লিভার সুস্থ আছে কিনা বুঝবেন যেভাবে

লিভার সুস্থ আছে কিনা বুঝবেন যেভাবে

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২১ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

লিভার সুস্থ আছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?

লিভার সুস্থ আছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?

একজন মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য লিভার সুস্থ থাকা জরুরি। মানবদেহের অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে লিভার বা যকৃত হলো বৃহত্তম এবং ভারি অঙ্গ। রক্তে রাসায়নিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করাই লিভারের প্রধান কাজ। এছাড়া এটি শরীরে বাইল নামের এক ধরণের পদার্থও বহন করে যা কিনা যকৃত থেকে সব ধরণের বিষাক্ত বর্জ্য দূর করতে সাহায্য করে।

পেট ও অন্ত্র থেকে যে রক্ত ​​বের হয় তা যকৃতের মধ্য দিয়েই পরিবাহিত হয়। লিভার এই রক্তকে প্রক্রিয়াকরণ করে এবং শরীরের বাকি অংশের জন্য পুষ্টির যোগান দেয়। এই কারণেই একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য সবার আগে তার লিভার সুস্থ থাকা প্রয়োজন।

যদি লিভার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় তবে বিষাক্ত পদার্থগুলো বর্জ্য হয়ে আর বের হয়ে আসতে পারবে না, সেখানেই থেকে যাবে। আর এতে শরীরে গুরুতর কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি কারো লিভারে কোনো সমস্যা দেখা দেয় তখন সেটি ধীরে ধীরে অকার্যকর হতে শুরু করে। রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস পায়। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। আপনার লিভার ব্যর্থ হলে আপনার মস্তিষ্কও ফুলে যেতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন আপনার লিভার সুস্থ আছে কিনা বা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে কিনা? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক এই বিষয়ে বিস্তারিত-

যদি  শরীরে কিছু লক্ষণ দেখতে পান তাহলে ধরে নিতে পারেন যে আপনার লিভার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত এবং সেটি আপনার বর্তমান জীবনধারার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারছে না। আর সেক্ষেত্রে আপনাকে আপনার জীবনধারা পরিবর্তন করা শুরু করতে হতে পারে। তাই চলুন জেনে এন্যা যাক লক্ষণগুলো-

রক্তে চিনির পরিমাণ কমে যাবে

লিভারের প্রধান দায়িত্ব হল রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখা। যদি আপনার যকৃত গুরুতরভাবে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। খাবার খাওয়ার পর লিভার আপনার শরীরে গ্লুকোজ উৎপন্ন করে এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ করে। কিন্তু যদি আপনার রক্তের মধ্যে গ্লুকোজ উৎপন্ন করার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে আপনার শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস পেতে শুরু করবে। ত্রুটিযুক্ত লিভার রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় যা অত্যন্ত ক্লান্তি সৃষ্টি করে।

শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

আপনার লিভার আপনার লিঙ্গের হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। আপনার লিভার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে, এটি টেসটোসটাইন এবং ইস্ট্রজেন মাত্রার ভারসাম্যহীনতা তৈরী করতে পারে। এটি তখন গুরুতর পিএমএস সিমটমস এবং লো লিবিডোও এর মত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

আরো পড়ুন: লাল নাকি সবুজ, কোন রঙের ক্যাপসিকাম বেশি উপকারী?

অপ্রত্যাশিত মানসিক অস্থিরতা

আপনার লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে, এটি তখন রক্তকে সঠিকভাবে ফিল্টার করতে পারে না। আর তখন টক্সিন পুরো শরীর জুড়ে ঘুরপাক খেতে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, জীবাণু আপনার মস্তিষ্কে পৌছে যেতে পারে। আর এটি যখন ঘটে তখন আপনার স্মৃতিভ্রম হতে শুরু করে, মনের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। অনেকক্ষেত্রে উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা গুরুতরভাবে যকৃতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই যদি আপনি আপনার মেজাজে অযাচিত  কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করেন এবং স্মৃতিভ্রম হতে শুরু করে, তাহলে দ্রুত একজন পেশাদার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া

লিভার শরীরের জন্য যে পুষ্টি সরবরাহ করে তা সংক্রমণের সঙ্গে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। এটি বিষক্রিয়াগত সংক্রমণ প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে। যদি আপনার লিভার তা করতে না পারে, তাহলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে ।

ঘুমের সমস্যা

অনেককেই দেখা যায় ঘুমের মধ্যে প্রচণ্ড নাক ডাকেন। কখনো কি ভেবে দেখেছেন এই নাক ডাকার পেছনে আসল কারণ কি? এর প্রধান কারণ হলো আপনি যে নাসিকা দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাসের চেষ্টা করছেন সেটি বন্ধ হয়ে গেছে এবং যার ফলে আপনি এখন নাক ডাকছেন। আপনার নাসিকা ২ থেকে ৩ মিনিটের জন্য ব্লক হয়ে যেতে পারে। আর এক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই ডাক্তারের কাছে গিয়ে আপনার লিভার পরীক্ষা করানো উচিত।

লিভার সুস্থ রাখার উপায়

খাবার তালিকায় ফল এবং সবজি যোগ করতে শুরু করুন। সঠিকভাবে কাজ করার জন্য লিভারের ভিটামিন এবং খনিজ প্রয়োজন। ফল এবং সবজি ছাড়া এমন কোন খাদ্য নেই যাতে এত বেশি ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খান।

নিয়মিত অত্যাধিক পরিমাণে অ্যালকোহল পান করার ফলেও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অ্যালকোহল পান করার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। যকৃতকে অ্যালকোহল দিয়ে ওভারলোডিং করা খুব মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এই ক্ষতি অপূরণীয়। তাই এখনই অ্যালকোহল পান করা কমিয়ে দিন। নিজে থেকে অ্যালকোহল পান থেকে সরে না আসতে পারলে প্রয়োজনে পেশাদার ডাক্তারের সরণাপন্ন হোন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ