কিডনিতে পাথর জমার লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

কিডনিতে পাথর জমার লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৬ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে কিডনি বা বৃক্কে পাথর জমার সমস্যায় এখন অনেকেই ভোগেন।

কিডনিতে পাথর জমার প্রাথমিক লক্ষণগুলি নির্ভর করে পাথর কিডনির কোথায় এবং কী ভাবে রয়েছে। কিডনিতে পাথরের আকার-আকৃতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাথরের আকার যদি খুব ছোট হয় তাহলে দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও কোনো ধরনের ব্যথা অনুভূত হয়। তাই কিডনিতে যে পাথর জমেছে তা টেরও পাওয়া যায় না।

কিডনিতে পাথর হওয়ার উপসর্গ:

>>> সাধারণত ওপরের পেটে অথবা নিচের পিঠের ডানে বা বাঁয়ে মৃদু ব্যথা হতে পারে। পাথর যদি প্রস্রাবের নালিতে নেমে আসে তাহলে ওপরের পেট-পিঠ থেকে কুঁচকির দিকে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। প্রস্রাবে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।

>>> কিছু খেলেই বমি বমিভাব- কিডনিতে পাথর জমার লক্ষণ হতে পারে।

>>> কিডনিতে সমস্যা হলে জ্বর আসতে পারে।

>>> শরীরের নানা জায়গা ও বিশেষ করে মুখ অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়াকে আমরা খুব একটা পাত্তা দিই না। তবে এসবই কিডনিতে গোলমালের লক্ষণ বহন করে।

>>> লাল প্রস্রাব বা প্রস্রাবে হালকা রক্ত যাওয়া কিডনিতে পাথর জমার আরেকটি লক্ষণ। আপনার প্রস্রাবের রঙ যদি গোলাপি বা লালচে হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

এগুলোর সবগুলোই যে একজনের মধ্যে দেখা দেবে তা কিন্তু নয়। একেকজনের উপসর্গ একেকভাবে দেখা দেয়। এটা পাথরের আকৃতি এবং কিডনির কোন স্থানে জমেছে তার উপর নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথরের কোনো লক্ষণ না–ও থাকতে পারে। পাথর খুব ছোট হলে সেটি কোনো ব্যথা-বেদনা ছাড়াই দীর্ঘদিন পর্যন্ত শরীরে থাকতে পারে। ফলে টের পাওয়া যায় না। অথচ পাথর থাকলে কিডনির ক্ষতি হয়। তাই কোনো ধরনের অস্বস্তিবোধ করলে চেকআপ করানো উচিত।

প্রতিরোধের উপায়

নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করা কিডনি পাথর প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রস্রাব আটকে বা চেপে রাখবেন না। পাশাপাশি কয়েকটি খাবার নিজের খাদ্যতালিকায় রাখলে কিডনিতে পাথর হওয়া থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

>>> ধনিয়া পাতার রস শরীর থেকে টক্সিনকে বের করে দিতে বিশেষ সাহায্য করে। এটি প্রোটিন ও ভিটামিন সি-এ সমৃদ্ধ, যা কিডনিতে পাথর হওয়া থেকে মুক্তি দেয়। এটি কাঁচা বা রস করে খেতে পারেন।

>>> তুলসী পাতার অনেক গুণ। নানা ধরনের রোগের অব্যর্থ ওষুধ তুলসী। তুলসীর রস ও মধু নিয়মিত খেলে কিডনির পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

>>> কিডনির পাথরকে দূর করতে উপকারী বেদানার রস।

>>> শিমের খোসা সিদ্ধ করে সেই পানি রসের মতো করে খেলে কিডনির উপকার হয়। কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ