙ্গে

সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি, স্ত্রীকে বিয়ে দিলেন প্রেমিকের সঙ্গে

মজার খবর ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৫ ৩০ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৫:৫৭ ৩০ এপ্রিল ২০২১

স্ত্রীকে বিয়ে দিলেন প্রেমিকের সঙ্গে। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে বিয়ে দিলেন প্রেমিকের সঙ্গে। ছবি: সংগৃহীত

সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর 'হাম দিল দে চুকে সনম' সিনেমার কথা মনে আছে? তখন অনেক মানুষ ভেবেছিল যে অজয় ​দেবগন যে ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, এমন ভূমিকা বাস্তবের জীবনে দেখা যায় না, কারণ কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে তার প্রেমিকের সঙ্গে চলে যেতে দিতে পারেন না। 

ছবিটি প্রকাশের ২২ বছর পর ভেঙে যায় সেই ধারণা। গত ২২ বছর পরে ভারতের বিহারের ভাগলপুর জেলার সুলতানগঞ্জ শহরে সিনেমাটির বাস্তব জীবন সংস্করণ দেখা গেল। সম্প্রতি একজন ব্যক্তি তার সাত বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে স্ত্রীকে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিলেন। যে গল্পে কিছুটা হলেও হাম দিল দে চুকে সনম সিনেমারই ঝলক দেখা দিল।

হাত তুলে আশীর্বাদ করেন তাদের সুখী জীবনের জন্যজানা যায়, বিহারের খাগরিয়া জেলার বাসিন্দা স্বপ্না কুমারী ২০১৪ সালে সুলতানগঞ্জের উত্তম মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসার জীবন সুখ শান্তিতে কাটছিল। তাদের সংসারে দুই সন্তানও আছে। হঠাৎ করে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। একদিন উত্তমের স্ত্রীর সঙ্গে ওই গ্রামেরই অল্প বয়সী এক আত্মীয় রাজু কুমারের দেখা হয়। এরপর ওই যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন উত্তমের স্ত্রী স্বপ্না কুমারী। আর এই ঘটনা কিছু দিনের মধ্যেই উত্তম জানতে পারেন। যদিও এত দিনের বিবাহিত স্ত্রীর সম্পর্কে এ কথা শোনার পর উত্তম প্রথমে বিশ্বাস করতে পারে না। তারপরে সবকিছু নিজের চোখে দেখে হতবাক হন এবং দুমড়ে-মুচড়ে যান।

প্রথম দিকে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে অশান্তি হয়। উত্তমের বাড়ির লোকেরাও স্বপ্নাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। অবশ্য তাতে কোনো কাজ হয় না। স্বপ্নার মনকে তো আর বেঁধে রাখা যায় না। অবশেষে সেই ভাঙনের যন্ত্রণা সামলে উঠে উত্তম মণ্ডল ঠিক করেন স্ত্রীকে তার প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেবেন। সম্প্রতি উত্তম নিকটবর্তী দুর্গা মন্দিরে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বপ্না এবং রাজুর বিয়ে দেন পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে। তিনি তাদের দুই হাত তুলে আশীর্বাদ করেন তাদের সুখী জীবনের জন্য। তবে বিয়ের মূহুর্তে নিজেকে সামলাতে না পেরে অঝোরে কেঁদে ফেলেন উত্তম মণ্ডল। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ