স্বাস্থ্য দি‌ব‌সে জানুন সুস্থ থাকার উপায়

আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস

স্বাস্থ্য দি‌ব‌সে জানুন সুস্থ থাকার উপায়

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:০০ ৭ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১১:৫৪ ৭ এপ্রিল ২০২১

সুস্থ্য থাকার ঘরোয়া উপায়। ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ্য থাকার ঘরোয়া উপায়। ছবি: সংগৃহীত

আমাদের মধ্যে কেউই অসুস্থ হতে চায় না। কারণ অসুস্থতা মানেই ঝামেলা এবং খরচের ব্যাপার। অসুস্থ হলে যে শুধু খারাপ লাগে তা-ই নয়। এর ফলে একজন ব্যক্তি উপার্জন করতে পারেন না অথবা নিজ পরিবারের দেখাশোনাও করতে পারেন না।

উপরন্তু সেই ব্যক্তির দেখাশোনা করার জন্য আরেকজন লোকের প্রয়োজন হয় এবং তাকে হয়তো দামি দামি ওষুধ কেনার অথবা চিকিৎসা করানোর জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়।

এটা ঠিক যে, কিছু কিছু রোগ এড়ানো যায় না। তবে সহজেই অসুস্থ না হওয়ার অথবা অসুস্থতা রোধ করার জন্য আপনি অনেক কিছু করতে পারেন। তার জন্য রয়েছে কয়েকটি স্বাস্থ্য সম্মত টিপস, তাতে করে সুস্থ জীবন যেমন লাভ করা যায়, তেমনই মনও থাকে সতেজ ও ফুরফুরে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কে-

মন খুলে বেশি করে হাসা

মন খুলে বেশি করে হাসা
হাসি একটি খুব ভালো ব্যায়াম বা ওষুধ বলা যেতে পারে শরীর ও মনের সুস্বাস্থ্যের জন্য। লোক মুখে মন খুলে জোড়ে জোড়ে হাসলে হৃদয় ভালো থাকে।

ডাঃ জেমস গিল বলছেন, মানুষের উচিত খুশি থাকার চেষ্টা করা। তা হলে সুস্থ থাকবে শরীরও। তার জন্য তিনি বেশি বেশি করে হাসার পরামর্শ দিয়েছেন। 

নানান রকম ফল-সবজি খেতে হবে

নানান রকম ফল-সবজি খেতে হবে লন্ডন কিংস কলেজের গবেষক ডাঃ মেগান রসির মতে, কেবলমাত্র বেশি বেশি করে সবজি ও ফল ইত্যাদি খেলেই হবে না। তার মধ্যে আনতে হবে রকমফের। অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফলমূল খেতে হবে। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে সব ধরণ মিলিয়ে যদি কম করে ৩০ রকমের সবজি ও ফল খাওয়া যায় তবে তা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।


পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়াসারা দিন উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যেমন দরকার, তেমনই দরকার পরিমাণ মতো বিশুদ্ধ পানীয় পানি পান করাও। কারণ পানীয় পানি শুধু যে তেষ্টা মেটায় তাই নয়। শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখে। শরীরের অন্তরীণ পানির চাহিদা পূরণ করে সঙ্গে আরো একাধিক কাজ করে গোটা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে পানি। ফলে পরিমাণ মতো পানি খাওয়াটা খুবই দরকার।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম
বর্তমান পরিস্থিতিতে সময়ের বড়ো অভাব। ফলে ঘুমের সময় কাটছাঁট কম বেশি সকলেরই হয়। তবে একটা কথা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেমালুম। আমরা ভুলে যাই যে, শরীর একটি যন্ত্রের মতো। তাই তাকে যেমন কাজ করানো যায়, তেমনই দরকার তার বিশ্রামও। তার থেকেও বেশি ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না। বিশ্রাম দেয় মাথাকেও। 

ফলে এই বিশ্রাম শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি বিষয়। তাই প্রত্যেক মানুষের প্রতিদিন রাতে কমপক্ষে আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানো আবশ্যক। কারণ তা না হলে ঘুমের ঘাটতি দেখা যায়। শরীরকে দুর্বল করে। তাই পরিমাণ মতো ঘুমালে শরীরকে সার্বিকভাবে বিশ্রাম দেয়, নতুন উদ্যম গড়ে ওঠে, ক্লান্তি বোধ দূর হয়। পাশাপাশি সব ঠিক থাকলে শরীরে অসুখের উপদ্রবও কম হয়।

এক্সেটার ইউনিভার্সিটির স্পোর্ট অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ডাঃ গেভিন বাকিংহামের মতে, ঘুম কম হলে মানুষের কগনিটিভ ফাংশন বা নতুন জিনিস শেখার ক্ষমতা কমে যায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও কমে যায়, মনে দ্বিধা দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।

পোষ্য রাখা যেতে পারে

পোষ্য রাখা যেতে পারে
আবেরিস্টওয়াইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক ডাঃ রিস থেচারের মতে, জিম যাওয়া সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে বাড়িতে যদি পোষ্য কুকুর থাকে তা হলে খুবই উপকার হয়। কারণ হিসাবে তিনি বলছেন, কুকুরকে যদি দিনে দুইবার অন্তত ৩০ মিনিট করে হাঁটাতে হয় তা হলে বাধ্য হয়েই নিজেকেও হাঁটতে হবে ওই সময়টা। ফলে নিজের জন্য আলাদা করে সময় বের করতে না পারা বা কোনো কোনো দিন হাঁটা বন্ধ যাওয়ার আর ভয় থাকে না। এভাবেই রোজকার হাঁটার কাজটা হয়ে যায়।

নিজের মনের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেয়া

নিজের মনের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দেয়া
খাবার, জল, ঘুমের পর যে বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হয় তা হলো নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেয়া। অনেকেই আছেন পারিপার্শ্বিকের চাপে নিজের মনের ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখে। ভালো লাগা, খারাপ লাগাকে দাবিয়ে রেখে ভেতরে ভেতরে গুমরে থাকে। তবে একটি জরুরি কথা কী মনের মধ্যে নিজের সাধ, ইচ্ছা ইত্যাদিকে চেপে রেখে আর যাই হোক শারীরিক আর মানসিক ভাবে সুস্থ থাকা যায় না। তাই নিজেকে নিজের ইচ্ছাকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। শরীর সুস্থ রাখতে কোলেস্টেরল সম্পর্কে সচেতন হন। দূরে রাখুন এই রোগগুলো।

ব্রিটেনের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ও এক্সারসাইজ বিষয়ক শিক্ষক ডাঃ নেডাইন স্যামির মতে, নিজেদের মনের ওপরে বিশেষ খেয়াল রাখা দরকার। আত্মসচেতনতা বাড়িয়ে মনের ওপরে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো সম্ভব। এই আত্মসচেতনতা এমন এক বিষয় যা মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও ইচ্ছা, অনিচ্ছা ইত্যাদিকে অনেক ভালোভাবে চিনতে সাহায্য করে। এই চেনার মাধ্যমে নিজের অনুভূতিকে চেনা যায়। মনের দুর্বলতাকে কাটিয়ে ওঠা যায়। যা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে স্বাস্থ্যর উন্নতিতে প্রভাব ফেলে।   

ব্যায়াম করা

ব্যায়াম করা
শরীর সুস্থ রাখতে অবশ্যই নিয়ম করে হাঁটা বা ব্যায়াম করা যেতে পারে। যদি সম্ভব হয় জিমও করা যেতে পারে। এ ছাড়া নিয়ম করে মর্নিংওয়াক বা ইভিনিংওয়াক তো আছেই। এই কাজগুলো শরীরকে সচল করে। এতে করে বাড়তি মেদ জমে শরীরকে অসুস্থ হওয়ার থেকে রক্ষা করা যায়। তাই কম করে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট এই কাজ করতে পারলে খুবই ভালো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএ